মেইন ম্যেনু

বাস ভাঙচুর খেলা খেলছেন ঢাবি-জাবির শিক্ষার্থীরা

পরস্পরের বাস ভাঙচুরের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা থেকে।

সম্প্রতি অধিভুক্ত হওয়া রাজধানীর সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ব্যবহার ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবে- এমন সংবাদের প্রতিবাদ জানানোর সময় টিএসসি মোড়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া করা একটি বিআরটিসি বাস ভাঙচুর করেন ঢাবির শিক্ষার্থীরা।

এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জাবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার কিছুক্ষণ পরই ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন জাবি শিক্ষার্থীরা। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসের পর অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা।

কিন্তু রোববার সকালে সাভার রুটে চলাচলকারী ক্যাম্পাস সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া করা একটি বিআরটিসি বাস ভাঙচুর করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। এ ঘটনার জেরে ঢাবিতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সেই সময় ঢাবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে নেমে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দাঁড়িয়ে থাকা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বাস ভাঙচুর করেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা।

পাল্টাপাল্টি বাস ভাঙচুর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিন্দা জানাতে দেখা গেছে দুই বিশ্ববিদ্যালয়েরই সচেতন শিক্ষার্থীদের।

অরণ্য আরিফ নামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, হার্ভার্ড আর অক্সফোর্ডের শিক্ষার্থীরা যখন গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত, ঢাবি আর জাবির গর্বিত শিক্ষার্থীরা তখন বাস ভাঙাভাঙি নিয়ে ব্যস্ত!!! জাত্যাভিমানের জয় হোক, উভয়ের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নুর আলম হিমেল লিখেছেন, ‘চলিতেছে সার্কাস…ঢাবি আর জাবি। বিষয় : জনগণের রক্ত পানি করা টাকায় কেনা বাস ভাঙাভাঙি খেলা।’

ঢাবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক এম আমজাদ আলী বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে এসব ঘটনার পেছনে কারো কোনো উদ্দেশ্য আছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই এ কাজ করাচ্ছে। ঘটনা মিটমাট হয়ে যাওয়ার পরও এ ধরনের ঘটনার কথা চিন্তা করা যায় না।’

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আরো বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ করে কেউ অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’

অধ্যাপক এম আমজাদ আলী বলেন, ‘সকালে জাহাঙ্গীরনগরের ওখানে আমাদের ডাবল ডেকার ভাঙচুর করা হয়েছে। ছাত্ররা ক্ষুব্ধ ছিল, তারা যখন এটা নিয়ে দাঁড়াল আমরা তাদের বুঝিয়েছি। বলেছি জাবি প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা যে এমন ঘটনা ঘটাবে, তা জানা ছিল না। তা ছাড়াও ওই রুটে যে বাসগুলো চলে সেগুলোর স্টাফদের আমরা ডেকেছি। তাদের কাছে জেনে যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেবে। ঢাকা জেলা প্রশাসন, অতিরিক্ত ডিআইজির সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে। তাঁরাও ব্যবস্থা নেবেন বলেছেন।’

এর আগেও বাস নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেশ কয়েকবার দ্বন্দ্বের ঘটনা ঘটেছে।






মন্তব্য চালু নেই