মেইন ম্যেনু

বাসে ইচ্ছামত ভাড়া আদায়, হাত গুটিয়ে প্রশাসন

মতিঝিল থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত বিকল্প, বসুমতি, নিউ ভিশনসহ এই রুটে চলাচলকারী সব বাস ১০ টাকার জায়গায় ভাড়া নিচ্ছে ১২ টাকা। অথচ প্রতি কিলোমিটার ১০ পয়সা বাড়ানো হলে সর্বোচ্চ এক টাকা বাড়ানোর ‍সুযোগ ছিল।

এই অবস্থা দেখে সকালে বসুমতি পরিবহণের একটি বাসে শুরু হলো যাত্রী-আর শ্রমিকদের বসচা। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায় বিরোধ। এক পর্যায়ে মৎস্য ভবন পার হওয়ার পর চালক বাস থামিয়ে গো ধরেন আর যাবেন না তিনি। এভাবে জিম্মি করে যাত্রীদেরকে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজি করায় বাস চালক। আশেপাশে পুলিশ থাকলেও তারা এগিয়ে আসেনি।

মুগদা থেকে মালিবাগ চলা তুরাগ পরিবহণে ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। পাঁচ টাকার জায়গায় আট টাকা নিচ্ছে বাস চালক ও শ্রমিকরা। অথচ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা ভাড়া বাড়ার কথা। এই হিসাবে নির্ধারিত হারের চেয়ে ছয় গুণ বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে এই রুটে।

এ নিয়ে যাত্রীরা আপত্তি করলে পরিবহণ শ্রমিকরা বলে, সরকার ভাড়া বাড়িয়েছে তাই এই হারেই এখন থেকে দিতে হবে। এ নিয়ে প্রতি ট্রিপেই ঝগড়া হচ্ছে যাত্রী ও শ্রমিকদের মধ্যে।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে একটি কৌশল নিয়েছে বাস মালিকরা। এই রুটে চলাচলকারী বাসের সংখ্যা হঠাৎ কমে গেছে। ফলে বাসের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা দ্রুত তাতে উঠার চেষ্টা করেন। এই অবস্থায় ভাড়া নিয়ে শ্রমিকদের ‘অত্যাচার’ মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাসের (সিএনজি) দাম বাড়ায় বাস ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১০ পয়সা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার। এই ভাড়া কার্যকর হয়েছে আজ। তবে এই বর্ধিত ভাড়া কেবল ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরে প্রযোজ্য হবে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস ভাড়া হবে কিলোমিটার প্রতি এক টাকা ৬০ পয়সা। তবে দূরপাল্লার বাসে কোন ভাড়া বাড়বে না।

তবে এই কিলোমিটারের হিসাব মানছে না পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা। তদারকি আর নজরদারির অভাবে ইচ্ছামত ভাড়া রাখছে তারা। বাসে বিআরটিএর দুরত্ব আর ভাড়ার চার্ট টাঙানোর কথা থাকলেও বাসে এটা একেবারেই বিরল। আবার ভাড়া আদায় করা হলেও টিকিট দিচ্ছে না শ্রমিকরা।

বসুমতি পরিবহণের ওই বাসের যাত্রীরা চার্ট কোথায় জানতে চাইলে চালকের সহকারী বলে, এটার দরকার নেই। উল্টো যাত্রীদেরকে ধমকে তিনি জানতে চান, টেলিভিশনে ভাড়া বাড়ার বিষয়টি কেন যাত্রীরা দেখেননি।

কোন কোন রুটে অবশ্য নির্ধারিত হারেই বেড়েছে ভাড়া। সদরঘাট থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত আগে ভাড়া নেয়া হতো ১২ টাকা। সেটা এবার হয়েছে ১৩ টাকা। তবে এই বাসেও কোন চার্ট টাঙানো ছিল না।

প্রতিবার ভাড়া বাড়ানোর সময় এমন বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। নানা মারপ্যাঁচে সরকারি অনুমোদনের চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় চললেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বিআরটিএ বা পুলিশ। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হলেও পরে তাও আর তাকে না আর এই বর্ধিত ভাড়াই নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকায় মিনিবাসে বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া পাঁচ টাকা এবং বড় বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া সাত টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু এখন বড় বাসে ১২ টাকার কমে যাওয়া যায় না কোথাও।ঢাকাটাইমস






মন্তব্য চালু নেই