মেইন ম্যেনু

বিকৃত যৌনাচারে বাধ্য করা হতো মডেল সাবিরাকে

মডেল সাবিরা হোসেনের (২১) আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় পুলিশের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে দায় স্বীকার করেছেন তার বয়ফ্রেন্ড নির্ঝর সিনহা রওনক (৩০)।

স্বীকারোক্তিতে তিনি সাবিরার সঙ্গে বন্ধুত্ব, প্রেম ও গভীর সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে দায় স্বীকার করেছেন।

মঙ্গলবার ভোররাতে ফেসবুকে আত্মহত্যার রেকি করার ভয়ানক একটি ভিডিও আফলোড করে আত্মহত্যা করেন সাবিরা। সাবিরা ওই ভিডিওতে আত্মহত্যার জন্য নির্ঝর তার ভাই প্রত্যয় ও পরিবারের লোকজনকে দায়ী করা হয়।

সেখানে নির্ঝরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘বিয়ের কথা বললে তোমার পরিবার সিক (অসুস্থ), আর সেক্সের প্রসঙ্গ আসলে সব ঠিক।’ এদিকে সাবিরা ও নির্ঝরের ঘনিষ্ঠ কিছু সূত্রে জানা গেছে ভয়াবহ তথ্য।

বয়ফ্রেন্ড নির্ঝর ও তার কিছু বন্ধুর মাধ্যমে বিকৃত যৌনাচারের শিকার হতেন সাবিরা। একসঙ্গে একাধিক যুবকের সঙ্গে মিলিত হওয়া, নিগ্রোদের সঙ্গে মিলিত হতে বাধ্য করাসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে বিকৃত যৌনাচার করা হয় সাবিরার সঙ্গে।

এসবে সাবিরার কতটা সম্মতি ছিল সেটা জানা যায়নি। বিকৃত যৌনাচারের ভিডিও চিত্র ধারণ করে সেগুলো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতো বলে তাদের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন। বন্ধুদের সঙ্গে অনেক রাত পর্যন্ত বাইরে আড্ডা দেয়া, অবাধে বন্ধু নিয়ে নিজ বাসায় যাওয়া, হোটেলসহ বিভিন্নস্থানে রাত কাটাত সাবিরা।

পারিবারিক কোনো শাসন বা বন্ধন না থাকায় তার এসবের প্রতিবাদ বা শাসন করারও কেউ ছিল না। বয়ফ্রেন্ডদের সঙ্গে আড্ডা, নেশার সরঞ্জাম আর সিগারেট ছিল তার নিত্যসঙ্গী। ফলে মানসিকভাবেও বিপযস্ত ছিল সাবিরা।

রূপনগর থানার ওসি সৈয়দ শহীদ আলম বলেন, বুধবার আদালতে যাওয়ার পর জবানবন্দি দিতে রাজি হননি নির্ঝর। তবে তিনি পুলিশের কাছে সাবিরার সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেম, তার সঙ্গে অবাধ মেলামেশার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
বিকৃত যৌনাচারের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, এ বিষয়ে নির্ঝর কোনো তথ্য জানায়নি। তবে ধূমপান ও নেশা করার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

তিনি জানান, সাবিরার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে বাসা থেকে বের করে দেয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেছে নির্ঝর। তাছাড়া সাবিরার মাদকদ্রব্য গ্রহণেরও কিছু প্রমাণ পেয়েছেন তারা।

সাবিরার বাবা দুবাই প্রবাসী মনির হোসেনের সঙ্গে তার মা দিলশাদ কবিরে অনেক আগেই ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। বেপরোয়া চলাফেরার কারণে পরিবারের সঙ্গেও এক রকম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সাবিরার। সাবিরার মা মোহাম্মদপুরের শেখেরটেকের ৯ নম্বর রোডের ১২/১৩ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকেন।

আর সাবিরা রূপনগরের ১২ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর বাড়ির ৬ তলায় একটি রুমে সাবলেট থাকতেন। নির্ঝর নিজের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সাবিরাকে ওই বাসাটি ভাড়া নিয়ে দেন। সাবিরা বিভিন্ন সময় মোহনা টেলিভিশন ও গান বাংলা টেলিভিশনের মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করেছেন বলে তার ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে।

সাবিরা মা দিলশাদ কাদির জানান, তার একমাত্র মেয়ে সাবিরার সঙ্গে সাঁতারকুলের লিংকরোডের ৭/১ নম্বর বাড়ির মোহন সিনহার ছেলে নির্ঝর সিনহা রওনকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন থেকে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। তাদের মধ্যে বিয়ের কথাবার্তাও চলছিল।

ছেলে-মেয়ে রাজি থাকলেও নির্ঝরের পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের বিষয়টি নাকচ করে দেয়া হয়। আর এ কারণে তার মেয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। সাবিরার আপলোড করা ভিডিও বার্তায় তাকে ‘প্রস্টিটিউট’ বলে নির্ঝরের বাসা থেকে বের করার অভিযোগও করেন সাবিরা।

তিনি পুরো ভিডিও বার্তায় এই আত্মহত্যার জন্য নির্ঝর ও তার ভাই প্রত্যয়কে দায়ী করেন। প্রত্যয়কে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।-যুগান্তর






মন্তব্য চালু নেই