মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশের আজ ইতিহাস গড়ার দিন

বাজছে বিদায়ের রাগিণী। শেষের লড়াইয়ের অপেক্ষা শুধু। মরণপণ লড়াই! পা হড়কালেই বেদনার বিষে নীল হয়ে যেতে হবে! কিন্তু বেদনার বিষবাষ্পের স্পর্শ পেতে চায় না বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক ফাইনালের মহারণে প্রতিপক্ষকেই বরং বেদনার বিষে নীল করে দিতে চায় সৈয়দ গোলাম জিলানীর শিষ্যরা।

নীল? নীল তো ভারতের জার্সির রং! তবে কি ফাইনালের মহারণে বাংলাদেশের কাছে আরেকবার হেরে বেদনায় নীল হতে হবে, এটা জানে বিথান সিংয়ের দল! কিন্তু বিথান সিং তো চান ‘প্রতিশোধ’! গ্রুপে হেরে যাওয়ার প্রতিশোধ কড়ায়গ-ায় ফাইনালে নিতে চান তিনি। তাহলে? কেহ নাহি ছাড়ে হাল! তবে যুদ্ধ হোক! কিশোর ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রেষ্ঠত্বের যুদ্ধ!

হ্যাঁ, আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে এক ফুটবল যুদ্ধই তো হতে যাচ্ছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে শিরোপার লড়াইয়ে বাংলাদেশ মাঠে নামছে আজ।

সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে ধাপে ধাপে এগোতে চেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ধাপে শ্রীলঙ্কা ও ভারতকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া, তারপর সেমিফাইনালের গন্ডি পেরিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালের মহারণে পা রাখা, উভয়ক্ষেত্রেই সফল হয়েছে অদম্য বাংলাদেশ।

এবার একেবারে শেষ ধাপে দাঁড়িয়ে জিলানীর শিষ্যরা। এই ধাপই তো সবচেয়ে কঠিন, সবচেয়ে আবেগের, সবচেয়ে উঁচুতে ওঠার হাতছানির। ফাইনালের এই মরণপণ লড়াইয়ে ভারতকে আবারো উড়িয়ে-গুড়িয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা স্বপ্ন যদি পূরণ হয় বাংলাদেশের, তবে রচিত হবে নতুন ইতিহাস!

যে ইতিহাসে লেখা থাকবে, ‘দক্ষিণ এশিয়ার কিশোর ফুটবলারদের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে সবচেয়ে মর্যাদার আসনে ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট আসীন হয় বাংলাদেশ’!

এটা সত্য, বাংলাদেশের দামাল কিশোরেরা ইতিমধ্যেই অনন্য এক ইতিহাস রচনা করে বসেছে। সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার সেই গর্বের ইতিহাসের কারিগর শাওন, সাদ, নিপুরা। কিন্তু ফাইনালে জিতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি যদি উঁচিয়ে ধরা না যায়, তবে যে ‘অপূর্ণ’ থেকে যাবে ইতিহাস!

তাহলে? লড়াই হোক! সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করে প্রতিপক্ষকে দুমড়েমুচড়ে দেয়ার লড়াই! যে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত সৈয়দ গোলাম জিলানীর অদম্য শিষ্যরা।

বাংলাদেশ দলের কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানী যেমনটি বলছিলেন, ‘ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে চেয়েছি আমরা। তাতে সফলও হয়েছি। এবার শেষ ধাপের সামনে, কঠিনতর ধাপের সামনে দাঁড়িয়ে আমরা। চ্যাম্পিয়ন হওয়াই আমাদের লক্ষ্য। সেরাটা খেলে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিজেদের করে নিতে ছেলেরা প্রস্তুত।’

বাংলাদেশ দলপতি শাওন হোসেনের কন্ঠেও একই সুর, একই তাল, ‘আমরা প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে উত্তীর্ণ হয়েছি। গ্রুপ পর্বে ভারতকে হারিয়েছি। দর্শক আমাদের, মাঠ আমাদের এগুলো সবই আমাদের জন্য প্রেরণা জোগাচ্ছে। আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’

এদিকে ভারতও রণে প্রস্তুত! তাদের ভাবনায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি আছে ‘প্রতিশোধ’র স্পৃহা! বাংলাদেশের কাছে হেরে গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি ভারতের। তাছাড়া বাংলাদেশ যে দুর্দান্ত খেলে তাদেরকে পরাজিত করে দেবে, সেটাই ভাবেনি ভারত! কিন্তু তাদেরকে বাস্তবের ধাক্কায় কুপোকাত করেছে সাদ, খলিল ভুইঁয়া, ফয়সলরা।

এজন্যই প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলছেন ভারতের কোচ বিথান সিং, ‘বাংলাদেশ খুব ভালো দল। তারা আমাদেরকে গ্রুপ পর্বে হারিয়েছে। গ্রুপ পর্বে তাদের কাছে হারের বদলা চাই আমরা।’

বাংলাদেশের প্রশংসা করার পাশাপাশি হুমকিটাও দিয়ে রাখলেন বিথান সিং, ‘বাংলাদেশকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু আমরাও প্রস্তুত। আমরা পরিকল্পনা ঠিক করে নিয়েছি।’ কিন্তু পরিকল্পনাটা কি, তা ‘গোপন’ বলে মুখে কুলুপ এঁটে দিলেন বিথান। অর্থাৎ, ফুটবলের এক জমাটি যুদ্ধই হবে আজ সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে!






মন্তব্য চালু নেই