মেইন ম্যেনু

বাঁশখালীতে উদ্ভট কথা বলে মানুষের জীবন নেওয়া হলো: প্রধানমন্ত্রী (ভিডিও)

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা সম্পর্কে তিনি বলেন, কিছু উদ্ভট চিন্তাভাবনা আছে। এগুলো কোথা থেকে আসে জানি না। উদ্ভট কথা বলে অযথা কতগুলো মানুষের জীবন পর্যন্ত নিয়ে নেওয়া হলো। এটা দুঃখজনক।

রোববার কেরানীগঞ্জে নবনির্মিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার উদ্বোধন করার পর এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, কারাগারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। এ প্রসঙ্গে বাঁশখালীর পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, আজকাল বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গেলেই একদল পরিবেশ রক্ষার নামে আন্দোলনে নামে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প করতেই দেবে না। দিনাজপুরে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। ওই এলাকায় কোনো ক্ষতি হয়নি। জমির উর্বরতা বেড়েছে। ধান হচ্ছে। গাছ হচ্ছে। কিছু উদ্ভট চিন্তাভাবনা এ দেশের মানুষের আছে। এগুলো কোথা থেকে আসা জানি না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অক্সফোর্ডসহ সারা বিশ্বে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই সিমেন্ট কারখানায় ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বলা হয়ে থাকে অ্যাসিডবৃষ্টি হবে। এগুলো কোথা থেকে আসে জানি না।

শেখ হাসিনা বলেন, দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সরকার মানুষকে স্বস্তি দিয়েছে। তাতে বাধা দিতেই এ ধরনের চেষ্টা করা হয়।

কয়লাবাহী কার্গো ডুবে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, একদল বলল, পানি নাকি দূষিত হয়ে গেছে। এটা কতটা বিজ্ঞানসম্মত জানি না। কারণ, ছোটবেলা থেকে দেখেছি, বাসার পানির ফিল্টারে কয়লা দেওয়া পাত্র ছিল। সেখান থেকে কয়েক স্তরে গিয়ে পানি বিশুদ্ধ হতো। গ্রামেও এ ধরনের ফিল্টার আমরা দিয়ে থাকি। কয়লা পানিকে বিশুদ্ধ করে।

কেরানীগঞ্জ কারাগার দ্রুত নির্মিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। ছোটবেলার কথা মনে করে তিনি বলেন, কারাগারের সঙ্গে তাঁদের একটা সম্পর্কই হয়ে গেছে। কারণ, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে তাঁদের অসংখ্যবার কারাগারে আসতে হয়েছে। স্কুল, কলেজ শেষে কারাগারে থাকা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে ছুটে গেছেন। সে সময় ১৫ দিনে এক দিন তাঁরা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেতেন।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবনের মূল্যবান সময়টা কারাগারে ছিলেন। একটানা দুই বছর তিনি কখনো কারাগারের বাইরে থাকেননি।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, মানুষের কল্যাণ করতে গিয়ে জাতির পিতাকে সারা জীবন জেল-জুলুম, অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। জাতীয় চার নেতাকে কারাগারেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী নিজের কারাজীবনের কথাও স্মরণ করেন। বলেন, জেনারেল এরশাদের সময় মিন্টো রোডে সাবজেলে ছিলাম। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সংসদে একটি ভবনে সাবজেলে বন্দী করে রাখা হয়।

অপরাধীদের অপরাধপ্রবণতা থেকে কীভাবে বের করে আনা যায়, সরকার সেই চেষ্টা করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ জন্য বন্দীদের ভালো পরিবেশ দরকার। কারাগার শুধু বন্দিখানা নয়, অপরাধীদের যাতে সংশোধন করা যায়, সে পদক্ষেপ নিতে হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা উদাহরণ দিয়ে বলেন, ছিঁচকে চোর ধরা পড়ার পর কারাগারে এসে বড় চোরদের সঙ্গে মিশে পাকা চোর হিসেবে বের হয়। এটা বন্ধ করতে হবে। এ জন্য কারাগারে যারা বন্দী থাকবে, তাদের নানাভাবে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কারাগারে নিজেদের প্রয়োজনের জিনিস বন্দীরাই উৎপাদন করবে। সেগুলো বাজারজাত করার ব্যবস্থাও করতে হবে। বন্দীরা যা কাজ করবে, সে জন্য মজুরি পাবে। তা জমা থাকবে। প্রয়োজনে তার পরিবারকে যাতে পাঠাতে পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।

কেরানীগঞ্জে নবনির্মিত কারাগারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে প্রচুর জায়গা। উৎপাদমুখী বিভিন্ন খাতে এই জায়গা কাজে লাগানো যায়।

কেরানীগঞ্জ অবহেলিত ছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতু নির্মাণ করে দিয়েছি। কেরানীগঞ্জ এখন আধুনিক জায়গা হিসেবে গড়ে উঠছে। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। পদ্মা সেতু হলে আরও উন্নত হবে।

কারাগারে বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন করতে সোলার প্যানেল করা অপরিহার্য, বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যেকোনো স্থাপনায় যেন সোলার প্যানেল থাকে। কারাগারে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য জলাধার আছে। সোলার প্যানেলেরও ব্যবস্থা করতে হবে।

কারারক্ষী ও কারা কর্মকর্তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টাও চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। কারাগারে কর্মরত ও বন্দীদের জন্য কেরানীগঞ্জে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে বলেও তিনি জানান। সেখানে ২০০ থেকে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল করার কথা বলেন। এই হাসপাতালে কারাবন্দী নয়, কেরানীগঞ্জবাসীও যাতে চিকিৎসা নিতে পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।

বন্দীদের মানসিক অবস্থা বিবেচনায় এনে শেখ হাসিনা বলেন, চুরি করে এখানে সবাই মুঠোফোন ব্যবহার করে। কারাগারে পাবলিক টেলিফোনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। বন্দীরা মাসে একবার যাতে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে তারা মানসিকভাবে স্বস্তি পাবে।

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। স্বাধীনতার সুফল বাংলার প্রতিটি মানুষের ঘরে পৌঁছে দিতে চাই।






মন্তব্য চালু নেই