মেইন ম্যেনু

খালেদা-তারেক মাইনাস ইস্যু

বিএনপিতে নেতৃত্বের সংঘাত অনিবার্য!

নেতৃত্ব নিয়ে সংকট ঘনীভূত হচ্ছে বিএনপিতে। একদিকে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলটিকে আরো বেশি আত্মীকরণ করতে চাইছেন, অপরদিকে তাকে বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক বিএনপি গড়তে চাইছে তার বিরোধী পক্ষ।

উভয় পক্ষই যার যার উদ্যোগে অটল থাকায় প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গড়া বিএনপি আত্মঘাতী সংঘর্ষের পথেই এগুচ্ছে বলে আলোচনা চলছে দলীয় পরিমণ্ডলে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, দলের এমন বেহাল দশা খালেদা জিয়াকে আন্দোলনের নামই ভুলিয়ে দিয়েছে। এ কারণেই প্রতি ঈদের আগে ‘ঈদের পর সরকার পতনের আন্দোলন’ বলে হাঁকডাক দিয়ে এলেও এবার আর সে পথে হাঁটছেন না বিএনপি প্রধান। বিরোধীদের চিহ্নিত করে দল থেকে তাদের বের করে দেওয়াই এখন তার মূল রাজনৈতিক এজেন্ডা হয়ে উঠেছে।

‘আগে গদি রক্ষা, পরে রাজনীতি’- আপ্তবাক্য এখন হয়ে উঠেছে খালেদা জিয়ার মূল রাজনৈতিক দর্শন। আর নিজের গদি ঠেকাতে বিরোধীতাকারীদের ঠ্যাঙানির হুমকিও দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

এরই মধ্যে তৃণমূল নেতাকর্মীদের তার বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার উস্কানিমূলক নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি প্রধান। গত সোমবার সিনিয়র নেতাদের বৈঠকে ডেকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দল ভাঙতে চাইলে সরে যান। নেতাকর্মীরা কারো ওপর চড়াও হলে আমার বলার কিছু থাকবে না।

শুধু তাই নয়, নিজের পদ দখলে রেখে দলকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঈদের পর দল পুনর্গঠনের ঘোষণাও দিয়েছেন খালেদা জিয়া। আর ঠিক এ কারণে দলের ভেতরে সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠেছে। খালেদা বিরোধীরাও তাকে ও তার ছেলে তারেক রহমানকে বাদ দিয়ে জিয়ার আদর্শে দল পুনর্গঠনের জন্য বেছে নিয়েছেন ঈদের পরের ওই সময়টাকেই।

তারা মনে করছেন, দল পরিচালনায় খালেদা জিয়া কতোটা স্বৈরাচারী তার প্রমাণ তার সাম্প্রতিক সব বক্তব্যেই আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে প্রকট হয়ে ফুটছে।

যে কোনো সংগঠন সাধারণত সমন্বিত উদ্যোগে পরিচালিত হলেও সমষ্টিগত আদর্শের কথা বেমালুম ভুলে গেছেন খালেদা জিয়া। এখন তিনি আর ‘আমাদের দল’ বলছেন না। বলছেন, ‘আমার দল’। তার সব কিছুই এখন আমিময়। এখন তিনি বলছেন, আমার দল আমার মতো করেই চলবে। যারা দলের মধ্যে কুৎসা রটাচ্ছেন তাদের আমি চিনি।

দলের বিরুদ্ধে যারা কথা বলছেন ঈদের পর তাদের বাদ দেবো। দল পুনর্গঠন করবো।

খালেদা জিয়ার এই ‘আমি আমি’ ভাবকে মোটেও ভালোভাবে নিচ্ছে না জিয়ার আদর্শে উদ্বুব্ধ বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা মনে করছেন, খালেদা জিয়া যে দলকে নিজের সম্পত্তি মনে করেন তার এসব বক্তব্য তারই প্রমাণ।

কার্যত গঠনতান্ত্রিকভাবেই দলে চরম ক্ষমতা ভোগ করেন খালেদা জিয়া, তারওপর স্থায়ী কমিটি হোক আর নির্বাহী কমিটিই হোক, কারো সুপারিশে কান না দিয়ে সব সিদ্ধান্ত তিনি নেন এককভাবেই। বিশাল বহরের উপদেষ্টা পরিষদ থাকলেও তার থোড়াই পরোয়া করেন তিনি।

সর্বশেষ সোমবার রাতের বৈঠকেও তিনি সিনিয়র নেতাদের মন খুলে কথা বলায় বাধা দিয়েছেন। কেউ মুখ খুললে তাকে থামিয়ে নিজেই চালিয়ে গেছেন নসিহত।

অথচ দল পরিচালনায় জিয়াউর রহমান ছিলেন ঠিক এর উল্টো। তিনি সবাইকে কথা বলার সুযোগ দিতেন। সবার কথা শুনতেন-মানতেন, এমনকি সে অনুযায়ী সিদ্ধান্তও নিতেন। তাই সিনিয়র নেতাদের মধ্যে যারা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন তারা খালেদা জিয়ার স্বেচ্ছাচারী আচরণে বেজায় ক্ষুব্ধ। জিয়ার আদর্শে বিএনপি পুনর্গঠনের স্বপ্নদ্রষ্টাও মূলত তারাই।

সম্প্রতি ইউটিউবে ফাঁস হওয়া কথোপকথনে তাই দলের স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে বলতে শোনা যায়, এই বিএনপি দিয়ে হবে না। স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, জিয়ার আদর্শে দুর্নীতিমুক্ত বিএনপি গড়তে হবে। স্থায়ী কমিটির আর আর এক সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বিএনপির যে অবস্থা তাতে ভবিষ্যতে আর উঠে দাঁড়াতে পারবে কি না সন্দেহ আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর খবর, দলের সিনিয়র নেতারা মূলত তরুণদের সামনে রেখেই মাইনাস করতে চান খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানকে। তাদের অসময়োচিত আন্দোলন পরিকল্পনার কারণেই এখন দলের এমন বেহালা দশা। তাদের দু’জনের বিরুদ্ধেই রয়েছে ক্ষমতার অবৈধ ব্যবহার করে দুর্নীতির এন্তার অভিযোগ। জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া বিএনপিতে কোনো দুর্নীতিবাজ রাখতে চান না জিয়‍ার সৈনিকরা।

আর খালেদা জিয়া যেহেতু বিএনপি কোনো দুর্নীতি করেনি বলে মনে করেন, তাই তার পক্ষে দুর্নীতি মুক্ত দল গড়া সম্ভব নয়। তাই খালেদা জিয়া ও তার ছেলেকে দলে রেখে দলকে দুর্নীতিমুক্ত করা যাবে না। তাদের একটাই পরিণতি, দুর্নীতির দায় নিয়ে দল থেকে বাদ পড়া।

সূত্রগুলো আরো বলছে, খালেদ‍া জিয়া যতোই গলা চড়ান না কেনো, কার্যত তিনি ভয় পেয়েছেন। গলার আওয়াজ চড়িয়ে চাপা দিয়ে ‍রাখতে চাইছেন ভয়ের বিষয়টিকে।

তাই বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতাকর্মীদের খোঁজ না নিলেও এখন তার মুখে তৃণমূলের প্রশংসা ফুটছে। এতো দিন পর তার মনে হয়েছে, বিভিন্ন কারাগারে আটক নেতাকর্মীদের জামিন করানো দরকার।

তবে খালেদা জিয়া যতো চেষ্টাই করুন না কেনো, তার ওপর থেকে নড়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভবই বটে। দিন দিন তাই খালেদাবিরোধীদের পাল্লাই ভারি হচ্ছে দলে। ফুঁসে উঠছে তৃণম‍ূল।

আর যারা কোনো পক্ষের ওপরই ভরসা রাখতে পারছেন না, তারা ভিড়ছেন বিএনপির প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগে। গত তিন মাসে বিভিন্ন জেলার কয়েক হাজার তৃণমূল নেতাকর্মী বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে।বাংলানিউজ২৪






মন্তব্য চালু নেই