মেইন ম্যেনু

বাল্যবিয়ে বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে জখম


এম.এ.আয়াত উল্যা, স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী :
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নে ভাইয়ের মেয়েকে বাল্যবিয়ে বাধা দেওয়ার জের ধরে মো. ফখরুল ইসলাম (৬১) নামের বৃদ্ধের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করেছে। ওই বৃদ্ধের আপন ছোট ভাই বেল্লাল হোসেন ও একই বাড়ীর তার সহযোগীরা হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তাকে জখম করে।

আহত ফখরুল ইসলাম বর্তমানে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শুক্রবার বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের দোয়ালিয়া গ্রামের দোয়ালিয়া বাড়িতে এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। আহত মো. ফখরুল ইসলাম উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নে দোয়ালিয়া গ্রামের দোয়ালিয়া বাড়ির মৃত মো. ইসমাঈল মিয়ার ছেলে।

সন্ধ্যায় হাসপতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত ফখরুল ইসলাম জানান, তার আপন ছোট ভাই বেল্লাল হোসেন গত ছয় মাস পূর্বে তার মেয়ে ও ছয়ানী উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী সুমী আক্তারকে বাল্য বিয়ে দেয় একই ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের আলা উদ্দিনের ছেলে রিয়াজের সাথে। তবে সুমী আক্তারের জন্ম সনদে প্রকৃত বয়স ১৩ হওয়ায় কাজী অফিস থেকে কাবিনানামা রেজিষ্ট্রার করতে পারেনি।

সেই সময় ফখরুল ইসলামও ওই বিয়ে বাধা দেন। এতে তার ভাই চরম ক্ষিপ্ত হয়ে তার উপর কয়েক দফায় হামলা চালায়। সম্প্রতি বেল্লাল হোসেন স্থানীয় কাজীর অফিসের যোগসাজশে গোপনে ওই বিয়ের কাবিননামা রেজিষ্ট্রার করে নেয়। শুক্রবার পুনরায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার দিন ধার্য করে।

এ খবর পেয়ে ফখরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে আসেন। পুনরায় এ বিয়ে বন্ধ করার জন্য ভাইকে নিষেধ করেন। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়।

এর জের ধরে শুক্রবার সকালে বেল্লাল ও একই বাড়ীর তার সহযোগী আবুল বশর, আবদুল আউয়াল, আবু তাহের, জসিম, নিজাম, শাহ আলম, মামুন, আবুল কাসেম, আলী হোসেন, জাহাঙ্গীর সহ ১০-১২ জন সন্ত্রাসী একত্রিত হয়ে ফখরুল ইসলামের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে।

এসময় পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদেরকেও মারধর করে। পরে তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে তাদের রক্ষা করেন। বর্তমানে তিনি নোয়াখালী জেনালের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনা পরপরই ছয়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন ঘটনাস্থলে আসেন। তবে তিনি পারিবারিকভাবে এ বিষয়টি সমাধান করা কথা বলে চলে যান।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ফারুক জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া আশ্বাস দেন ।






মন্তব্য চালু নেই