মেইন ম্যেনু

বিএইচবিএফসি ৫০০ কোটি টাকা তহবিল সহায়তা পাচ্ছে

কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং করপোরেশন (বিএইচবিএফসি)। শর্ত সাপেক্ষে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে গত ২২ জুলাই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অনুমোদন দিয়েছেন বলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। খুব শিগগির এ অর্থ ছাড় করা হবে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘তহবিল সহায়তা পেতে হলে বিএইচবিএফসিকে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। শর্তগুলো হচ্ছে- সংস্থাটির মূল আইন পিও-৭/১৯৭৩ সংশোধনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। বিএইচবিএফসিকে আগে প্রদানকৃত সরকারি ঋণের অনরূপ সহজ শর্তে (বার্ষিক ৩ শতাংশ হার সুদে) ৫০০ কোটি টাকা তিন কিস্তিতে (২০০+২০০+১০০=৫০০ কোটি টাকা) তহবিল সহায়তা দেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, গত ১৪ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গৃহঋণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিএইচবিএফসির অনুকূলে ৫০০ কোটি টাকা তহবিল সহায়তা প্রদানের বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগ, ব্যাংক ও অর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বিএইচবিএফসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এম নূরুল আলম তালুকদার দেশের সাধারণ মানুষের গৃহায়ণ সমস্যা দূর করার ক্ষেত্রে বিএইচবিএফসির ভূমিকা তুলে ধরেন এবং সংস্থার কর্মকা-কে গতিশীল করতে সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা চান।

বিএইচবিএফসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সংস্থাটির গ্রামীণ আবাসন খাতে ঋণ প্রবাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। ২০০৯ সালের ২৬ শতাংশের জায়গায় বর্তমানে ৪৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আদায় বেড়েছে, শ্রেণিকৃত ঋণ কমেছে। ২০১৫-২০১৫ অর্থবছরে আদায়ের হার ৮৬ দশমিক ৬৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, শ্রেণিকৃত ঋণ কমে ৫ দশমিক ৯২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের আয়পূর্ব মুনাফা হয়েছে ১৮৫ কোটি টাকা। করপোরেশন নিয়মিত ভাবে মুনাফার বিপরীতে ধার্যকৃত আয়কর পরিশোধ করে আসছে।

সূত্র জানায়, বিএইচবিএফসির সব সূচক ধনাত্মক হওয়ার পরও কেবল তহবিলের সংস্থান না থাকায় ঋণ আবেদন তথা জন চাহিদা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। চলতি ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের বিএইচবিএফসির ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৪০০ কোটি টাকা নিরূপণ করা হলেও তহবিলের সংস্থান না হলে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে না।

সূত্র জানায়, বৈঠকে জানানো হয় সহজ শর্তে অর্থাৎ ৩ শতাংশ সরল সুদে তহবিল সহায়তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ভর্তুকির প্রয়োজন হবে না। বাজার শর্তে (৯ শতাংশ সুদে) তহবিল সহায়তার ক্ষেত্রে ঢাকা ও চট্রগ্রাম মেট্রো এলাকায় ১২ শতাংশ সুদে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ৪ শতাংশ ভর্তুকির প্রয়োজন হবে এবং মফস্বল ও গ্রামীণ এলাকায় ১০ শতাংশ হার সুদে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভর্তুকির পরিমাণ হবে ৬ শতাংশ।

১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। আইনানুযায়ী এর অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১১০ কোটি টাকা। বিএইচবিএফসি বর্তমানে নিজস্ব জমির উপর বাসস্থান নির্মাণে ৫০ লাখ টাকা, যৌথ মালিকানাধীনে প্রতি জনকে ৫০ লাখ টাকা গ্রুপ ঋণ, ফ্ল্যাট ঋণ সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা এবং গ্রামে সেমি পাকা বাসস্থান নির্মাণের জন্য ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে।






মন্তব্য চালু নেই