মেইন ম্যেনু

বালিয়াকান্দিতে ৩দিনব্যাপী “দেব খন্ড থেকে বানিয়া খন্ড” মনসা পুজা অনুষ্ঠিত

কৈলাশে মহাদেব ধ্যান করে। মাঝে মধ্যে তিনি কচুনী পাড়ায় যায়। সেখানে তিনি ভক্ত সংঘ করে। তার মাথায় চটের মধ্যে লুকিয়ে থাকে গঙ্গা দেবী। দেবশী নারদ মনি একদিন দেখতে পায়। নারদ বিদ্রোহী ভক্ত হওয়ায় মনে মনে ভাবলেন একটা ঝামেলা সৃষ্টি করার।

কৈলাশ গৃহে গিয়ে নারদ পাবর্তীর নিকট গিয়ে কুটবুদ্ধি খাটালেন। মামা সম্পর্কে মামির কাছে নানা ধরনের কথা বলেন। একথা শুনে পাবর্তী রাগান্বিত হয় শিবের উপর। চুপ করে ঘরের কোনে বসে আছে, সন্ধ্যায় যখন গৃহে ফিরে এলো, পাবর্তী, পার্বতী বলে ডাকতে লাগলো। কিন্তু পার্বতী অনুরাগে ও অহংকারে কথার জবাব দিলেন না। শিব ক্রদান্বিত হয়ে পাবর্তীকে চিৎকার করে বলল তুমি কেন আমার উপর দুব্যবহার করছো।

পার্বতী বললো চিনি তোমাকে ভালোই চিনি, তুমি একটা ভন্ড তপসী। শীব বললো আমি ভন্ড তপসী হলাম কি করে। তুমি নীতি নীতি কুচানী পাড়ায় যাও , সেখানে রঙ্গ রসে মেতে থাকো। সন্ধ্যা হলে ছাই ফর্স গায়ে মেখে ৮০ বছরের বুড়া সেজে বসে থাকো। আবার দেখি তোমার জটের মধ্যে সুন্দরী একটি রমনীও দেখতে পাই। এ নিয়ে শুরু হয় দু,জনের বাকবিতন্ডা। শীব গৃহ ত্যাগ করে চলে যান কমল বনে। কমল বনে গিয়ে দ্বাদশ বৎসর কাটান। পার্বতী একদিন কমল বনে গিয়ে দুর থেকে দেখতে পায় ধ্যানস্থ হয়ে আছে। নিষ্কাম মনব্রত ধ্যানে মগ্ন। আর্চকিত পার্বতী ওখানে কাম বিস্তার করে। কামের আকর্শনে যোগীর ধ্যান মগ্ন হয়ে যায়। কামের জ্বালায় চিৎকার করে পার্বতীকে স্মরন করে।

পার্বতী দেখা না দেওয়ায় মহাদেবের মহারথী টলে পড়ে। মহারথী নিয়ে পদ্ম ফুলের উপর রাখে। পদ্ম ফুল থেকেই পদ্মবতীর জন্ম হয়। তাই এক নাম পদ্মাবতী আরেক নাম মনসা দেবী আরেক নাম জয় বিষহরি আরেক নাম জরতকারী। চার নামে বিখ্যাত। দেব খন্ড থেকে শুরু করে বানিয়া খন্ড পর্যন্ত গানে গানে ও অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা সদর ইউনিয়নের পুর্বমৌকুড়ী গ্রামে ৩দিনব্যাপী মনসা পুজা সোমবার রাতে সম্পন্ন হয়। এ পুজা উপলক্ষে মৌকুড়ী আদিবাসী পাড়ায় বসেছে গ্রামীন মেলা। দুরদুরান্ত থেকে শত শত ভক্ত বৃন্দ প্রতিদিন অংশ গ্রহন করছেন।

মনসা মঙ্গল সম্প্রদায়ের মালিক হরিপদ সরকার জানান, ৪৬ বছর যাবৎ তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় এ গান ও অভিনয় করে আসছে। পুর্ব মৌকুড়ী গ্রামে ১০ বছর ধরে মনসা পুজা করে আসছেন। সরকারী ভাবে আর্থিক সহযোগিতা পেলে মনসা পুজাটি আরো জাকজমকপুর্ন ভাবে করতে পারবেন বলে আশা করেন।






মন্তব্য চালু নেই