মেইন ম্যেনু

বান্দরবানের লামায় আর্ন্তজাতিক আদিবাসী দিবস পালিত

লামায় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়েছে। জনসংহতি সমিতি(জে.এস.এস) লামা উপজেলার শাখার উদ্দ্যোগে লামা কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার মাঠে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভার পূর্বে একটি বিশাল র‌্যালী লামা পালিটোল থেকে বের হয়ে লামা বাজারের পৌর শহর প্রদক্ষিণ শেষে বৌদ্ধ বিহারে এসে সবাই মিলিত হয়। এবার দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘২০১৫-উত্তর এজেন্ডাঃ আদিবাসী জাতিসমূহের জীবনধারা উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ’।

আর্ন্তজাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির লামা শাখার আহবায়ক ও জেএসএস লামা উপজেলা শাখার সভাপতি অংগ্য মং মার্মার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, পার্বত্য জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির ভূমি বিষয়ক সম্পাদক বাবু চিংহ্লামং চাক। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, লামা মাতামুহূরী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মিঃ অংথিং রাখাইন, লামা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক অংথোয়াই হ্লা মার্মা, জেএসএস লামা উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার আসাম, জেএসএস লামা শাখার সহ-সম্পাদক চংপাত ¤্রাে, জনসংহতি আলীকদম শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বাচিংনু মার্মা, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ লামা শাখার সাধারণ সম্পাদক উথোয়াইছা মার্মা ও জেএসএস’র নাইক্ষ্যংমুখ ইউনিট কমিটির সভাপতি মেংলং ¤্রাে প্রমুখ।

আর্ন্তজাতিক আদিবাসী দিবসে বক্তারা বলেন, সরকার আমাদেরকে ক্ষুদ্র গোষ্ঠি বানিয়ে অপমান করে চলেছে। আমরা আদিবাসী সীকৃতি চাই। আমরাও মানুষ! আমাদেরকে অবহেলা করবেন না। সরকারের দৃষ্টি ভঙ্গির দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে এলাকার কতিপয় কিছু ভূমি দস্যুরা আমাদের আদিবাসীদের জায়গা জমি জবর দখল করে নিয়ে যাচ্ছে। ভূমি জবর দখলের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে লিখিত কিংবা মৌখিক বিচার নিয়ে গেলেও আমরা বিচার পাইনা। যেখানে প্রাথমিক ও কলেজ গুলোর যেই দূরবস্থা সেখানে সরকার মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সম্পূর্ণ চুক্তি বিরোধি। চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) মতামতকে উপেক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাস্তবায়ন করা যা পার্বত্য চট্টগ্রামের সংঘাতকে আরো বাড়িয়ে তুলবে এমনটাই মত প্রকাশ করেছেন সমাবেশে বক্তারা।

বক্তরা আরো বলেন, বাংলাদেশে ৪৫টি জাতিসত্তার প্রায় ৩০ লাখ আদিবাসী রয়েছে। আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে পাহাড়ী ও সমতল অঞ্চলের বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠন। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে একের পর এক কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছে তারা। সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ কমিটির কাছে তারা নিজেদের দাবি-দাওয়া পেশ করেন। স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় তারা বুক বেঁধে ছিলেন। কিন্তু আদিবাসীদের দাবি এখন পর্যন্ত এড়িয়ে চলেছে সরকার।

স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত ভূমি অধিকারের। আদিবাসী অঞ্চলে সরকারী ও বেসরকারী কোন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে আদিবাসীদের স্বাধীন মতামত গ্রহণ এবং প্রকল্পে আদিবাসীদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।






মন্তব্য চালু নেই