মেইন ম্যেনু

বাণিজ্য মেলায় থাকবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ৩১ দশমিক ৫৩ একর জমিতে আগামী ১ জানুয়ারি শুরু হতে যাচ্ছে ২১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত এবারের মেলায় বাংলাদেশসহ মোট ২২টি দেশ অংশ নিচ্ছে।

বিদেশিদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং মেলা প্রাঙ্গণ শঙ্কাহীন রাখতে এবারের বাণিজ্য মেলায় নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। অন্যবারের তুলনায় এবার নিরাপত্তাব্যবস্থা একটু বেশিই জোরদার করা হচ্ছে। এমনটাই জানাল রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্র। নিরাপত্তার স্বার্থে বসানো হচ্ছে সিসি ক্যামেরা। মেলার বিভিন্ন পয়েন্টে মোট ৮০টি সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া অন্যান্যবারের মতো মেলায় থাকছে পুলিশ, র‌্যাব ও আনসারের পাশাপাশি বিজিবি।

এবারের মেলায় অংশ নিতে ভারত, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, নেপাল, হংকং, জাপান, আরব আমিরাত, মরিশাস, ঘানা, মরক্কো ও ভুটান মোট ৫২টি স্টল, প্যাভিলিয়নের জন্য আবেদন করেছে।

মেলায় ১৩টি ক্যাটাগরিতে থাকছে সাধারণ প্যাভিলিয়ন, সংরক্ষিত প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, বিদেশি প্যাভিলিয়ন, সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়ন, সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন, বিদেশি মিনি প্যাভিলিয়ন, রেস্তোরাঁ, প্রিমিয়ার স্টল, বিদেশি প্রিমিয়ার স্টল, সাধারণ স্টল এবং ফুড স্টল। ইতিমধ্যে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪৯২টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলা শুরু হওয়ার দিন যত গড়াবে এই বরাদ্দের পরিমাণ বাড়তে থাকবে বলে জানা গেছে। এই বরাদ্দের পরিমাণ গত বছর ছিল ৫০৩টি।

এবারই প্রথমবারের মতো মেলায় অংশ নিচ্ছে ভারতের সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা (ইন্ডিয়ান ট্রেড প্রমোশন অর্গানাইজেশন-আইটিপিও)।

মেলার আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মতো এবারও মেলার গেট হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের মতো। মেলায় এবারও থাকছে মা ও শিশু কেন্দ্র, শিশুপার্ক, ই-পার্ক, এটিএম বুথ, রেডিমেড গার্মেন্টস, হোমটেক্স, ফেব্রিক্স পণ্য, হস্তশিল্পজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহস্থালি ও উপহার সামগ্রী, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ক্রোকারেজ, তৈজসপত্র, সিরামিক, প্লাস্টিক, পলিমার পণ্য, কসমেটিকস হার্বাল ও প্রসাধন সামগ্রী, খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, ইমিটেশন ও জুয়েলারি, নির্মাণসামগ্রী ও ফার্নিচার স্টল।

ইপিবির উপসচিব মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘এখন আমরা মেলার প্রস্তুতি নিয়ে অনেক ব্যস্ত সময় পার করছি। মেলার স্টল, প্যাভিলিয়ন নির্মাণের কাজ চলছে পুরোদমে। আশা করছি অন্যান্য বছরের মতো এবারও নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে পারব।’

এদিকে বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতির কাজ পুরোদমে চলছে। মেলার স্টলের কাঠামোর কাজ চলছে। বাকি কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ইপিবির সেক্রেটারি এবং মেলা পরিচালক মো. ইউসুফ আলী।

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মেলাকে আমরা আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা করব। মেলার প্রস্তুতি কাজের অগ্রগতি অনেক ভালো। আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। এই জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধীদের প্রবেশের জন্য এবারও থাকছে আলাদা ব্যবস্থা। রয়েছে ফোয়ারা, ওয়েব পেইজ/ই-শপ, এটিএম বুথ, ই-পার্ক, মা ও শিশু কেন্দ্র, শিশুপার্ক। নিরাপত্তাব্যবস্থাও আগের তুলনায় বেশ জোরদার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মেলার উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশি-বিদেশি ভোক্তাদের বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গে পরিচিত করা। সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদনকারীদেরকে নিত্যনতুন এবং অধিকতর মানসম্পন্ন পণ্য নিয়ে ভোক্তার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা। ক্রেতা-বিক্রেতার-উৎপাদনকারীদের প্রত্যক্ষ সংযোগ সৃষ্টি করা। উৎপাদনকারীদের মাঝে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি, পণ্যের মাঝে বৈচিত্র্য আনয়ন, পণ্যমূল্যের ভারসাম্য রক্ষা এবং উৎপাদনকারীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা। বাংলাদেশের তুলনামূলক সুবিধা সম্পর্কে বিদেশি অংশগ্রহণকারী ও পরিদর্শনকারীদের অবহিতকরণ করা। উৎপাদনকারীদের নতুন নতুন শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত করার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিতব্য বাণিজ্য মেলার মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মেলার প্যাভিলিয়ন-স্টলের কাঠামো নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। বাকি কাজও মেলা শুরু হওয়ার আগে শেষ করতে হবে বলে সেখানে কর্মরতদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। কিছু কাজ বাকি থাকলেও তা মেলা শুরু হওয়ার আগে শেষ হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করছেন তারা।

সেখানে দেখা গেছে, ইলেকট্রনিকস, ইলেকট্রিক্যাল ও অটোমোবাইল পণ্যের দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটনের তিনতলাবিশিষ্ট বড় একটি প্যাভিলিয়ন নির্মাণকাজ চলছে। সেখানে সুলভমূল্যে ও সহজেই পাওয়া যাবে ওয়ালটনের মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, জেনারেটর, মোবাইল ফোন, রুম হিটার, কেটলি, রাইস কুকার, হিটার ফ্যান, ইনডাকশন কুকার ও ওভেনসহ সব ধরনের পণ্য। এই প্যাভিলিয়নটিতে রয়েছে একটি লিফট। এ ছাড়া থাকছে একটি স্টল যেখানে হোম অ্যাপ্লায়েন্সের পণ্য পাওয়া যাবে।

ওয়ালটন গ্রুপের অপারেটিভ ডিরেক্টর (ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড পাবলিকেশনস) উদয় হাকিম বলেন, ‘আমরা সব সময় আমাদের প্যাভিলিয়নকে আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করি। যা দর্শক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। এ ছাড়া কোনো পণ্য বাজারে ছাড়ার আগে প্যাভিলিয়নে দর্শনার্থীদের জন্য তোলা হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতা হিসেবে পর পর সাতবার পুরস্কার পেয়েছি। এ ছাড়া সেরা প্যাভিলিয়নের পুরস্কারও পেয়েছি অনেকবার। এর মধ্যে পরপর তিনবার সেরা প্যাভিলিয়নের পুরস্কার পেয়েছি।’

ইপিবি সূত্র জানায়, এবার নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে ১২২ জন আবেদন করেছিল। কিন্তু প্রকৃত উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করে ৩৬টি স্টল বরাদ্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, প্রতিবছর বাণিজ্য মেলায় ভারতের প্যাভিলিয়ন থাকলেও এবারই প্রথম অংশ নিচ্ছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংস্থাটি। তাদের জন্য মেলায় ২০ হাজার বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে ইপিবি। ইতিমধ্যে ভারতের এ সরকারি সংস্থাটি মেলায় তাদের নির্মাণকাজ শুরু করেছে। মেলায় ভারত সরকার তাদের দেশের সবচেয়ে সেরা পণ্যের প্রদর্শন করবে বলে ইপিবি জানিয়েছে। তবে কী কী পণ্য প্রদর্শন করা হবে, এ বিষয়ে এখনো কিছু জানায়নি ভারত।

মেলায় ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য থাকছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত।

উল্লেখ্য, ২০ বছর ধরে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।






মন্তব্য চালু নেই