মেইন ম্যেনু

বানিয়ারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নানা সমস্যায় জর্জরিত!

জাকারিয়া শেখ, গোপালগঞ্জ থেকেঃ গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ১৭৫ নং উত্তর বানিয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক, শ্রেণীকক্ষ সংকট ও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ না হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে পরেছে বিদ্যালয় ভবনটি।

জরাজীর্ণ ভবনে দীর্ঘদিন ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ছাত্রছাত্রী, শিক্ষকমন্ডলী, স্কুল পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ১৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় গিয়ে দেখা যায়, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাস করছে।

জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ৩৩ শতাংশ জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিদ্যালয়ে জমিদাতা পারুল রানী রায় জানান, বিদ্যালয়ের নামে জমি দিলাম কিন্তু কী লাভহল? এখন বিদ্যালয় ভাঙা-চুরা অবস্থা। এর মধ্যে কী ছাত্রছাত্রীরা ক্লাস করতে পারে। প্রধান শিক্ষিকা মৌসুমী দাস বলেন, ২০১৩ সালে বিদ্যালটি সরকারি করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালটিতে ২০৬ জন ছাত্র-ছাত্রী ও চারজন শিক্ষক রয়েছেন। বার্ষিক পরীক্ষাসহ সমাপনী পরীক্ষায়ও এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করে আসছে।

নৈশপ্রহরি, দপ্তরি-তো দূরের কথা আসবাবপত্র সংকট ও বিদ্যালয়ে প্রসস্ত খেলার মাঠ না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ছাত্র অনুপাতে বিদ্যালয়টি শিক্ষক স্বল্পতাসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত ।

একটি টিনশেড দোচালা ঘর ও দুই কক্ষের একটি আধাপাকা ভবন থাকলেও তা ব্যবহারের অনুপযোগী। দুই কক্ষের আধাপাকা ভবনটি ফাটলে জর্জরিত। তারপরও বাধ্য হয়ে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মরিয়াম বলেন, সব স্কুলে খেলার মাঠ আছে।

আমাদের স্কুলে কোনো খেলার মাঠ নাই। আমাদের একটি খেলার মাঠ প্রয়োজন। এক অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ের আধাপাকা ভবন ভেঙে গিয়ে কোনো শিক্ষার্থী আহত হলে তার দায়ভার কে নিবে? বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল খালেক হাওলাদার ও প্রধান শিক্ষিকাসহ সহকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সব সমস্যার সমাধান ও অতিদ্রুত একটি পাকা ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

এব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম বিদ্যালয়টির সব সমস্যার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরকে ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য লিখিত জানানো হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই