মেইন ম্যেনু

বাড়তি ভাড়া নেয় ৮১ শতাংশ সিএনজি

ঢাকা মহানগরীতে চলাচলরত মাত্র ৬২ শতাংশ সিএনজি চালিত অটোরিকশা চুক্তিতে যাত্রী উঠায়। মিটারে চলাচলকারী অটোরিকশার ৮১ শতাংশ বকশিস হিসেবে বাড়তি ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাবি করে। যাত্রীদের চাহিদার গন্তব্যে যেতে রাজি হয় না ৭৩ ভাগ অটোরিকশা। এছাড়া, রাত ৯টার পর এবং সকাল ৮টার আগে রাজধানীতে কোনো অটোরিকশা মিটারে চলে না।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। রোববার সমিতির পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

‘কেমন চলছে অটোরিকশা’- শিরোনামে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ উপকমিটির সদস্যরা গত ২০ থেকে ২৮ জানুয়ারি সপ্তাহব্যাপী রাজধানীর ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ স্পটে ১ হাজার ৯৩টি অটোরিকশার যাত্রী সেবার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এ জন্য পর্যবেক্ষণকালে ১ হাজার ১৬০ জন অটোরিকশা যাত্রীর সাথে কথা বলা হয় বলে সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পর্যবেক্ষণকালে প্রাইভেট অটোরিকশা ভাড়ায় যাত্রী বহন এবং ঢাকা জেলার অটোরিকশা বেআইনীভাবে ঢাকা মহানগর এলাকায় প্রবেশ করে ৩৮ শতাংশ গাড়ী মিটারবিহীনভাবে চলাচল করতে দেখা গেছে।

পর্যবেক্ষণকালে ঢাকা মহানগরীর সদরঘাট, গুলিস্তান, প্রেসক্লাব, পল্টন, কাকরাইল, দৈনিক বাংলা, মতিঝিল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, খিলগাঁও চৌরাস্তা, ফকিরাপুল, ফার্মগেট, মালিবাগ, মিরপুর-১০, ধানমন্ডি, এলিফ্যান্টরোড, শাহবাগ, বিমানবন্দর, মহাখালী এলাকা ঘুরে উপরোক্ত চিত্র দেখা গেছে।

এ সব অনিয়ম প্রতিরোধে পর্যবেক্ষণকালীন সময়ে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এসব এলাকায় বিআরটিএ বা অন্য কোনো সংস্থার তৎপরতা চোখে পড়েনি। পর্যবেক্ষণকালে যাত্রীরা অভিযোগ করেন, রাত ৯টার পর এবং সকাল ৮টার আগে রাজধানীতে কোনো অটোরিকশা মিটারে চলে না।

এর আগে গত বছরের ১ নভেম্বর সিএনজি চালিত অটোরিকশা বর্ধিত ভাড়া কার্যকর হয়। এরপর বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ উপ-কমিটির সদস্যরা ঢাকা মহানগরীতে ১ ও ২ নভেম্বর পল্টন, প্রেসক্লাব, শাহবাগ, গুলিস্তান, মতিঝিল, ফার্মগেট, মহাখালী, মিরপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর রেল ষ্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা পর্যবেক্ষণ করে।

এসব এলাকায় প্রায় ২২৫টি অটোরিকশা চালক ও ২৪৭ জন যাত্রীর সাথে কথা বলে। এতে ১৯৮টি সিএনজি অটোরিকশা মিটারে চলাচল করছে বলে চালক-যাত্রী প্রতিনিধিদল জানায়। বাকি ২৭টি অটোরিকশার ১০টিতে কোনো মিটার পাওয়া যায়নি। ১৭টি অটোরিকশা চালক বা যাত্রীর ইচ্ছায় চুক্তিতে চলাচল করতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, ১ নভেম্বর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার দিন নতুন বর্ধিত ভাড়া কার্যকর করায় ঐ দিন মিটার জটিলতাসহ নানা কারণে অর্ধেকেরও বেশি অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রাখে। এতে পরীক্ষার্থীসহ নগরীর যাত্রী সাধারণ চরম ভোগান্তিতে পড়ে। বিষয়টিও যাত্রীকল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে উঠে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মিটার চালু করে চলাচল করলেও অধিকাংশ অটোরিকশা গোপনে চুক্তিতে চলাচল করছে। সরকার নির্ধারিত বর্ধিত দৈনিক জমা ৯০০ টাকা। কিন্তু সিংহভাগ অটোরিকশা মালিকরা ইচ্ছেমত জমা আদায় করছে বলে চালকরা জানিয়েছে। ৯২ শতাংশ যাত্রীর অভিযোগ অটোরিকশা চালকরা এখনো যাত্রীদের পছন্দের গন্তব্যে যেতে রাজি হয় না।

পর্যবেক্ষণকালে আরো দেখা যায়, যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় এই বাহনের সংখ্যা কম। ফলে চালকদের ইচ্ছার কাছে যাত্রীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাই কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি ভাড়া দিয়েও গোপন চুক্তিতে যাতায়াতে বাধ্য হচ্ছে যাত্রীরা। অতিরিক্ত দৈনিক জমা ও আনুসঙ্গিক খরচের পুরোটাই যাত্রীদের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে যাত্রীরা অভিযোগে জানিয়েছেন।






মন্তব্য চালু নেই