মেইন ম্যেনু

বিএনপি প্রার্থীদের ভয় দেখানো হচ্ছে: রিজভী

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান পদ প্রার্থীদের ‘গ্রেফতার ও গুম’ করে তাদের ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির দফতরের দায়িত্বে থাকা যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও এই কাজ করছে বলে দাবি করেন বিএনপির এই নেতা।

শনিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সারা দেশে বিএনপির প্রার্থী ও সমর্থকদের গ্রেফতার ও গুম করছে।

রিজভী জানান, সাতক্ষীরার যুবদল নেতা নির্বাচনের টাকা ব্যাংকে জমা দিতে গেলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। জয়পুরহাটে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রব বুলুকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত তার খোঁজ মেলেনি।

তিনি অবিলম্বে বুলুর সন্ধান ও তাকে জনসমক্ষে হাজির করার আহ্বান জানান।

প্রশাসন জনগণের সেবকের পরিবর্তে ‘শেখ হাসিনার বাহিনী’ হিসেবে কাজ করছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, স্বৈরাচারী শাসকেরা জনগণ ও গণতন্ত্রকে ভয় পায়।

তিনি বলেন, ‘জনগণ যাতে কোনোভাবেই স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে না পারে, সেজন্য নৃশংসতা দিয়ে তাদের টিকে থাকার পথ তৈরি করছে। এতে বিরোধী দলের লোকেরা প্রাণ হারাচ্ছে, নিরুদ্দেশ হয়ে যাচ্ছে, তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। সারাদেশে বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভেঙ্গে তছনছ করছে, গ্রেফতারের নামে নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হানা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছে ও আসবাবপত্র ভেঙ্গে ফেলছে। এর উদ্দেশ্য বিরোধী দল বিহীন এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকার গণতন্ত্র হত্যার কিলিং মিশনের দায়িত্ব দিয়েছিল বিচারপতি খায়রুল হক ও শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকদের। সেই মিশন অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে আইন ও সংবিধান লঙ্ঘন করে তারা বাস্তবায়ন করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রাক্তন বিচারপতি মানিকের দ্বৈত নাগরিকত্ব। তার দেশের প্রতি কোনো আনুগত্য নেই। এই মানিক বিচারপতিদের নিরপেক্ষতার পবিত্রতাকে অপবিত্র করেছেন। তাই প্রধান বিচারপতির কাছে আহ্বান জানাই, তাকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার জন্য।’

গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের ‘নির্যাতনে’র জবাব দিয়ে মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ‘ফিরিয়ে আনার’ বিকল্প নেই বলে জানান তিনি।

একুশের প্রথম প্রহরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৫২’র ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাবেন জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘তার সঙ্গে দলের সিনিয়র নেতারা থাকবেন। দলের পক্ষ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা ও শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন যথাযথভাবে পালনের জন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, স্ব-নির্ভর বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সাংগঠনিক সহসম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদসহ আরো অনেকে ছিলেন।






মন্তব্য চালু নেই