মেইন ম্যেনু

বাড়ির ছাদে শখের বাগান

ব্যস্ত নগরী জীবনে একচিলতে সবুজের আবেশ কার না ভালো লাগে? কিন্তু গৃহসজ্জায় গাছ বা ফুলের জন্যও চাই পর্যাপ্ত জায়গা। থাকার জন্য ছোট্ট সে ফ্লাটে সব সময় জায়গা নাও থাকতে পারে। তাই ছাদই হতে পারে শখের ফুলের বাগান করার জন্য উপযুক্ত স্থান।

ফুল শুধু মাত্র সৌন্দর্য দিয়ে মুগ্ধ করে না, সঙ্গে দেয় অনাবিল প্রশান্তি। আর সেই ভালোবাসার ফুল যদি হয় নিজের হাতে লাগানো তাহলে তো কথাই নেই। শিশুদের প্রকৃতির কাছাকাছি রাখলে শিশুর চারিত্রিক বৈশিষ্টে নির্মলতার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। তাই দেখে নেয়া যাক ছাদে সুন্দর একটি বাগান করার জন্য প্রয়োজনীয় কাজের ধাপগুলো।

জায়গা নির্বাচন

সর্বপ্রথম একটি রোদ্র উজ্জ্বল জায়গা নিবার্চন করতে হবে। সেটা ছাদ কিংবা আপনার প্রিয় ব্যালকনিও হতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে, গাছ লাগানোর জায়গাটা যেন বেশি রোদ বা একদম ছায়া যুক্ত না হয়। তবে সকাল বেলার রোদটা যেন থাকে, কারণ সেটা গাছের জন্য খুব জরুরি।

টব নির্বাচন

ফুল গাছের জন্য বেশি বড় টবের প্রয়োজন হবে না। ফুল গাছের জন্য ১০ থেকে ২০ সেঃ মিঃ বা মাঝারি আকারের টব নিলেই চলবে। কিন্ত যত বড় জায়গা হবে ততই গাছ প্রসারিত হতে পারবে এবং টবে অব্যশই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

মাটি তৈরি

সবচেয়ে উত্তম মাটি হল দোঁ-আঁশ মাটি। দোঁ-আঁশ মাটিতেই ফুল বা ফলের গাছ সব চেয়ে ভালো হয়। গাছ লাগানোর আগে মাটিতে কম্পোস্ট সার বা গোবর সার দিতে হবে। টবে রাখার আগে মাটি অবশ্যই ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি নার্সারি থেকে মাটি কেনা যায়।

চারা গাছ

গাছ লাগানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল চারা গাছ বাছাই করা। যেখান থেকেই গাছ সংগ্রহ করুন না কেন অবশ্যই খেয়াল করুন চারা গাছটি সুস্থ সবল কিনা। আবার নিজেও গাছের চারা তৈরি করে নিতে পারেন।

সেচ

গাছে নিয়মিত প্রতিদিন পানি দিতে হবে। খেয়াল রাখবেন গাছের গোড়ায় যেন পানি না জমে যায়। আর সপ্তাহে এক দিন গাছের পাতায় পানি স্প্রে করতে হবে। গাছের গোড়ায় এমন ভাবে পানি দিতে হবে যেন গোড়ার মাটি না ধুয়ে যায়। তাই সম্ভব হলে ঝাঝরির মাধ্যমে পানি দিন। মাটি যেন সব সময় ভেজা থাকে।

সার

গাছে সার দিতে হবে খুব সাবধানে কারণ একটু এদিক ওদিক হলেই গাছ মারা যেতে পারে। একটি টবের জন্য এক মুঠো সার যথেষ্ট। গাছের গোড়া থেকে ৪ থেকে ৫ সেঃ মিঃ দূরে সার দিতে হবে। মিশ্র সার বেশি ভালো তার চেয়ে ভালো হয় যদি গোবর সার দেয়া যায়। কিন্তু গোবর সার শুকিয়ে গুঁড়ো করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে।

ফুলের সময়

আপনাকে আগে ঠিক করতে হবে যে আপনি ফুল বড় চান নাকি অনেক ফুল চান। যদি আপনি বেশি ফুল চান তাহলে গাছ যখন ২০ থেকে ২৫ সেঃ মিঃ হবে তখন থেকে গাছের আগা অল্প অল্প করে ছাঁটা শুরু করতে হবে। আর যদি বড় ফুল চান তাহলে গাছে কুঁড়ি আসার পর কিছু কুঁড়ি কেটে ফেলতে হবে।

যদি গাছ হেলে পড়ে তাহলে অবশ্যই গাছের সঙ্গে শক্ত কোনো ডাল বা কাঠি বেঁধে দিতে হবে। গাছে যদি কোনো পোকা মাকড়ের উপদ্রব হয় তাহলে আক্রান্ত পাতা, ফুল বা ডাল কেটে ফেলতে হবে। আর সম্পূর্ণ গাছে সাবান পানি স্প্রে করতে হবে। তাহলে অনেকটা পোকা মাকড় থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।






মন্তব্য চালু নেই