মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশসহ ৪ দেশের বর্জন, স্থগিত হচ্ছে সার্ক সম্মেলন

বাংলাদেশ, ভারত, আফগানিস্তান ও ভুটান ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে আগামী ৯ ও ১০ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ১৯তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হয়ে যাচ্ছে। ভারত মঙ্গলবার বিবৃতি দিয়ে সার্ক সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা দেয়ার পর পাকিস্তান তাৎক্ষণিকভাবে এক প্রতিক্রিয়ায় ভারতের এ সিদ্ধান্তকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছে।

জানা গেছে, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সেনা ব্রিগেডে হামলার ঘটনায় নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের টানাপোড়েনের জেরে পাকিস্তানে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কের শীর্ষ সম্মেলনে যাচ্ছে না ভারত। আর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ইস্যুতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের অব্যাহত হস্তক্ষেপ এবং তা নিয়ে কূটনীতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ঢাকা এ সম্মেলন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সদস্য রাষ্ট্র আফগানিস্তান ও ভুটানও সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে না। সার্ক সনদ অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার আট-জাতির আঞ্চলিক জোটের কোনো সদস্য দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান না গেলে শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হয়ে যায়। পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়ে আজকের মধ্যে এই সম্মেলন স্থগিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র মঙ্গলবার রাতে জানায়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সার্ক সম্মেলনে যোগদান না করার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই সার্কের বর্তমান চেয়ার নেপালকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সার্কের একটি সদস্য রাষ্ট্র অব্যাহতভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সম্মেলনে যোগদান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিকদের জানান, দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ‘ব্যস্ততার’ জন?্য এবার সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যাওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশের।

সম্প্রতি ভারত শাসিত কাশ্মীরে সেনা ঘাঁটিতে হামলার পর নয়াদিল্লি পাকিস্তানকে এর জন্য দায়ী করে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনেও এ নিয়ে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তেজনা ছড়ায়। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করে বলেছে যে, একটি সদস্য রাষ্ট্র আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলা এবং অন্য সদস্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি করার কারণে ভারত সার্ক সম্মেলন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারত তার এই সিদ্ধান্ত সার্কের বর্তমান চেয়ার নেপালকে জানিয়ে দিয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ, ভারত, আফগানিস্তান ও ভুটান সার্ক সম্মেলন বর্জনের এ সিদ্ধান্তের ফলে ১৯তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা বলছেন, পাকিস্তান খুব তাড়াতাড়ি এ সম্মেলন স্থগিত করার ঘোষণা দেবে।

সার্ক সম্মেলন স্থগিত হওয়া কোনো নজীরবিহীন ঘটনা নয়। ইতিপূর্বে ছয়বার নানা কারণে সার্ক সম্মেলন স্থগিত হয়েছে। এখন পাকিস্তানকে সদস্য দেশগুলোর সম্মতি নিয়ে সার্ক সম্মেলনের নতুন তারিখ ঘোষণা করতে হবে। কাশ্মীর ইস্যুকে ঘিরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থানের কারণে এই সম্মেলন যে স্থগিত হতে যাচ্ছে সেটা আগেই ধারণা করা হচ্ছিল। এখন ভারতের বর্জনের ঘোষণার পর তা নিশ্চিত হল। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ মঙ্গলবার তার দফতরে এক প্রশ্নের জবাবে সার্ক সম্মেলনে ভারতের যোগ না দেয়ার তথ্য জানান। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এটি উল্লেখ করা হয়েছে। বিকাশ স্বরূপ এক প্রশ্নের জবাবে তার টুইটে বলেন, সার্কের সভাপতি দেশ নেপালকে ভারত জানিয়েছে এ অঞ্চলে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে যাওয়ায় এবং সদস্য দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একটি দেশের হস্তক্ষেপ বেড়ে যাওয়ায় এমন এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে, যা নভেম্বরে ইসলামাবাদে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের জন্য সহায়ক নয়। আঞ্চলিক সহযোগিতা, কানেকটিভিটি ও যোগাযোগের ব্যাপারে ভারত তার অঙ্গীকারের ব্যাপারে অবিচল আছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়া সম্ভব নয়। বিকাশ স্বরূপ আরও বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি সার্কের আরও কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যেই সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে ইতিমধ্যেই তাদের আপত্তির কথা জানিয়ে দিয়েছে।’

এদিকে ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভি ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছে, আফগানিস্তান, ভুটানও সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আফগানিস্তান পাকিস্তানের প্রতি ক্ষোভের কথা জানিয়ে সার্ক সম্মেলন বর্জনের ব্যাপারে আগেই অভিমত ব্যক্ত করেছিল। দিল্লিতে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত শাহিদা মোহাম্মদ আবদালি ২০ সেপ্টেম্বর স্পষ্ট করে বলেছেন, এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে মিলিতভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা যেটা ভাবছি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যরা একই কথা ভাবছে। একটি দেশ দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত করবে আমরা এটা হতে দিতে পারি না।

অন্যদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসির জাকারিয়া তার টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, সার্ক সম্মেলনে যোগ না দেয়ার ব্যাপারে ভারতের মুখপাত্রের টুইট তারা দেখেছেন। তবে এ ব্যাপারে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানকে কিছু জানায়নি। ভারতের এই ঘোষণাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি। নাসির জাকারিয়া আরও লিখেছেন, পাকিস্তান শান্তি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা এই অঞ্চলের জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করে যাব।’।






মন্তব্য চালু নেই