মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের অসন্তোষ

দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েথ অফিস (এফসিও) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করেছে।

এফসিওর ওয়েবসাইটে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে বাংলাদেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে দ্বন্দ্ব জিইয়ে আছে। ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাসে সাংঘর্ষিক অবস্থা, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার, বিএনপি নেতৃত্বাধীন অবরোধ এবং বার বার হরতাল (শ্রমিক ধর্মঘট) দেশের জনগণের নিরাপত্তা ও জীবনজীবিকা ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। তবে ৩০ ডিসেম্বর শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক দলীয়ভাবে প্রথম পৌরসভা নির্বাচন ইতিবাচক পরিবর্তন।

২০১৫ সালে মুক্তমনা লেখক ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং মত প্রকাশের ওপর চাপ সৃষ্টির বিষয়গুলো প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়টিকে সংকটাপন্ন বলে অভিহিত করা হয়েছে। ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচন কীভাবে অংশগ্রহণমূলক করা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে সব দলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এফসিও বৈশ্বিক মানবাধিকার নিয়ে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনের ভূমিকায় যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামড মানবাধিকার নিয়ে তার দেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বার্থে এবং বৈশ্বিক উন্নয়নের জন্য মানবাধিকারকে ব্রিটিশ সরকার সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে বৈশ্বিক মানবাধিকার পর্যালোচনা করা হয়েছে। এগুলো হলো- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন, স্থিতিশীল বিশ্বের জন্য মানবাধিকার এবং আইনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ।

পর্যালোচনায় ৩০টি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

তিন মূলনীতির ওপর বৈশ্বিক মূল্যায়ন করা হলেও সংশ্লিষ্ট দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি, মানবাধিকারের পথে বাধা এবং তা পরিবর্তনে যুক্তরাজ্যের প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা – এ তিন বিষয়ের ওপর দেশভিত্তিক মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা ৩০টি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পরিবর্তনেই নয়, এ বিষয়ে অন্যান্য দেশের জন্য কাজ করবে যুক্তরাজ্য।

মিয়ানমার, সৌদি আরব, বাহরাইন, বুরুন্ডি, লিবিয়া, ইরিত্রিয়া, মিশর, সিরিয়া, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র, ইরাক, ইরান, ফিলিস্তিন, কঙ্গো, কলোম্বিয়া, সুদান, দক্ষিণ সুদান, রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, ভেনেজুয়েলা, ইয়েমেন ও জিম্বাবুয়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি অগ্রাধিকার তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে।

২০১৫ সালে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এফসিও। তবে এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের মানবাধিকারবিষয়ক পরামর্শ ও প্রকল্প কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিষয়টি এ সরকারের সময়ে মানবাধিকার নিয়ে যুক্তরাজ্যের কাজের অগ্রগতিতে সহায়ক হবে।

২০১৬ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে কী কী করা যেতে পারে, তারও উল্লেখ করা হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই