মেইন ম্যেনু

বাস্তবেও জন্ম হয় মৎস্য কন্যাদের!

হ্যানস ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের গল্পেই তাদের ভাল লাগে। রূপকথা ছেড়ে বাস্তবে এলে সে বড়ই বেদনাদায়ক। তারা লিটল মারমেড। বা কখনও কখনও লিটল মারম্যান। চিকিৎসার পরিভাষাতে এরা সিরেনোমেলিয়া বা সাইরেনোমেলিয়ার শিকার। দেহের ঊর্ধ্বাঙ্গ সচল থাকলেও অচল নিম্নাংশ। পা দুটি জোড়া। দেখতে লাগে মাছের লেজের মতো।

অতি বিরল এই জিনগত ত্রুটি ঘটে এক লাখের মধ্যে মাত্র এক জন সদ্যোজাতর ক্ষেত্রে। গর্ভবতী মায়ের অসুস্থতার কারণেও এই জটিলতা দেখা দেয়।

চলতি বছরে কয়েক মাস আগে উত্তরপ্রদেশের সাহারনপুরে এমনই এক শিশুর জন্ম হয়। তার দেহে কোমরের নিচ থেকে পুরোটাই ছিল জোড়া‚ মাছের লেজের মতো। চিকিৎসকদের কথায়‚ হাতদুটো দেখতে লাগছিল মাছের পাখনার মতো। এতটাই বিকৃত ছিল গঠন‚ বোঝাই যায়নি সেটি পুত্র‚ না কন্যাশিশু। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে জীবিতে ছিল মাত্র দশ মিনিট।

এর পাশাপাশি বিশ্বে আরও তিন জায়গায় শোনা গেছে এই বিরল জন্মগত ত্রুটির কথা। তাদের মধ্যে একজন হল সিলোহ পেপিন। আমেরিকায় জন্মানো এই মারমেড শিশুর মৃত্যু হয় তার ১০ বছর বয়সে। একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারেও বাড়ানো যায়নি তার আয়ু।

বিশ্বে মারমেড-মানুষদের মধ্যে এখনও অবধি সবথেকে বেশিদিন জীবিত ছিলেন আমেরিকার টিফানি ইয়র্ক। ফ্লোরিডার এই বাসিন্দা বেঁচেছিলেন ২৭ বছর বয়স অবধি। তাঁকেও জীবনভর যেতে হয়েছে লাগাতার অস্ত্রোপচার প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে।

এ বার আমেরিকা মহাদেশে আর এক প্রান্তে মারমেড শিশুর কথা। দক্ষিণ আমেরিকার পেরুতে ২০০৫ সালে জন্ম হয় এক অদ্ভুতদর্শন শিশুর। তার দেহের গঠন এতটাই জটিল ছিল বোঝাই যায়নি লিঙ্গ। শেষে বেশ কয়েকদিন অপেক্ষার পরে ক্রোমোজোম টেস্টের পরে জানা যায় সে কন্যাসন্তান।

আন্দিজ পর্বতের কোলে ছোট্ট গ্রামে এক গরিব পরিবারের সন্তান ছিল সে। বাড়ির লোকের সামর্থ্য ছিল না ব্যয়বহুল চিকিৎসার। সম্ভব হয় সরকারি সহায়তায়।

শিশুটির নাম দেওয়া হয় মিলাগ্রস। স্প্যানিশ ভাষায় যার অর্থ মিরাক্যল। যদিও মুখে মুখে তার নাম হয়ে যায় মারমেড শিশু। জীবনের প্রথম ৫ বছরে মিলাগ্রসের দেহে মোট ৬ বার জটিল অস্ত্রোপচার হয়।

১১ বছর বয়সী মিলাগ্রস এখন হাঁটতে পারে। কারও সাহায্য ছাড়াই। দীর্ঘ জটিল অস্ত্রোপচারে তার পা দুটি আলাদা করতে পেরেছেন চিকিৎসকরা। ভবিষ্যতে হয়তো আরও তিন কি চারবার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। সেসব যন্ত্রণা নিয়েই জীবনকে উপভোগ করছে সে। আর পাঁচটা উচ্ছল বালিকার মতোই।






মন্তব্য চালু নেই