মেইন ম্যেনু

বাঘের থাবায় ক্ষতবিক্ষত পৌর মেয়র

শেরপুরের শ্রীবর্দী পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আবু সাঈদ পাহাড়ি চিতা বাঘের কামড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। এসময় মেয়রকে উদ্ধার করতে গিয়ে নাদের (৫০) ও আজিজুল (৪৫) নামে দুইজন আহত হয়েছেন। পরে জনতার রোষানলে পড়লে স্থানীয়রা হিংস্র বাঘটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। এসময় হাজার হাজার উৎসুক জনতা বাঘটি দেখার জন্য ভিড় জমায়। আহত মেয়রকে প্রথমে শ্রীবরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসেন তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। আজ বুধবার সকালে উপজেলার জালকাটা মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।

বাঘের আক্রমণে আহত নাদের জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে জঙ্গল থেকে বাঘটি বেরিয়ে এসে জালকাটা মহল্লার ফকির আলীর গভীর নলকূপের ঘরে আশ্রয় নেয়। আজ বুধবার সকালে লোকজন বাঘটি দেখতে পায়। খবর পেয়ে সহস্রাধিক লোক ঘটনাস্থলে বাঘ দেখতে যায়। এসময় পৌর মেয়র লোকজনের সাথে বাঘ দেখতে গেলে মুহূর্তেই মেয়রকে আক্রমণ করে এবং মুখের ডান পাশে কামড় দিয়ে গালের মাংস উপড়ে ফেলে। পরে স্থানীয় লোকজন চিকিৎসার জন্য মেয়রকে প্রথমে শ্রীবরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে জেলা হাসপাতালে পাঠানো পাঠায়। এসময় মেয়রকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও দুজন আহত হন। এ ঘটনায় উপস্থিত ক্ষিপ্ত লোকজনের বেদম পিটুনিতে বাঘটির মৃত্যু হলে উপজেলা প্রশাসন মৃত বাঘটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, মেয়র আবু সাঈদকে হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায় তার ডান গালে ও মাথায় বাঘের কামড়ের ক্ষতটি অনেক গভীর। তাই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শ্রীবরদীর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এবিএম আব্দুর রউফ জানান, এটি মেছো প্রজাতির পুরুষ বাঘ। বাঘটি সম্ভবত পাহাড় থেকে লোকালয়ে এসে জালকাটা মহল্লার ফকির আলীর গভীর নলকূপের ঘরে আশ্রয় নেয়।

শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস আলম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সহকারী বন সংরক্ষক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, আমরা মৃত বাঘটিকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছি। বাঘটির ময়না তদন্ত শেষে অফিস কম্পাইন্ডেই কবর দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শ্রীবরদী থানায় একটি জিডি এন্ট্রি করা হবে বলেও তিনি জানান।






মন্তব্য চালু নেই