মেইন ম্যেনু

বিএম কলেজে নিয়োগকৃত অধ্যক্ষ নিয়ে তোলপাড়

মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তের সত্য প্রেম পবিত্রতার আদর্শে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যর অক্সফোর্ড খ্যাত বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অধ্যক্ষ পদে সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর স.ম. ইমানুল হাকিমকে নিয়োগ দেওয়ায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিতর্কিত এ শিক্ষককে নিয়োগ দেয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষক সমাজে মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা।

অভিযোগ উঠেছে, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তদ্বির ও অর্থের যোগান দিতে না পারায় এ পদে আবেদন করেও নিয়োগ পাননি শহীদ পরিবারের সন্তান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ প্রফেসর এনায়েত হোসেন, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বোনজামাতা কলেজের উপাধ্যক্ষ শিক্ষা ক্যাডারের জেষ্ঠ শিক্ষক প্রফেসর কাজী নজরুল ইসলাম ও বিএম কলেজের ২৩ বছরের শিক্ষাকতার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শিক্ষক নারী নেত্রী শাহ্ সাজেদা। শিক্ষক নেতাদের অভিযোগে জানা গেছে, যথেষ্ট যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এসব আবেদনকারীরা অর্থ ও তদ্বিরের জোড়ে হেরে গেছেন বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর স.ম. ইমানুল হাকিমের কাছে। জেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে শিক্ষা মন্ত্রণালায় বির্তকিত এ শিক্ষককে গত ২২ জুলাই নিয়োগ দেওয়ায় বিএম কলেজ থেকে শুরু করে পুরো শিক্ষা ক্যাডার জুড়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

দক্ষিণ বাংলার সর্ববৃহৎ ও স্বণামধন্য এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী শিক্ষককে নিয়োগ দেয়ায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেকেই। সচেতন মহল মনে করছেন, যে শিক্ষক বি.এম কলেজের অভ্যন্তরে একটি শিশু নিকেতনের মালিক তিনি কিভাবে সঠিকভাবে কলেজ পরিচালনা করবেন। বরং তিনি কলেজের সম্পত্তি ধীরে ধীরে গ্রাস করে নিবেন। সূত্রমতে, সম্প্রতি সময়ে প্রফেসর স.ম. ইমানুল হাকিম তথ্য গোপন করে একবার পদোন্নতি নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিষয়টি ধরা পড়ার পর তার পদোন্নতি বাতিল করা হয়েছিল। বিএনপি-জামায়াতের চারদলীয় জোট ক্ষমতায় থাকাকালীন বরিশালের এক প্রভাবশালী বিএনপির সাংসদের প্রেস বিজ্ঞপ্তি লেখার দায়িত্বে ছিলেন প্রফেসর স.ম. ইমানুল হাকিম। তার বিরুদ্ধে পূর্বের কর্মস্থল স্বরুপকাঠী কলেজ এবং সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অর্থ আত্মসাতসহ নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বাগেরহাটের বাসিন্দা শিক্ষক স.ম. ইমানুল হাকিম ওই এলাকার প্রভাবশালী জামায়াত নেতার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তার পরিবারও জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক নগরীর একাধিক বীর মুক্তিযুদ্ধারা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের কতিপয় প্রভাবশালী নেতা মোটা অংকের টাকা উৎকোচের বিনিময়ে সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য বির্তকিত এ শিক্ষকের পক্ষে তদ্বির করেছেন। ফলে অর্থ ও তদ্বিরের কারণে যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকেরা বাদ পড়ে গেছেন।

সূত্রমতে, আগামী ২৯ জুলাই কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষের মেয়াদ শেষ হবে। তার ওই শূন্যপদে নিয়োগ পেতে আবেদন করেন উক্ত কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী নজরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক শাহ সাজেদা, নগরীর সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর স.ম. ইমানুল হাকিম ও বরিশাল সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এনায়েত হোসেন।

এ ব্যাপারে বিএম কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, একজন বীরশ্রেষ্ঠর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হিসেবে আমি মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছিলাম।

এছাড়াও আমার নাম সিলেকশন গ্রেডের প্রথম তালিকায়। আমি বিএম কলেজে নয় মাস সুনামের সাথে অধ্যক্ষের দায়িত্ব ও পাঁচ বছর ধরে উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। বিএম কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১২৬ বছরে এখানে কোন নারী অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হয়নি। দীর্ঘ ২৩ বছর আমি এই কলেজে সততা ও সুনামের সহিত শিক্ষকতা করে আসছি। আমার নেতৃত্বে এ কলেজ দু’বার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।

এছাড়া ছাত্র জীবনে আমি নিজেও চার বছর এ কলেজের ছাত্রী ছিলাম। বর্তমান সরকার সর্বক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দেয়ায় চাকরি জীবনের শেষপ্রান্তে এসে জেষ্ঠ শিক্ষকসহ একজন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠকের কন্যা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বোনজামাতা আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা হোসেন শাহ্’র কন্যা হিসেবে অধ্যক্ষ পদে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু তদ্বির ও অবৈধ অর্থের স্রোতে আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ভেসে গেছে। বরিশাল সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর এনায়েত হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একজন শিক্ষক হিসেবে বড় কলেজের অধ্যক্ষ হবার জন্য আবেদন করেছিলাম। সঠিক পন্থায় নিয়োগ দেয়া হলে আমিই নিয়োগ পেতাম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষক পরিষদের একাধিক নেতারা বলেন, নিয়োগপ্রাপ্ত বির্তকিত অধ্যক্ষ কলেজে যোগদান করলে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা যেমন ভেঙ্গে পড়বে, তেমনি একটি বিশেষ রাজনৈতিক মহল কলেজে একক আধিপত্য বিস্তার করবে। আগামী ২৯ জুলাই সদ্যনিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর স.ম. ইমানুল হাকিমের বিএম কলেজে যোগদানের কথা রয়েছে।

নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ও জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত কিংবা তদ্বির এবং উৎকোচ দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ (বিএম কলেজের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) প্রফেসর স.ম. ইমানুল হাকিম বলেন, যথা নিয়মেই কর্তৃপক্ষ বিএম কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণায়লেয়র ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা সচিব এস. মাহমুদ’র সাথে তার ব্যবহৃত (০১৫৫২-৩৭২৫২০) নাম্বারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।






মন্তব্য চালু নেই