মেইন ম্যেনু

বিচারপতিদের ওপর ‘নগ্ন আগ্রাসন’ চালাতে চায় সরকার

বিচারপতিদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ও তাদের ওপর নগ্ন আগ্রাসন চালাতেই তাদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে সরকার তুলে দিতে চায় বলে মনে করছে বিএনপি।

ওই আইন পাস হলে স্বাধীন বিচারকার্য পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি হবে এবং মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে বলেও মত দিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (৫ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এটি পাসের মাধ্যমে সরকার পুরোপুরি বিচারপতিদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটিই ভীতিকর। চাপ সৃষ্টির জন্যই এটি করা হচ্ছে। বিচারপতিরা যেন সরকারের ইচ্ছামতো কাজ করে সেজন্যই এই আইন করা হচ্ছে। এই আইন কার্যকর হলে ন্যায়বিচার শিকেয় উঠবে।’

বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের ওপর ন্যস্ত হলে ‘ভোটারবিহীন’ এ সরকার বিচারব্যবস্থাকে বিরোধী দলসহ গণমাধ্যম ও গণতন্ত্রে স্বীকৃত সকল অধিকারকে আরো নিষ্ঠুরভাবে দমন করতে সক্ষম হবে বলেও মত দেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘ভোটারবিহীন সরকার প্রধানের ক্ষমতার প্রতি নিবিড় নিবিষ্ট ধ্যানকে কেউ যেন নাড়া দিতে না পারে সেইজন্যই এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ চলছে।’

‘সম্প্রতি ভোটারবিহীন সরকারের তিন জন মন্ত্রী উচ্চ আদালতে দণ্ডিত হওয়ায় সরকারের মধ্যে একধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আর সে কারণেই তড়িঘড়ি করে বিচারপতিদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতেই এই নতুন আইন পাস হতে যাচ্ছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে। ইতোমধ্যে এ নিয়ে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, এখন তা সংসদে পাশ করার প্রক্রিয়া চলছে’ বলেন বিএনপির শীর্ষ এ নেতা।

রিজভীর শঙ্কা, বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণের এই আইন পাস করা হলে সংবিধানের সর্বশেষ স্তম্ভটুকুও বিলীন হয়ে যাবে।

দুঃখ প্রকাশ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সরকার জনপ্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকল সংস্থায় নিজেদের লোক বসিয়ে সবকিছুকে আওয়ামীকরণ করায় একদলীয় শাসনের নির্মম যাঁতাকলে দেশবাসী পিষ্ট হয়ে হাহাকার করছে। একতরফা শাসন কায়েম করতে গিয়ে সকল সেক্টরকে ধ্বংস করা হয়েছে।’

বিচার বিভাগকে আয়ত্তে নিয়ে দুঃশাসনকে দৃঢ়ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করাই সরকারের উদ্দেশ্য বলে মনে করেন তিনি।

সরকারের এ ধরনের ‘ঘৃণ্য’ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিচারপতি অপসারণ আইন পাস করা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান বিএনপির এ নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুন-অর রশিদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, এস এম আশরাফুর রহমান আশরাফ, যুবদলের কেন্দ্রীয় সদস্য গিয়াস উদ্দিন মামুন প্রমুখ।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই