মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশে প্রিন্সেস মাশরুম উৎপাদনে সফল জাবি গবেষক

শাহিনুর রহমান শাহিন, জাবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশে ‘প্রিন্সেস মাশরুম’ উৎপাদনে প্রথমবারের মতো সফল হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বাবিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের পিএইচডি গবেষক ও সফল মাশরুম উদ্যোক্তা ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। প্রিন্সেস মাশরুমের বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাগারিকাস বেন্টজি মুরিল। সুস্বাদু ও ঔষধী গুণ সম্পন্ন মাশরুমটি সারাবিশ্বে সমাদৃত একটি মূল্যবান মাশরুম। প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধী উপকরণ হিসেবে খাদ্য তালিকায় সারাবিশ্বে এটি মূল্যবান মাশরুম হিসেবে বিবেচ্য। আমাদের দেশে এই মাশরুম উৎপাদনের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান গবেষক আনোয়ার হোসেন।

গবেষক ড. আনোয়ার জানান, ‘তিন বছর যাবৎ গবেষণা করে তিনি এই মাশরুমের আশাব্যাঞ্জক ফলন লাভ করেন। অপরিণত অবস্থায়ই এটির চাহিদা বেশী। পরিনত অবস্থায় এটি ছত্রাকার। তবে এই অবস্থায়ও এটিকে ব্যাঙের ছাতা বলে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা যাবেনা। কেননা পরিণত অবস্থায়ও এটি পৃথিবীব্যাপী বাজারজাত হয়।’

মাশরুমটি মোটামুটি ক্যালরি মুক্ত এবং দেহ গঠনের জন্য উপযোগী উন্নত মানের প্রোটিন, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-ডি, পামিটরেনিক এসিড, লিনোলিক এসিড এবং আরগোস্টেরল সমন্বয়ের এক বিশুদ্ধ অর্গানিক পণ্য। এতে প্রচুর মিনারেল, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সেলেনিয়াম এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে। মাশরুমটি বিটা-ডি গন্টুকান টিউমার এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে। কেমোথেরাপী গ্রহণের সময় এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মাশরুমটি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থুলতা কমানো, হেপাটাইটিস রোগের প্রতিষেধক হিসেবে ভূমিকা রাখে। এজন্য ব্রাজিল, জাপান, চীন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়াতে এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়।

ঔষধী গূণসম্পন্ন মাশরুমটির উৎপাদন একটু কষ্টকর হওয়ায় বিশ্ববাজারে এটি অত্যন্ত উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। মাশরুমটি চাষের জন্য একটি নির্দিষ্ট আবহাওয়া দরকার হয় এবং অক্টোবর থেকে এপ্রিল এটি জন্মানো সম্ভব। রাতে নি¤œ তাপমাত্রা এবং দিনে অপেক্ষাকৃত বেশী তাপমাত্রা এই মাশরুম উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এটি উৎপাদনের জন্য মান সম্মত কম্পোস্ট উৎপাদনের প্রয়োজন পড়ে। মাশরুমটি চাষের জন্য ধান বা গমের খড়ে এক হাজার কেজি কম্পোষ্ট তৈরী করতে হয়। বাণিজ্যিকভাবে মাশরুমটি উৎপাদনে বিশাল স্থাপনা, মূল্যবান যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত জনশক্তি ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন হয়। অল্প পরিসরে মাশরুম চাষীরা তিনশত কে.জি. কম্পোষ্ট তৈরি করে মাশরুমটি উৎপাদন করে।

মাশরুম গবেষক এবং উৎপাদক ড. তাকাতোসি ফোরোমুটো ১৯৬০ সালে ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্যে এটির সর্বপ্রথম কৃত্রিম উৎপাদনে সফল হন। তিনি ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ১৯৬৫ সালে মাশরুমটিকে জাপানে পাঠান। জাপানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেখানে মাশরুমটির নাম দেওয়া হয় হাইমেতাতসুতাকে, যার অর্থ প্রিন্সেস মাশরুম।

জানা যায়, ‘মাশরুমটিকে বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন নামে চেনে। ব্রাজিলিয়ান মাশরুম বলে এর ব্যাপক পরিচিতি আছে। এছাড়া আঞ্চলিক ভাবে ব্রাজিলে এটিকে বলা হয় ‘কগমেলু ডে ডেউস’ যার অর্থ ¯্রস্টাার মাশরুম। পৃথিবীর অনেক দেশে এটি রয়েল সান এগারিক্স বলে পরিচিত। কেউবা শুধু ঔষধী মাশরুম নামে চেনে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মাশরুমটি কাঁচ-শুকনা, পাউডার এবং ক্যাপসুল আকারে সমান জনপ্রিয়। মাশরুমটি আমাদের দেশে লম্বা সময় ধরে চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। মাশরুমটি উৎপাদনে আরো গবেষনার প্রয়োজন আছে।᾽






মন্তব্য চালু নেই