মেইন ম্যেনু

বিএনপি সুশৃঙ্খলভাবে চলছে না

বিএনপি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সচিব মোফাজ্জল করিম। তিনি বলেন, ‘বিএনপি অতীতের চেয়ে এখন সাংগঠনিক কাঠামোয় দুর্বল হয়ে পড়েছে। সুশৃঙ্খলভাবে দলটি পরিচালিত হচ্ছে না। শীর্ষ নেতৃত্বকে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সংগঠনকে গোছাতে হবে। মনে হচ্ছে, বেশ কিছু দিন ধরেই দলের মধ্যে সংহতির অভাব রয়েছে। দলের মধ্যে নানা মত থাকতেই পারে। কিন্তু কাউকে বাদ দিয়ে নয়, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবেই দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’
সম্প্রতি এসব কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘হামলা-মামলা কিংবা গ্রেফতার করে বিএনপিকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে সরকার। নেতা-কর্মীদের নানাভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী এখন আতঙ্কগ্রস্ত। মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে অনেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে এর মধ্যেও বিএনপি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। দলকে সুসংহত রাখতে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের কোনো বিকল্প নেই।’
বিএনপি সমর্থক সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বিএনপি ভাঙনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সে আলামতই দেখা যাচ্ছে। এটা একটি রাজনৈতিক দলের বড় সাংগঠনিক দুর্বলতা। যে কোনো উপায়ে এটা কাটিয়ে উঠতে হবে। অতীতেও বিএনপি ভাঙনের মুখে পড়ে। কিন্তু দলটি ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, কোনো কর্মসূচি দিলে এখন আর আগের মতো নেতা-কর্মীদের দেখা যায় না। অবশ্য না থাকারও যৌক্তিক কারণ রয়েছে। তার পরও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের ঐক্য অটুট রাখা জরুরি।’
বিএনপিতে এখন দুঃসময় যাচ্ছে যা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই বলে মন্তব্য করেন মোফাজ্জল করিম। তার মতে, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর কখনো কখনো এ ধরনের কঠিন সময় আসে। এটা কাটিয়ে ওঠাই একটি রাজনৈতিক দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আমার কাছে মনে হয়, বিএনপি আগে আরও সংঘবদ্ধ ছিল, ঐক্যবদ্ধ ছিল। যার অভাব এখন দেখা যাচ্ছে। দলে এক ধরনের বিশৃঙ্খলার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নানা সমস্যার মধ্যেও দলটির জন্য এখন সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, দেশব্যাপী সর্বস্তরের মানুষের জনসমর্থন। সেখানে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। এটা ধরে রাখার জন্য বিএনপিকে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক তৎপরতা আরও বাড়াতে হবে। জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীর পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা তার একক ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। একজন নাগরিক হিসেবে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন। তবে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার খুব একটা দীর্ঘ নয়। তিনি ছিলেন একজন আমলা। সেখান থেকেই সরাসরি রাজনীতিতে জড়িয়েছেন। তার এমন কোনো গ্রুপ বা বলয় সৃষ্টি হয়নি, যাতে তার পদত্যাগে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমার মনে হয়, এতে বিএনপিতে এ নিয়ে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।’
শমসের মবিন ইস্যুতে সরকারের বক্তব্য প্রসঙ্গে সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী ও নেতারা শমসের মবিনের পদত্যাগ নিয়ে বিএনপিকে জড়িয়ে যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন, এগুলো সঠিক নয়। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শমসের মবিন রাজনীতি থেকে অবসরে গিয়েছেন। এটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ব্যাপার।
এ বিষয়টিকে নিয়ে আওয়ামী লীগ বা সরকারের পক্ষ থেকে যেসব বক্তব্য আসছে, তার যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ নেই।’ ‘বিএনপি জিয়ার আদর্শে নেই’ শমসের মবিনের এমন মন্তব্যে দ্বিমত পোষণ করেন মোফাজ্জল করিম।
তার মতে, ‘এখনো যারা বিএনপিকে সমর্থন করেন, ভালোবাসেন, তারা সবাই শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী। ওই আদর্শের ওপরই বিএনপির নেতা-কর্মীরা টিকে আছেন। বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক আদর্শ রাষ্ট্রে বিশ্বাসী। বিএনপি কোনো মৌলবাদী-জঙ্গিবাদী কিংবা উগ্রপন্থি রাজনৈতিক দল নয়। বিএনপি একটি উদারপন্থি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল।






মন্তব্য চালু নেই