মেইন ম্যেনু

বিচারপতি নিজামুল হককে বিদায়ী সংবর্ধনা

অবসরে গেলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম। মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) তার শেষ কর্মদিবসে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এ বিচারপতিকে বিদায় সংবর্ধনা দেন। এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। আজ (১৪ মার্চ) তার ৬৭ বছর পূর্ণ হলো।

আপিল বিভাগের ২নং এজলাসে বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে দিবসের কার্যক্রম শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ন ও সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন তাকে বিদায় সংবর্ধনা দেন।

বিদায় সংবর্ধনা পেয়ে বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, ২০০৩ সালে আমি সহ কিছু বিচারককে হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়নি। সেই অন্যায় অবিচারের কারণে আমরা ক্ষণিকের জন্য বঞ্চিত হলেও তা স্থায়ী হয়নি। বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এক রিটে হাইকোর্ট আমাদের নিয়োগ দেয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেন। এরপর আপিল বিভাগ কিছু সংশোধনী এনে হাইকোর্টের ওই রায় বহাল রাখে। ওই মামলার আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যেসব আইনজীবী জড়িত তাদের সাধুবাদ জানাই।

তিনি আরও বলেন, ৪০ বছরের অধিক সময় আমি আইন পেশায় জড়িত। সত্য ও ন্যায় নিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করে আসছি। ভবিষ্যতেও করব।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, বিচারপতি নিজামুল হক আইনজীবী হিসেবে একজন মানবাধিকার কর্মী ছিলেন। অবসরে গিয়েও তিনি মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে যাবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

১৯৫০ সালের ১৫ মার্চ বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম পটুয়াখালীতে জন্ম গ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৭৯ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং পরে ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

২০০১ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। কিন্তু দুই বছর তিনি স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাননি। এ বিষয়ে এক রিট আবেদনের পর উচ্চ আদালত তাকে নিয়োগের নির্দেশ দেন এবং ২০০৯ সালের ২৫ মার্চ হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক হিসেবে শপথ নেন।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি নিজামুল হক। পরে জিয়াউদ্দিন নামের বেলজিয়াম প্রবাসীর সঙ্গে স্কাইপিতে কথোপকথনের অভিযোগ ওঠার পর ২০১২ সালের ১১ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।

আবারও ফিরে আসেন হাইকোর্টে। হাইকোর্টে আসার পর সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান হন তিনি। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে শপথ নেন বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম। তার এ অবসরে আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা কমে দাঁড়ালো সাতজনে।






মন্তব্য চালু নেই