মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লোপাটের দিনপঞ্জি

নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার পর ঘটনার তদন্তে গত সপ্তাহে ফিলিপাইনের ব্লু রিবন কমিটির শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন রিজাল ব্যাংক কমার্সিয়াল ব্যাংকের (আরসিবিসি) মাকাতি শহর শাখার ব্যাবস্থাপক মায়া সান্তোস-দেগুইতো। অর্থ লোপাটের এ ঘটনার পরবর্তী শুনানি ২৯ মার্চ। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত শুনানিতে অর্থ লোপাটের ঘটনার যে সব তথ্য উঠে এসেছে সোমবার ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে তার বিস্তারিত উল্লেখ করেছে। এতে কবে থেকে অর্থ লোপাট করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তার একটি টাইমলাইন দেওয়া হয়েছে।

২০১৫ সালের ১৫ মে

রিজাল ব্যাংকের মাকাতি শহর শাখায় চারটি ভুয়া অ্যাকউন্ট খোলা হয়।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি

৯৫১ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট পেমেন্টের ৩৫ টি নির্দেশনা দিয়েছিল। এগুলোর মধ্যে মাত্র চারটি নির্দেশনায় রিজাল ব্যাংকে ৮১ মিলিয়ন ডলার প্রদান করা হয়। এছাড়া শ্রীলংকার প্যান এশিয়া ব্যাংকিং করপোরেশনে ২০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল। তবে উপকারভোগীর তথ্যের অভাবে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ বাকী ৩০টি নির্দেশনা প্রতিপালন করেনি।

৫ ফেব্রুয়ারি

বাংলাদেশ ব্যাংকে সাধারণতঃ সারারাত জুড়ে সুইফট ফিনান্সিয়াল ট্রান্সফারের কাগজগুলো প্রিন্ট হয়ে যায়। কিন্তু ৫ ফেব্রুয়ারি প্রিন্টারের ট্রে টা ছিলো পুরোপুরি শূন্য। বিষয়টি দেখতে পেয়ে ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা সকালে দেখতে পেয়ে কাগজগুলো প্রিন্ট দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সুইফট সিস্টেম থেকে মেসেজগুলো সেদিন কোনোভাবেই প্রিন্ট করতে পারেননি তিনি। প্রিন্টারের সমস্যা সমাধানের কথা তিনি সহকর্মীদের জানান।

একই দিন ফিলিপাইনে রিজাল ব্যাংকের মাকাতি শাখায় ‘উইলিয়াম গো’র নামে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। জেসি ক্রিস্টোফার লাগরোয়াস নাম ব্যবহার করে এক ব্যক্তি রিজাল ব্যাংক থেকে ২২ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার তুলে নেন। পরবর্তীতে ওই অর্থ রিজাল ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক দেগুইতোর ব্যক্তিগত গাড়িতে বাক্সে ভর্তি করে তোলা হয়।

৬ ফেব্রুয়ারি

বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা দেখতে পান, সুইফট সিস্টেমের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সফটওয়্যারটি কাজ করছে না। সেটা রিস্টার্ট করতেই ভেসে উঠে, একটি ফাইল হারিয়ে গেছে বা পরিবর্তিত হয়েছে। দুপুর ১২টা ৩০ নাগাদ আবার হুদা এবং তার টিম নতুন করে সুইফট টার্মিনাল চালু করতে সক্ষম হন। কিন্তু তখনও সেটাতে অটোমেটিক প্রিন্ট হচ্ছিলো না। ম্যানুয়ালি প্রিন্ট করতে হয়েছে।

৮ ফেব্রুয়ারি

সুইফট সিস্টেমে যোগাযোগ আবার শুরু হয়। পরে ব্যাংক কর্মকর্তারা দেখতে পান, সেখানে চারটি আনঅথরাইজ সুইফট মেসেজ পাঠানো হয়েছে, যাতে ১০১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায় পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। রিজাল ব্যাংকে চারটি মেসেজের মধ্যে দিয়ে ৮১ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করা হয়। শ্রীলংকার প্যান এশিয়া ব্যাংকে ২০ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয় একবারে। বাকি ৮৫০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়।

এরপরই সুইফট সিস্টেমের মধ্যে দিয়ে ফেডারেল রিজার্ভকে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংক, ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক মেলন, সিটিগ্রুপ ইনক, ওয়েলস ফার্গো অ্যান্ড কোং এবং শ্রীলংকার প্যান এশিয়ান ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তর না করার জন্য বার্তা দেওয়া হয়।

৯ ফেব্রুয়ারি

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭ টা ৪৫ মিনিটে রিজাল ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চারটি সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। তবে ততক্ষনণে ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে ৫৮ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার। অ্যাকাউন্টে পড়েছিল মাত্র ৬৮ হাজার ৩০৫ ডলার। এই অর্থ উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছিলেন শাখা ব্যবস্থাপক দেগুইতো।

১১ ফেব্রুয়ারি

ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আমান্ডো তেতাংচোকে ফোন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান। অর্থ লোপাটের বিষয়ে তিনি ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষের সাহায্য চান।






মন্তব্য চালু নেই