মেইন ম্যেনু

বিএনপিকে জামায়াত ছাড়লেই হবে না শর্ত আছে আরও

যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ছাড়লেই বিএনপির সঙ্গে ক্ষমতাসীন জোটের জাতীয় ঐক্য হয়ে যাবে এমনটা ভাবা ঠিক নয়। সঙ্গে আরো কয়েকটি শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

তারা বলছেন, জামায়াতকে ছেড়ে দিলেই হবে না। তাদেরকে অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য ভুল স্বীকার করতে হবে। এরপর ঐক্যের পরিবেশ সৃষ্টি হলে তখন দেখা যাবে কী হয়।

তারা বিএনপির উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। তারা বলছেন, দলটি আসলে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে জোট ভারি এবং রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করবে। এর মাধ্যমে জঙ্গিবাদ দমনের চেয়ে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করার জন্য চাপ প্রয়োগই তাদের মূল লক্ষ্য।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ২০ দলীয় জোটের মধ্যে জামায়াতকে ‘ওইভাবে’ রাখার আর প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না- বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী ড. এমাজউদ্দীনের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ নেতারা এসব বক্তব্য দিয়েছেন।

যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতকে না ছাড়লে জঙ্গিবাদ ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে কোনো ঐক্য নয়- আওয়ামী লীগ নেতারা বারবারই এ কথা বলে আসছেন। যদিও প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, ঐক্য ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক জঙ্গিবাদের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের মদদ আছে বলেও একাধিকবার অভিযোগের তীর ছুড়েছেন তিনি।

তবে মঙ্গলবার যখন জামায়াতের ব্যাপারে বিএনপির অবস্থান জানালেন ড. এমাজউদ্দীন তখন জাতীয় ঐক্য প্রশ্নে আওয়ামী লীগ কী ভাবছে তা জানতে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হয়।

তারা বলেন, জামায়াত ছাড়লেই বিএনপির সব বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে, এমনটা নয়। তার আগে যুদ্ধাপরাধীদের তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। তখন আরো প্রশ্ন আসবে, তাহলে বিএনপি কি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ও বর্তমান সরকারকে মেনে নিচ্ছে? সরকারকে মেনে নিলে সংবিধান অনুযায়ী ২০১৯ সালে নির্বাচন হবে তাও মানতে হবে। একই সঙ্গে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ২০১৩-২০১৫ সালে জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনের বিষয়েও বিএনপিকে ভুল স্বীকার করতে হবে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ উল আলম লেনিন বলেন, আমরা জাতীয় ঐক্যটাকে কোনো দলের ঐক্য হিসেবে দেখি না। আমাদের পারসেপসনটা আলাদা। যে ইসুতে ঐক্য প্রয়োজন তা হলো জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সমগ্র জনগণের ঐক্য। আমরা জনগণের ঐক্যে বিশ্বাস করি। কিন্তু এখন জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলো না, সুতরাং মাঝখান দিয়ে কতগুলো রাজনৈতিক দল ঐক্য হলো জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ হবে না। বিএনপি জামায়াতকে ছেড়ে গেলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্য জামায়াত বিরোধী ঐক্যের পথ প্রশস্ত হয় এটা সন্দেহ নাই।

তিনি আরো বলেন, আমরা আরো আগে থেকে বলে আসছি বিএনপি জামায়াতকে ছাড়ুক। যুদ্ধপরাধীদের নিয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করুক। অতীতের ভুল যেমন, একুশে আগস্ট হামলার কথা স্বীকার করুক। তারপর যদি তারা একটা ক্লিন ইমেজ নিয়ে আসতে পারে এবং ঐক্যের পরিবেশ তৈরি হয় তাহলে এসব বিষয়ে নিয়ে দলীয়ভাবে ভাবা যাবে। আমরা তো বলি নাই যে বিএনপি জামায়াতকে ছাড়লে কালকে তাদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য হয়ে যাবে। বিএনপির নিজেই তো এখন একটা জামায়াতে পরিণত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, এমাজউদ্দীন তো আর খালেদা জিয়া না। আগে খালেদাকে সরাসরি ঘোষণা দিতে হবে জামায়াত ছাড়ার। তারপর তাদেরকে অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। জ্বালাওপোড়াও আন্দোলন ও ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন, একুশে আগস্ট হামলা এগুলো ভুল স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাক।

এরপর যদি জাতীয় ঐক্যে তৈরি পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তাহলে এ নিয়ে আলোচনা করা যাবে। আসলে বিএনপি এসব কথা বলে জাতীর মধ্যে একটা ধুম্রজাল সৃষ্টি করতে চায়। যোগ করেন আহমদ হোসেন।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপি তাদের মনোভাবের লোকজনের সঙ্গে ঐক্য করুক। আওয়ামী লীগও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের নিয়ে ঐক্য করে এগিয়ে চলেছে। দেশের শান্তির জন্য কাজ করতে চাইলে যে কেউ যেকোনো প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে করতে পারে। জঙ্গিবাদ দমন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোট ও সমমনারা মাঠে আছে।

তিনি বলেন, বিএনপির ঐক্যের ডাক বা জাতীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে, আওয়ামী লীগের অবস্থা এতটা খারাপ হয়ে যায়নি। আওয়ামী লীগ নিজের লক্ষ্যপূরণে কাজ করছে, বিএনপির নয়।

অবশ্য এমাজউদ্দীনের বক্তব্যের কোনো দায় নিতে চান না বিএনপির নেতারা। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তিনি বিএনপির শুভাকাঙ্ক্ষী এর বেশি কিছু নন। তিনি যা বলেছেন সে ব্যাপারে তিনিই বলতে পারবেন।-বাংলামেইল






মন্তব্য চালু নেই