মেইন ম্যেনু

বিচারক পদে ফেরা হচ্ছে না শাহিদুর রহমানের

দশ বছর আগে হাই কোর্টের অতিরিক্ত বিচারক সৈয়দ শাহিদুর রহমানকে অপসারণের যে সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতি দিয়েছিলেন, তা বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।

ওই বিচারককে অপসারণ করে রাষ্ট্রপতির দেওয়া সিদ্ধান্ত এর আগে অবৈধ ঘোষণা করেছিল হাই কোর্ট। এক আইনজীবীর করা আপিলের শুনানি করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাই কোর্টের ওই রায় বাতিল করে দিয়েছে।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ বুধবার এই রায় দেয়।

এর ফলে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তই বহাল থাকল বলে আপিলকারীর আইনজীবী ইদ্রিসুর রহমান জানান।

সৈয়দ শাহিদুর রহমান ২০০৩ সালের এপ্রিলে হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ওই বছর অক্টোবরে নাসিম সুলতানা কনা নামের এক নারী ঘুষের বিনিময়ে জামিন করানোর একটি অভিযোগ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির তখনকার সভাপতি ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদের গোচরে আনেন।

ওই বছর ১ অক্টোবর এক সভায় রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, একজন বিচারক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় তার সহকর্মী বিচারককে বলে জামিন করিয়ে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন বলে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন।

নাসিম সুলতানা কনার ওই অভিযোগ ১৪ অক্টোবর তখনকার প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানকে জানান রোকন উদ্দিন মাহমুদ। এরপর ২০ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির কাছে এ বিষয়ে একটি চিঠি দেন।

এর ধারাবাহিকতায় একই বছর ৩০ অক্টোবর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে ওই অভিযোগ তদন্ত করার নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি। সে অনুযায়ী আইন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান, বিচারপতি রুহুল আমিন ও বিচারপতি মো. ফজলুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বিষয়টি তদন্ত করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিবেদন দেন। ২০০৪ সালের ২৬ জানুয়ারি ওই প্রতিবেদন দেওয়া হয় বলে গণমাধ্যমে খবর আসে।

এতে বলা হয়, বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি; তবে তথ্যপ্রমাণে এটাও বলা যাচ্ছে না যে এ অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে শাহিদুর রহমানের দায়িত্ব পালন করা উচিৎ নয় বলেও প্রতিবেদনে মত দেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২০ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৬ (৬) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে শাহিদুর রহমানকে অতিরিক্ত বিচারকের পদ থেকে অপসারণ করেন।

এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শাহিদুর রিট আবেদন করলে হাই কোর্ট রুল দেয়। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির ওই সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্ট।

এরপর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইদ্রিসুর রহমান ওই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন। আপিল বিভাগ ২০০৫ সালের ২৫ এপ্রিল লিভ হাই কোর্টের রায় স্থগিত করে আপিলের অনুমতি দেয়।

ওই আপিলের ওপর ৫ কার্যদিবস শুনানি শেষে গত ১৮ অগাস্ট আপিল বিভাগ বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখে।

আদালতে আপিলকারী পক্ষে শুনানি করেন ড. কামাল হোসেন, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। শাহিদুর রহমান নিজের পক্ষে নিজেই শুনানি করেন।

রায়ের পর ইদ্রিসুর রহমান বলেন, “বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি এবং সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতেই লিভ টু আপিল করেছিলাম। আপিল বিভাগ তা মঞ্জুর করেছেন।”






মন্তব্য চালু নেই