মেইন ম্যেনু

সার্টিফিকেট ও মার্কশিট বিতরণে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কেন্দ্রে আগে ঘুষ পরে কাজ

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কেন্দ্রে বিভিন্ন কোর্সের শিক্ষার্থীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও মার্কশিট বিতরণ নিয়ে চলছে ঘুষ বাণিজ্য। প্রতিটি বিষয়ে সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে শিক্ষার্থীদের বাড়তি পাঁচশত টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এছাড়া সময়-সুযোগে বুঝে নেয়া হয় দুই হাজার টাকাও।

অফিস প্রধানের জ্ঞাতেই উক্ত টাকা গ্রহণ করেন নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুর রহমান ও আব্দুস সালাম। সাম্প্রতি সাতক্ষীরা ‘ল’ কলেজে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের এলএলবি ১ম পর্ব কোর্সে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা ভর্তির প্রয়োজনে সার্টিফিকেট তোলার জন্য উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রে গেলে সেখানকার নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুর রহমান ও আব্দুস সালাম সার্টিফিকেট প্রতি এসব টাকা দাবি করেন। নিজেদের প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে উক্ত টাকা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। দির্ঘদিন ধরে এ অফিসে এভাবেই চলছে সার্টিফিকেট বাণিজ্য।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি এসএসসিতে (১ম ও ২য় বর্ষ) চার হাজার চারশ ২৫ টাকা, এইসএসসিতে (১ম ও ২য় বর্ষ) পাঁচ হাজার ২৫ টাকা এবং ডিগ্রী (৬ সেমিস্টার) ১৪ হাজার তিনশ ২৫ টাকা। বর্তমানে জেলা তিন বিভাগ মিয়ে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা থেকে ২০১৩ সালে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ২৭২৭ জন শিক্ষার্থী। যার মধ্যে ডিগ্রী একটি কেন্দ্র ১১২জন, এইচএসসি তিন টি কেন্দ্রে ৩৩২জন এবং এসএসটি ছয়টি কেন্দ্রে ২৮৩জন। জেলা বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পাশ করেলও সকল পরীক্ষার্থীর সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয় সাতক্ষীরা উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র থেকে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বাবদ এসব টাকার বাইরেও বিভিন্নভাবে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। সর্বশেষ পরীক্ষায় পাশের পর মার্কশিট ও সনদপত্র তুলতে হলে এক হাজার টাকা থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয় নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুর রহমান ও আব্দুস সালাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, আমি এখান থেকে ডিগ্রী পাশ করার পর সনদপত্র আনতে গেলে আমার কাছ থেকে এক হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। বাউবি’র সাতক্ষীরা উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুর রহমান ও আব্দুস সালাম এসব টাকা গ্রহণ করেন। টাকা না দিলে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। বর্তমানে এ অফিসের আওতায় ছয়টি পদ রয়েছে। একজন উপ-আঞ্চললিক পরিচালক, একজন উচ্চমান সহকারী, একজন নিম্নমান সহকারী এবং তিন জন নিরাপত্তা প্রহরী। উপ-আঞ্চললিক পরিচালক ইব্রাহিম খলিল নিরাপত্তা প্রহরী দিয়ে অফিসের দাপ্তরিক কাজ করানোর কথা স্বীকার করে সাংবাদিক আব্দুর রহমানকে বলেন, নিরাপত্তা প্রহরীদের কাজ কম থাকায় তারা অফিসের কাজের সহায়তা করে।

এসব বিষয়ে নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুর রহমান বলেন, কাউকে এখানে পড়তে বাধ্য করা হয়নি। তবে এখানে পড়তে হলে এসব খরচের টাকা দিতে হবে। এছাড়া সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোনে তার পদবি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখানে কি পদে আছি সেটা বলা যাবেনা। প্রয়োজন হলে আপনি অফিসে আসেন।

এসব বিষয়ে সাতক্ষীরা উপ-আঞ্চলিক পরিচালক ইব্রাহিম খলিল বলেন, শিক্ষার্থীদের সকল টাকা ব্যাংক রশিদের মাধ্যমে নেয়া হয়। তবে অনেক সময় দেখা যায় শিক্ষার্থীরা ব্যাংকে টাকা জমা না দিয়ে সরাসরি অফিসে চলে আসে। সে ক্ষেত্রে দেখা যায় যারা টাকা ব্যাংকে টাকা জমা দেয় তাদের কিছু ভ্যান-ভাড়া শিক্ষার্থীরা দিয়ে যায়। এর চেয়ে বাড়তি কোন টাকা নেয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই।






মন্তব্য চালু নেই