মেইন ম্যেনু

বিআরটিসির খোঁজে

বাংলামোটর এলাকায় আধঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে দেখা মিলল বিআরটিসির একটি ডবল ডেকার বাসের। যাত্রীতে ঠাসাঠাসি। পা ফেলার জায়গা নেই। চালক গাড়ির গতিরোধ করার সঙ্গে সঙ্গে ঠেলেঠুলে দুয়েকজন নামল বাস থেকে। ‘বাপরে জানে বেঁচে গেলাম।’ বাস থেকে নেমে কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থী মৌলির খেদোক্তি। ‘উফ্! এভাবে কি চলা ফেরা করা যায়।’ পেছন থেকে চালকের সহকারী সুতো টানতেই টুং টাং ঘণ্টা বেজে ওঠে। চলতে শুরু করে গাড়ি। কিন্তু তখনও জনা পাঁচেক যাত্রী হুড়োহুড়ি করছে কোনোমতে বাসের পেছনে ঢোকার পথে পা ফেলতে। ‘যাত্রী পইড়া গেল, ভাই একটু ভেতরে চাপ দেন। চাপেন, চাপেন। ওস্তাদ বাড়ান, বাড়ান।’ চালক সহকারী খেঁকিয়ে ওঠে। তিনজন সফল হলেও, বাকি দুজন দৌড়ে সুবিধা করতে পারেননি। কিছুদূর গিয়ে ঠিকই নেমে যেতে হয়েছে। আবার অপেক্ষা নতুন কোনো যাত্রী পরিবহনের। এটি নিত্যদিনের নাগরিক জীবন আর যাত্রী পরিবহনের খ-চিত্র মাত্র।
দুই.
কল্যাণপুর বাস ডিপো। বিআরটিসির বাসগুলো দিন শেষে রাখা হয় এখানে। ডিপোর এক পাশে চলাচলের উপযোগী বাস। অন্য পাশে বিকল বাসগুলো দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি। গা ঘেঁষে উঠেছে আগাছা। নিচে জমে আছে পানি। দূর থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই, চলাচলের ক্ষমতা হারিয়েছে এসব পরিবহন। গায়ের লাল রঙ এখনও চকচকে, তকতকে। আঁচড় লাগেনি কোনো। কিন্তু ডিপোর একজন কর্মী জানালেন, ‘খালি খোসা পইড়া আছে। ইঞ্জিন, টায়ার কিছুই নাই।’ নাই মানে? প্রশ্ন শুনে চটপট উত্তর। ‘খুইল্যা রাখা হইছে। বডির (বাসের কাঠামো) অবস্থা ভালো না। চায়না মাল, বেশিদিন টেকে না।’ ২০০৯-১০ থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছরে বিআরটিসির বহরে যোগ হয়েছে মোট ৯৫৯টি বাস। এর মধ্যে আছে এসি-নন এসি, একতলা, দ্বিতল, আর্টিকুলেটেড বাস। বিশেষ করে ২০০৯-২০১০ সালে নরডিক ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (এনডিএফ) আওতায় চীনের থেকে আনা বাসগুলোর অবস্থা বেহাল।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিআরটিসিই একমাত্র গণপরিবহন। নগরে পরিবহন সেবা দিতে ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে আরও গুরুত্ব পায় রাষ্ট্রীয় এই পরিবহন সংস্থা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিআরটিসির বহরে যোগ হয়েছে নিত্যনতুন পরিবহন। উন্নত বিশ্বের আধুনিক যাত্রী পরিবহনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যতটুকু সম্ভব এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বিআরটিসিকে। কিন্তু গত দুই দশকে প্রতিষ্ঠানটির আধুনিকায়নের পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতিও ধীরে ধীরে বাসা বেঁধেছে। দুষ্টে আটকে গেছে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন। পরিস্থিতি এতটাই বেসামাল হয়ে পড়েছিল যে, রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাটির নিচু থেকে উঁচু পর্যন্ত প্রায় সব জায়গাতেই ছিল না কোনো ব্যবস্থাপনা। নিয়ম অনুযায়ী ডিপোগুলোতে আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ রাখার জন্য আলাদা রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণের কথা থাকলেও নামমাত্র টালি খাতায় রাখা হতো লাখ লাখ টাকার হিসাবে। কদিন পরে এসব খাতারও কোনো হদিস থাকত না। গত বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এমন ‘ফ্রি স্টাইলে’ চলা প্রতিষ্ঠানটির মেরুদ- এতটাই ভেঙে পড়েছিল যে, এখন সোজা হয়ে দাঁড়াতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
সরকারি পরিবহন ব্যবস্থার অপ্রতুলতার সুযোগ নিচ্ছে বেসরকারি বাস মালিকরা। সরকারি আইন, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা নেই, ভাড়া আদায়ে নেই কোনো শৃঙ্খলা। নগর পরিবহনকে রীতিমতো নরকযাত্রা করে ফেলেছে তারা। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিআরটিসি যদি তার সম্ভাবনার অর্ধেকও কাজে লাগাতে পারত তাহলে নগর পরিবহনে ন্যূনতম শৃঙ্খলা ফিরত। সরকার বাস ভাড়া বাড়ানোর পর নগর পরিবহনে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে বিআরটিসির বেহাল দশার প্রসঙ্গটি আবার সামনে এসেছে।

নগর পরিবহনে নৈরাজ্য
সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস বা সিএনজির দাম বৃদ্ধির কারণে রাজধানী ও চট্টগ্রাম এবং আশপাশের জেলায় প্রতি কিলোমিটার বাস ভাড়া ১০ পয়সা বাড়িয়েছে সরকার। চলতি মাসের প্রথমদিন থেকেই কার্যকর হয়েছে বর্ধিত বাস ভাড়া। যাত্রীরা অভিযোগ করছে, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও বেশি টাকা আদায় করছে শ্রমিকরা। কিলোমিটার প্রতি ২০ থেকে ৫০ পয়সা পর্যন্ত ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে বাস মালিক-শ্রমিকরা। আবার মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া আগের মতোই পাঁচ টাকা এবং বড় বাসের সাত টাকা থাকলেও তা মানছে না বাস মালিকরা। বড় বাসে (কাউন্টার সার্ভিস) এখন রাজধানীতে ১২ টাকার কমে সর্বনি¤œ ভাড়া নেওয়া হয় না বললেই চলে। মিনিবাসেও কোথাও কোথাও সাত টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।
বাড়তি ভাড়ার ওপর অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে এখন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ছাড়াও যন্ত্রাংশসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাত তুলছেন। অথচ সরকারের ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এসব বিবেচনা করেই। বাস ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রতিবারই একই ধরনের অভিযোগ উঠে। বিআরটিএ শুরুর দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অভিযান চালালেও অতিরিক্ত ভাড়া ঠেকাতে পারেনি। নানা কৌশলেই অতিরিক্ত টাকা আদায় করে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। লোকাল চললেও কখনো কখনো পুরো যাত্রাপথের ভাড়া আদায়, সিটিং নামে বেশি টাকা আদায় চলে। আর বাসে ভাড়ার তালিকা টাঙানো থাকে না কোথাও। তাই যাত্রীরা প্রতিবাদ করলেও লাভ হয় না। বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়ার কোনো হিসাবই নেই, মালিক-শ্রমিকরা যা ঠিক করেন তাই পরিশোধে বাধ্য হয় যাত্রীরা।
আবার বাড়তি ভাড়া নিয়ে প্রথম দুই একদিন ঝগড়া বিবাদ হলেও সরকারি সংস্থার উদ্যোগহীনতায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে যাত্রীরা। বিনা বাক্যব্যয়ে অন্যায় মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। আবার কোন রুটে কত ভাড়া সে বিষয়ে বাসে চার্ট টাঙানো থাকার কথা থাকলেও যাত্রীদের তা দেখানো হয় না। বিআরটিএ বলছে, তারা ভাড়ার নতুন চার্ট সরবরাহ করে দিয়েছে। কিন্তু এসব নিয়ম মানতে বাধ্য করানোর কোনো কার্যকর ব্যবস্থাই নেই।
গুলিস্তান থেকে আবদুল্লাহপুরগামী ৩ নম্বর বাস আগে শাহবাগ থেকে মহাখালী যেতে পাঁচ টাকা ভাড়া দিতে হতো। তবে নতুন ভাড়া কার্যকরের দিন থেকে যাত্রীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ টাকা করে আদায় করছে তারা। যাত্রাবাড়ী থেকে মিরপুর-১২ রুটে চলাচলকারী শিকড় পরিবহনে মোটের ওপর দুই টাকা ভাড়া বাড়ে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শিকড় পরিবহন ফার্মগেট পর্যন্ত আগে ২০ টাকা ভাড়া নিত, যা মিরপুরের ভাড়া বলে তারা আদায় করত যাত্রীদের কাছ থেকে। এখন সেই ভাড়া ২২ টাকা দিতে হচ্ছে যাত্রীদের।
খিলগাঁও থেকে মোহাম্মদপুরে চলাচলকারী মিডওয়ে পরিবহনের একাধিক বাসের কর্মী জানান, মালিকপক্ষ তাদের এখনও নতুন নিয়মে বেশি ভাড়া আদায়ের নির্দেশ দেয়নি। ২/১ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। সরকার নির্ধারিত ভাড়া বাড়ানোর তালিকায় হিউম্যান হলারের বিষয়টি নির্ধারিত না হলেও এর মধ্যে তারাও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় শুরু করছে। মোহাম্মদপুর থেকে মহাখালী পর্যন্ত আগে হিউম্যান হলার (লেগুনার) ভাড়া ছিল ২০ টাকা। এখন তারা আদায় করছে ২৭ টাকা। ফার্মগেট থেকে মিরপুর-২ (গ্রামীণ ব্যাংক ভবন) পর্যন্ত ভাড়া ছিল ১৫ টাকা। এখন আদায় করা হচ্ছে ১৮ টাকা।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই সময়কে বলেন, ‘ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য হচ্ছে। কিন্তু এ অন্যায় বন্ধে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেই। সরকার বাস ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে যতটুকু আন্তরিক, যাত্রীদের অধিকার রক্ষায় ততটুকু উদাসীন।’
বিআরটিএ সচিব শওকত আলী এই সময়কে বলেন, ‘ভাড়া বাড়ানোর পরই একটি প্রতিক্রিয়া হবে সেটাই স্বাভাবিক। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করছি। এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

বিআরটিসিকে বনসাই করে রাখা হয়েছে চক্রান্ত করে?
গণপরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাত্রী পরিবহনগুলো নাগরিক সেবা দেওয়ার জন্য অনুমোদন দেওয়া হলেও আদতে তারা এখন মহাব্যবসায়ী হয়ে উঠেছে। পরিবহন ব্যবসা এখন অতি লাভজনক খাতে পরিণত হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ের পরিবহন মালিকরা যাত্রী সেবা সিকেয় তুলে ব্যবসাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। জ্বালানির দাম বাড়ানোর কোনো ঘোষণা এলেই কয়েকগুণ ভাড়া বাড়ানোর বড় মওকা পায় পরিবহন মালিকপক্ষ। গত কয়েক বছরে ঢাকার গণপরিবহনের ভাড়া যে হারে বেড়েছে, তা অতীতের সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেছে। বেসরকারি বাস মালিকদের এই যথেচ্ছাচার লাগাম টেনে ধরার একটি মাধ্যম হতে পারত বিআরটিসি। এখনও বিভিন্ন রুটে বিআরটিসির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলাচলকারী পরিবহনের ভাড়া কম। যদি বিআরটিসির বাস আরও বেশি চলাচল করত তাহলে ভাড়ার উল্লম্ফন অনেকাংশে কমে আসত বলে মনে করেন তারা।
বিআরটিসির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য ঠিক রাখার জন্য বেসরকারি বাস মালিকদের একটি পক্ষ বিআরটিসিকে মেরুদ- সোজা করে দাঁড়াতে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা কৃত্রিমভাবে বিআরটিসির পরিবহন সংকট ঘটিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে যাচ্ছেতাই ভাড়া আদায় করছে। বিআরটিসির অভ্যন্তরীণ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত। বেসরকারি বাস মালিকরা বিভিন্ন রুটে বিআরটিসির বাস চলতেও বাধা সৃষ্টি করে। পুলিশ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘকাল ধরে এই ধরনের গর্হিত কাজ চলছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বিআরটিসি একটি আলাদা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিণত হতে পারছে না। এটার দুটি কারণ; একটি হলো দুর্নীতি, অপরটি হলো ভুলনীতি। ভুলনীতি হলো সরকারিভাবে গণপরিবহনের গুরুত্ব না দেওয়া। এর অন্যতম কারণ হলো বেসরকারি গণপরিবহনের মালিকরা সরকারের মধ্যে প্রভাবশালী। অতীতে দেখা গেছে, যখনই সরকার বিআরটিসিকে সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করে তখনই বেসরকারি গণপরিবহনের মালিকরা তাতে বাধা দেয়। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে আবার দেখা যায় বেসরকারি মালিকরা সরকারি নতুন গণপরিবহন নামতে বাধা দেয়। আবার নিজেরাও রাস্তায় নতুন গণপরিবহন নামায় না। তাদের গাড়িগুলো এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে।’

যাত্রীদের পছন্দ বিআরটিসি, তবে…
এখনও যাত্রীদের পছন্দের তালিকায় এগিয়ে আছে বিআরটিসি। অথচ চাহিদার তুলনায় এর সংখ্যা খুবই কম। মতিঝিল থেকে উত্তরা ও মিরপুর রুটে চলাচলকারী বিআরটিসি বাসের যাত্রী বরাবরই বেশি। বিশেষ করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বাস সেবা রাজধানীতে এখন পর্যন্ত বিআরটিসিই দিয়ে আসছে। তবে বিআরটিসি থেকে লিজ কিংবা ভাড়ায় নিয়ে চালানো বাসগুলোর ভাড়া আদায় নিয়ে আছে বড়সড় অভিযোগ।
উত্তরা থেকে প্রতিদিন বাংলামোটরে এসে অফিস করেন রেজাউল হোসেন। বললেন, ‘আগের তুলনায় এখন বিআরটিসি এসি বাসের ভাড়া বেড়েছে কিন্তু সেবার মান আরও কমেছে। বাস কমেছে। আগে সকাল আটটার পর অহরহ বাস পাওয়া যেত। এখন আটটার পর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বাস পাওয়া যায় না।’ তিনি বলেন, ‘এসি বাসগুলো যাত্রীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অথচ বাসের সংখ্যা কমেছে। বাস কম যাত্রী বেশি। অনেক ভিড় থাকে। তাই বাধ্য হয়ে বিআরটিসিতে চড়া বাদ দিয়েছি।’

ওয়াই ফাই কোথায়?
222_88260_1
গত বছরের এপ্রিলে বিআরটিসি বাসে ওয়াই ফাই ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়। সঙ্গে চালু হয় ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম। অথচ এই দুটি সেবার কোনোটাই এখন আর চালু নেই। বিআরটিসি বলছে, কারিগরি সমস্যার কারণে আপাতত এই সেবা বন্ধ আছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, যে বাসগুলোতে ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছিল, তার বেশির ভাগই এখন অকেজো হয়ে পড়ে আছে বিভিন্ন ডিপোতে। চীন থেকে আনা এসব বাস নি¤মানের। যে কারণে কদিন চলার পরই বিকল হয়ে পড়ে আছে। বিআরটিসির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘একটি প্রাইভেট কার কিনতে গেলে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা লাগে। সেখানে মাত্র ১৯ লাখ টাকায় বাস এনে তা বেশিদিন চলবে এটা আশা করা তো ঠিক নয়। এগুলোর বডি খুবই নি¤œমানের। যে কারণে ইঞ্জিনের ত্রুটি খুব একটা না হলেও বডির অবস্থা অল্প দিনেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

ধুঁকে ধুঁকে চলছে ডবল ডেকার
বিআরটিসির দ্বিতল বাস, ‘ডবল ডেকার’ বললে সহজেই চেনা যায়। সঙ্গে সঙ্গে চোখে যে চিত্র ভেসে ওঠে তা অনেকটা অস্বস্তিকরই বটে। অনেকে ঠাট্টা করে বলেন, ‘ধীরে ধীরে চলছে গাড়ি, গাড়ি যাবে যাত্রাবাড়ী।’ বয়স হয়েছে এই গাড়িগুলোর। ধুঁকে ধুঁকে চলছে। তবুও এখন পর্যন্ত ঢাকার জন্য অনেকটাই উপযোগী এই পরিবহন। কারণ যানজটের বেড়াজালে দ্বিতল বাস সেবা, যাত্রীদের জন্য প্রশান্তি তো বটেই সড়কের সংযমের জন্যও ভালো। একটি একতলা বাসের চেয়ে দিগুণ যাত্রী বহন করতে পারে দ্বিতল বাস। বিআরটিসি সূত্র জানায়, এই ডবল ডেকার বাসগুলো অনেক দিনের। নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু ইঞ্জিন সচল এবং গাড়ির কাঠামো ভালো থাকায় এখনও চলছে। যাত্রীদের মধ্যে এর ধীরগতি নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও যাত্রীদের চাপ বরাবরই বেশি থাকে এই পরিবহনগুলোতে।

‘সরকারি বাস বলেই অকেজো হয় দ্রুত’
বিআরটিসির বহরে বর্তমানে বাস রয়েছে এক হাজার ৫২০টি। এর মধ্যে রাস্তায় চলছে এক হাজার ৪০টি বাস। ৪৮০টি বাস অচল হয়ে ডিপোবন্দি। বেসরকারি খাতে লিজে বাস চলছে ৯৫টি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ভাড়া খাটছে বিআরটিসির ১১৫টি বাস। সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বিআরটিসির বহরে বাসের সংখ্যা ছিল ৩১৮টি। ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত নতুন ৯৫৮টি বাস কেনা হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাসের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০-তে।
কোরিয়া সরকারের ঋণে ২০১১ সালে ২৫৫টি বাস কেনে বিআরটিসি। এর মধ্যে ১০০টি এসি ও ১৫৫টি নন-এসি। এতে ব্যয় হয় প্রায় ২৪৩ কোটি টাকা। দুটি নন-এসি বাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। বাকি ২৫৩টি বাস রয়েছে বিআরটিসির বহরে। এর মধ্যে সচল ২১৩টি। কোরিয়া থেকে কেনা বাসগুলো রক্ষণাবেক্ষণে গত তিন বছরে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি বিআরটিসি। ফলে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে এসব বাসে। অচল হয়ে পড়েছে ৪০টি বাস। এর মধ্যে রাজধানীর মতিঝিল ডিপোয় পড়ে আছে ১৪টি, মিরপুরে তিনটি ও জোয়ারসাহারা ডিপোয় রয়েছে দুটি। আর ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম ডিপোয় বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে আটটি, নারায়ণগঞ্জে চারটি, সিলেটে দুটি, কুমিল্লায় দুটি, নোয়াখালীর সোনাপুরে দুটি এবং নরসিংদী, বগুড়া ও রংপুরে একটি করে।
চলমান বাসগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি এসি বাসের অবস্থা তুলনামূলক বেশি খারাপ। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করায় দ্রুত এগুলোর কার্যক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলে বাসের ভেতরটা ঠিকমতো ঠা-া হয় না। এছাড়া ২০টি বাসের এসির সেন্সর নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকটি বাসের ইঞ্জিনের ক্ষমতাও কমে গেছে। পিস্টন ও পিস্টন রিং ক্ষয়ে যাওয়ায় দূরপাল্লার রুটে চলা বাসগুলো মহাসড়কে দ্রুতগতি তুলতে পারে না। সব মিলিয়ে ৮৯টি বাস নানা ধরনের ত্রুটি নিয়ে চলছে।
ভারতের রাষ্ট্রীয় ঋণে (এলওসি) ২০১৩ সালে কেনা হয় ২৯০টি দ্বিতল, ৫০টি আর্টিকুলেটেড (দুই বগির জোড়া লাগানো) ও ৮৮টি এসি বাস। এতে ব্যয় হয় প্রায় ৩০৪ কোটি টাকা। গত বছর বাসগুলোর ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হয়। তবে এখনই দেখা দিচ্ছে নানা সমস্যা। বিকল হয়ে পড়েছে ২২টি। এর মধ্যে ডাবল ডেকার বিকল হয়েছে ১৪টি, এসি বাস পাঁচটি ও আর্টিকুলেটেড তিনটি।
দ্বিতল বাসগুলোর মধ্যে জোয়ারসাহারা ডিপোয় পাঁচটি, মানিকগঞ্জের উত্থলীতে চারটি, নারায়ণগঞ্জে দুটি, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে একটি করে বিকল পড়ে আছে। এর মধ্যে ৯টি ভারী ও পাঁচটি হালকা মেরামত প্রয়োজন। এসি বাসগুলোর মধ্যে দুটি কল্যাণপুরে, দুটি সোনাপুরে ও একটি মতিঝিলে আর আর্টিকুলেটেডের তিনটিই গাজীপুরে বিকল পড়ে আছে। এগুলোর মধ্যে তিনটি এসি ও তিনটি আর্টিকুলেটেড বাসের ভারী মেরামত এবং দুটি এসি বাসের হালকা মেরামত প্রয়োজন।
ডিপো ব্যবস্থাপকরা জানান, ভারত থেকে কেনা বেশির ভাগ বাসই বিকল হয়েছে গত এক বছরে। এগুলোর সঙ্গে কেনা খুচরা যন্ত্রাংশ শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন আর বাস মেরামত করা যাচ্ছে না। আর ওয়ারেন্টি শেষ হওয়ায় ভারতের অশোক লেল্যান্ড কোম্পানিও এগুলো মেরামত করে দিচ্ছে না। ফলে বাসগুলো বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। এতে ক্রমেই কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে এসব বাস।
বিআরটিসির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, কিছু বাস অনেক পুরনো ও অকেজো হয়ে গেছে। সেগুলো মেরামত করে রাস্তায় নামানো হবে। তিনি বলেন, পুরনো বাসগুলো গতিশীল করতে আমরা তিনটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। তার মধ্যে যেগুলো কম ক্ষতিগ্রস্ত সেগুলোকে স্বল্পসময়ে মেরামত করে রাস্তায় নামানো হবে। আর কিছু আছে মেরামত সময়সাপেক্ষ সেগুলোকে আমরা ভারী মেরামতের আওতায় এনে মেরামত করব। এছাড়া কিছু আছে মেরামতের অযোগ্য সেগুলো আমরা নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করব।

ভলভোর দুঃখ
যাত্রীসেবায় আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০০২ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সুইডেন থেকে আনা হয় উন্নতমানের ভলভো বাস। সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (সিডা) অর্থায়নে ৫০টি ভলভো বাস আমদানি করা হয়। এই বাসগুলোর একেকটির মূল্য এক কোটি তিন লাখ টাকা। অবহেলা ও অযতেœর কারণে ভলভো বাসগুলো মেরামত করার মতো অবস্থাও এখন আর নেই। পরে আছে মিরপুর ও গাজীপুরে বিআরটিসির ডিপোতে। এখন নিলামে বিক্রির অপেক্ষা। মাত্র একটি বাস স্টাফ পরিবহন হিসেবে রাস্তায় আছে।
সুইডেন থেকে আমদানি করা বাসগুলোর অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছিল ১৫ বছর। কিন্তু ৮ বছর না যেতেই সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পরিত্যক্ত হয়ে গেছে কোটি কোটি টাকায় কেনা বাসগুলো। সঠিক মেরামতের অভাবে অচল হয়ে পড়ে থাকা ভলভো বাসগুলো ক্রমেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ভলভো বাসগুলোতে নষ্ট হওয়া যন্ত্রাংশ সময়মতো বদলানো হয়নি। সুইডিস মোটরস সন্তোষজনকভাবে বাস মেরামত করেনি। পরবর্তী সময়ে ছোটখাটো অনেক যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেলে তা আর ঠিক করা হয়নি।

আশা আর স্বপ্নের বৃত্তে বাধা
গত বছরের সেপ্টেম্বরে বিআরটিসির শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার পর চেষ্টা হয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর। চেষ্টা চলছে এখনও। কিন্তু কম সময়ের মধ্যে বড় কোনো পরিবর্তন আনা সত্যিই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের দাবি, গত এক বছরে দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন এসেছে বিআরটিসিতে। ডিপোগুলোর যাচ্ছেতাই ব্যবস্থাপনা বদলে আলাদা ২৭টি রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণে বাধ্য করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিআরটিসির সব ধরনের দুর্নীতি ও নিয়ম ধুয়ে মুছে গেছে, তা বলা না গেলেও আয় বেড়েছে। কাজে গতি ফিরেছে। তবে পুরোপুরি পরিবর্তন আসতে সময় লাগবে।
বিআরটিসির ভাগ্য ফেরাতে নানা সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ঢের, কিন্তু কাজে আসেনি। নেপথ্যে কারণ কী? খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে অনেক বিস্ময়কর তথ্য। বিআরটিসি সূত্র জানায়, দিনের পর দিন অসাধু চক্রের কবল থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছে বিআরটিসি, কিন্তু কাজ হয়নি। কারণ, এর পেছনে যারা কলকাঠি নাড়ছেন তাদের সহসাই দমিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। নাম প্রকাশে বিআরটিসির ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অনেক বোঝা মাথায় নিয়ে বিআরটিসিকে চলতে হয়। রাষ্ট্রীয় কোনো বরাদ্দ থেকে নয়, বিআরটিসি নিজেদের আয়েই ব্যয় মেটায়। কিন্তু তার ওপর পুলিশ, বাস মালিক সমিতি, রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা শ্রমিক সংগঠনের নিয়মিত চাঁদা পরিশোধ করতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হয় সংস্থাটিকে।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘পুলিশ, মালিক সমিতিকে নিয়মিত চাঁদা না দিলে গাড়ি রাস্তায় চলতে দেওয়া হয় না। চালককে মারধর করা হয়। গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। এত প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক পর্যায়ে ধরে রাখা সহজ কথা নয়।’

আসছে আরও ৩০০ দ্বিতল বাস
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার রাস্তার জন্য একতলা বাসের চেয়ে দ্বিতল বাস অনেক উপযোগী। সরকারের চিন্তাতেও আছে এই বিষয়টি। বিআরটিসির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, যানজট নিরসনে এবং আরামদায়ক যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে ভারতীয় ডলার ক্রেডিট লাইনের আওতায় ৩০০টি দ্বিতল বাস আনার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১০০টি আর্টিকুলেটেড বাস, ২০০টি একতলা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস, ১০০টি একতলা নন এসি বাস এবং ৫০০টি ট্রাক আনা হবে। এর প্রক্রিয়া চলছে। আগামী এক বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এগুলো দেশে এসে পৌঁছবে বলে জানান তিনি।

টেনে তোলার উদ্যোগ আছে
ভঙ্গুর অবস্থা থেকে বিআরটিসিকে টেনে তোলার চেষ্টা চলছে। কাজে স্বচ্ছতাসহ জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বললেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিআরটিসির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে কাজ করে যাচ্ছেন। ডিপো থেকে শুরু করে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেখানে আগে মুদি দোকানের মতো একটি টালি খাতায় সারাদিনের আয় ব্যয়ের হিসাব রাখা হতো সেখানে ডিপোগুলোতে এখন ২৭টি রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে। আয়ের টাকা জমা দেওয়া হচ্ছে ব্যাংকে। আগে তা ব্যাংকে জমা দেওয়া হতো না। দিন শেষে আয় এবং ব্যয় ইচ্ছেমতো লিখে দিয়ে টাকা বেহাত করা হতো। এখন এসব করার আর সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘প্রধান কার্যালয় থেকে ডিপোগুলোকে নিয়মিত নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ায় আয়-ব্যয়ের হিসাবে গরমিল করার সুযোগ বন্ধ হয়েছে। তবে এখনও কিছু অব্যবস্থাপনা রয়ে গেছে। এগুলো ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে জানা গেছে।’
বিআরটিসি সূত্র জানায়, নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নিয়েছেন ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে। ওই বছর সেপ্টেম্বরে বিআরটিসির মাসিক আয় ছিল ২০ কোটি ৬১ লাখ ২৯ হাজার টাকা। ব্যয় ছিল ২০ কোটি ৩৯ লাখ ৬ হাজার টাকা। উদ্বৃত্ত ছিল ২৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা। বছর ঘুরে এ বছরের আগস্টে বিআরটিসি আয় করেছে ২২ কোটি ৫৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। ব্যয় হয়েছে ২০ কোটি ৮৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা। উদ্বৃত্ত ছিল এক কোটি ৭০ লাখ।
কমেছে জ্বালানি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বিআরটিসি বাস ও ট্রাক চলেছে মোট ৪৫ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ কিলোমিটার। প্রতি কিলোমিটারে রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হয়েছে তিন টাকা ৯৪ পয়সা। জ্বালানি খরচ হয়েছে প্রতি কিলোমিটারে ২০ টাকার কিছু বেশি। টায়ার বাবদ খরচ হয়েছে কিলোমিটারে দুই টাকা ৩৩ পয়সা। এ বছরের আগস্টে এসে গাড়ি বেশি চলেছে। অথচ জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কমেছে। গাড়ি চলেছে ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার ৮২০ কিলোমিটার। প্রতি কিলোমিটারে জ্বালানি ব্যয় হয়েছে ১৯ টাকার কিছু বেশি, রক্ষণাবেক্ষণে তিন টাকা ৪৪ পয়সা এবং টায়ার বাবদ দুই টাকা ২০ পয়সা।

বিআরটিসির লিজ দেওয়া বাসেও অতিরিক্ত ভাড়া!
বেসরকারিভাবে লিজে নেওয়া বিআরটিসির বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ আছে। যারা লিজ নিয়েছেন তারা সরকারের ঠিক করে দেওয়া ভাড়ার তালিকা অনুসরণ করছে না। যাত্রীদের কাছ থেকে যাচ্ছেতাই ভাড়া আদায় করছে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা ও ঘটনা প্রমাণের পর ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ। বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে খোঁজ নিতে গত ১৯ অক্টোবর দুপুরে মতিঝিলে বিআরটিসির কার্যালয়ে যান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ডিপো ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, বিআরটিসি বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও টাকার বিনিময়ে অঘোষিতভাবে বাসগুলো ইজারা দেওয়ার ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি ও বেসরকারি গণপরিবহনে যাতে নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হয়, সেজন্য অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।-সাপ্তাহিক এই সময়-এর সৌজন্যে।






মন্তব্য চালু নেই