মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশের অনেক স্থানে আজই ঈদ

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শুক্রবার পিরোজপুরের চাঁদপুর, পটুয়াখালী, সাতক্ষীরা, ভোলা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, পিরোজপুর, মুন্সীগঞ্জ, বরিশাল, লালমনিরহাটসহ দেশের কয়েকটি স্থানে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে।

চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উদযাপন করে মুসলমানরা। আর চাঁদ দেখা সাপেক্ষে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পরই মূলত আমাদের দেশে পালন করা হয় ঈদ। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কোনো কোনো পীরের অনুসারীরা সৌদি আরবকে তীর্থভূমি মনে করে তাদের সঙ্গে একই দিন ঈদ পালন করে থাকে।

চাঁদপুর
চাঁদপুরে অর্ধশত গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে শুক্রবার উদযাপন করা হবে ঈদুল ফিতর। মধ্যপ্রাচ্য তথা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এসব গ্রামে ঈদ উদযাপন হয়ে আসছে শতবছর ধরে।

এ জেলায় হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলীপুর, বলাখাল, মনিহার, ভোলাচোঁ, জাক্নি, প্রতাপপুর, সোনাচোঁ ও বাসারা; ফরিদগঞ্জ উপজেলার উভারামপুর, উটতলি, মূলপাড়া, বদরপর, মুন্সিরহাঁট, আইটপাড়া, বালুথুবা, কাইতাপাড়া, সুরঙ্গচর, নূরপুর, ষোলা, সাচনমেঘ, হাঁসা ও গোবিন্দপুর; মতলবের দশানী, মোহনপুর, পাঁচানী ও শাহরাস্তি এবং কচুয়ার কয়েকটি গ্রামে শুক্রবার ঈদ উদযাপিত হবে।

১৯২৮ সাল থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পীর আল্লামা ইসহাক এ এলাকায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন শুরু করেন।

চট্টগ্রাম
একদিন আগেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৩০টি গ্রামে শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হবে। সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফের মুরিদরা সৌদি আরবের সাথে সঙ্গতি রেখে অন্যান্য বছরের মতো এবারো আগাম ঈদ পালন করবে। তারা একদিন আগে থেকে রোজা রাখাও শুরু করেন।

ইতোমধ্যে ঈদের নামাজ আদায়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দরবার শরীফ কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার সকাল ৯টায় মির্জাখীল দরবারের মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরর নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। দরবার শরীফের পীর হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আরেফুল হাইয়ের ছেলে নামাজে ইমামতি করবেন।

চট্টগ্রাম ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা মির্জাখীল দরবারের অনেক মুরিদ ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য ইতোমধ্যে দরবার শরীফে চলে এসেছেন।

দরবার শরীফ সূত্র মতে, সাতকানিয়ার মির্জাখীল, গাটিয়াডেঙ্গা, পশ্চিম বাজালিয়া, মাদার্শা, চন্দনাইশের কাঞ্চননগর, হারালা, বাইনজুরি, কানাই মাদারি, সাতবাড়িয়া, বরকল, দোহাজারী, জামিরজুরি, বাঁশখালীর কালিপুর, চাম্বল, শেখের খীল, ডোংরা, ছনুয়া, আনোয়ারার বরুমছড়া, তৈলারদ্বীপ, লোহাগাড়ার পুটিবিলা, কলাউজান, বড়হাতিয়া, পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, সন্দ্বীপ, রাউজান, ফটিকছড়ির কিছু এলাকাসহ চট্টগ্রামের ত্রিশটি গ্রামের মানুষ শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে।

এছাড়াও বান্দরবানের লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, কক্সবাজারের চকরিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও হ্নীলার বেশ কয়েকটি গ্রামের কিছু লোক একই সময়ে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবে।

বরিশাল
বরিশাল বিভাগের প্রায় ২০ হাজার পরিবার শুক্রবার ঈদ উদযাপন করবে। এসব পরিবার চট্টগ্রামের চন্দনাইশ কাঞ্চননগর পশ্চিম এলাহাবাদ জাহাগীরিয়া শাহ্সুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের অনুসারী।

ভোলা
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার চারটি, তজুমদ্দিনের তিনটি, লালমোহনের দু’টি ও চরফ্যাশনের একটিসহ মোট ১০ গ্রামে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সুরেশ্বর দরবার এবং সাতকানিয়া পীরের মুরিদ এসব মানুষ প্রতি বছরই সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেন।

মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আনন্দপুর, শিলই, নায়েবকান্দি, আধারা, মিজিকান্দি, কালিরচর ও বাঘাইকান্দির একাংশসহ সাত গ্রামে শুক্রবার ঈদ উদযাপন করা হবে। শিলই ঈদগাঁহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে ঈদের নামাজ। এরা সবাই বিভিন্ন পীরের মুরিদান।

লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দ্রাহবি মৌজার হাড়িশ্বরের মুন্সিপাড়া, চন্দ্রপুরের বালাপাড়া ও পানি খাওয়ার ঘাট গ্রামে আলাদাভাবে শুক্রবার পালন করা হবে ঈদুল ফিতর। কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে একই দিনে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, শবে-কদর, শবে মেরাজসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করছেন কিছু মতানুসারী।

এছাড়াও দিনাজপুরের বিভিন্ন স্থান যেমন- চিরিরবন্দর, খানসামা ও বীরগঞ্জ উপজেলায়ও শুক্রবার সকালে ঈদের জামাত হবে বলে জানা গেছে।






মন্তব্য চালু নেই