মেইন ম্যেনু

‘বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় যাওয়ার শঙ্কা নেই’

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিংয়ের মিউচুয়্যাল ইভালুয়েশনের খসড়া প্রতিবেদনে কয়েকটি বিষয়ে লো ক্যাটাগরি দেওয়া হলেও তাতে বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় যাওয়ার কোনো শঙ্কা নেই।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এপিজির খসড়া প্রতিবেদন নিয়ে মূল্যায়ন কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান এম. নজিবুর রহমান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা কয়েকটি বিষয়ে লো ক্যাটাগরি পেয়েছি। এ লো ক্যাটাগরি পাওয়ার পেছনে ইনফরমেশন গ্যাপ দায়ী। এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। খুব শিগগির এ সমস্যা দূর হবে।

এপিজি ১১টি ইমিডিয়েট আউটকামের (আইও) একটিতে সাবস্টেনশিয়াল, ছয়টিতে মডারেট এবং চারটিতে লো লেভেল রেটিং দিয়েছে।

এগুলো বাংলাদেশের রেটিংয়ে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং (এপিজি) মিউচুয়্যাল ইভালুয়েশনের খসড়া প্রতিবেদনে আমরা কয়েকটিতে সাবস্টেনশিয়াল পেলেও সবমিলিয়ে আমাদের অবস্থা ভালোই আছে। আমাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে, কয়েকটিতে এপিজি লো ক্যাটাগরি দিয়েছে। লো ক্যাটাগরি নিয়ে আমরা কাজ করছি। এগুলো দুই-একটা আছে।

যে কয়েকটিতে বাংলাদেশ লো ক্যাটাগরি পেয়েছে তার জন্য তিনি ইনফরমেশন গ্যাপকে দায়ী করেন। মন্ত্রী বলেন, লো ক্যাটাগরি হয়েছে মূলত ইনফরমেশন গ্যাপের জন্য। আমরা অনেক কিছু করেছি। কিন্তু তারা তা জানে না। তাই যেসব ক্ষেত্রে ইনফরমেশন গ্যাপ আছে, সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি।

বাংলাদেশ যদি এপিজির রেটিংয়ে উন্নতি করতে না পারে তাহলে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় যাওয়ার কোনো আশঙ্কা আছে কি না? এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, যেসব বিষয়ে আমরা সাবস্টেনশিয়াল ক্যাটাগরি পেয়েছি, সেগুলো নিয়ে কিছু কাজ করার আছে। সাবস্টেনশিয়াল থেকে কিছু বিষয়ে মডারেটে যাওয়ার দরকার আছে। আইন নিয়ে আমাদের আরো কাজ করতে হবে। তবে যেহেতু আমরা কাজ করে যাচ্ছি, তাই ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

এপিজির খসড়া প্রতিবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, গাইডলাইন না থাকা এবং সম্পদের অপ্রতুলতার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অর্থমন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ, তারা তাদের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে একটি মন্তব্য করেছে। কিন্তু আমরা তাদের মন্তব্যের সাথে একমত নই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের মধ্যে কোনো সমন্বয়হীনতা নেই।

মানি লন্ডারিং মামলার ব্যাপারেও উষ্মা প্রকাশ করেছে এপিজি। এ ব্যাপারেও এপিজির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে মন্ত্রী বলেন, মানি লন্ডারিং মামলায়ও আমরা ভালো করছি। শাস্তি হচ্ছে, অর্থদণ্ড হচ্ছে। ওরা মানি লন্ডারিং মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে যা বলেছে তা নিয়েও আমরা একমত নই। এ ব্যাপারে আমরা ওদের সঙ্গে কথা বলব।

স্বর্ণপাচার রোধে গোয়েন্দারা ভালো কাজ করছে, জানিয়ে তিনি বলেন, স্বর্ণপাচার রোধে ভিজিল্যান্সগুলো খুব ভালো কাজ করছে। এখন স্বর্ণপাচার, চোরাচালান অনেক কমে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির বিষয়ে ফিলিপাইনে একটি শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে ওখানকার রাজনীতিবিদদের উদ্যোগ নেওয়ার কথা রয়েছে। ওরা যদি শুনানি করে, তাহলে আমরা নিশ্চয়ই সেখানে উপস্থিত থাকব। বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

তিনি বলেন, ফিলিপাইনে যে টাকাটা গেছে, সেটা ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া অনেক দীর্ঘ। টাকা ফেরত পেতে আইনি লড়াই করতে হবে। সেজন্য আমাদের কোর্টে যেতে হবে। কোর্ট যদি আমাদের পক্ষে রায় দেয় তাহলেই আমরা টাকা পাব। তাই এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।






মন্তব্য চালু নেই