মেইন ম্যেনু

বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে দুই বোনকে গণধর্ষণ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় দুই কিশোরী বোনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে রাতভর গণধর্ষণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় আজ শুক্রবার দুপুরে কমলনগর থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

এর আগে ২৯ মার্চ মঙ্গলবার রাতে উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে দুই বোন গণধর্ষণের শিকার হয়।

বড় বোনকে ধর্ষণ মামলার প্রধান দুই আসামি হলো কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. খোকন ও মো. সিরাজ। ছোট বোনকে ধর্ষণ মামলার আসামিরা হলো এলাকার মো. ইউছুফ ও মো. আবদুল করিম। মামলায় অজ্ঞাত আরেকজনকে আসামি করা হয়েছে।

ধর্ষণের শিকার বড় বোন জানায়, গ্রামের মো. খোকন তাকে পছন্দ করত। ২৯ মার্চ মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে খোকন তাদের বাড়িতে যায়। রাতে তাকে ঘর থেকে বের হতে বলে। সে একা একা ঘর থেকে বের হবে না বললে ছোট বোনকে সঙ্গে আনতে বলে। দুই বোন ঘর থেকে উঠানে এলে চার-পাঁচজন বখাটে মিলে তাদের মুখ বেঁধে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ওই বাড়ির পুকুরপাড়ে রেখে রাতভর তাদের ধর্ষণ করে।

ধর্ষণের শিকার ছোট বোন বলে, ‘খোকনের চাচাতো ভাই সিরাজ আমার গলায় ধারালো ছুরি ধরে হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষক খোকন ও সিরাজের বন্ধু ইউছুফ এবং আবদুল করিমও আমাদের ওপর অত্যাচার করেছে।’

ধর্ষণের শিকার দুই কিশোরীর বিধবা মা বলেন, ‘রাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। লম্পট খোকন ও সিরাজসহ কয়েকজন মিলে আমার দুই মেয়েকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। সকালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি কলাবাগান থেকে তাদের অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করি। বিষয়টি স্থানীয় নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য আবদুর রহিম দুলাল মাঝিকে জানালে তিনি মীমাংসা করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে, মামলা না করতে বলেন। অবশেষে আমি বিচার না পেয়ে পুলিশে অভিযোগ করি।’

ধর্ষণের শিকার দুই কিশোরীর বড় ভাইসহ স্থানীয় লোকজন জানান, অভিযুক্তরা নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য আবদুর রহিম দুলাল মাঝির চাচাতো ভাই ও নিকট আত্মীয়। যে কারণে মীমাংসার নামে সময়ক্ষেপণ করে ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে অপচেষ্টা করা হয়েছে।

তবে ইউপি সদস্য আবদুর রহিম দুলাল মাঝি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। আমি ধর্ষিতাদের উপকার করতে চেষ্টা করেছি, ক্ষতি নয়।’

অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে বলে জানিয়েছেন কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির আহাম্মদ। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দুই বোন ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে দুই বোনকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। আরো কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।






মন্তব্য চালু নেই