মেইন ম্যেনু

বিচার না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের দেহ সৎকার করবেন না বাবা-মা

সন্তানের মায়া একমাত্র বাবা-মা-ই বোঝেন। অকালে সন্তান চলে যাওয়াটা মেনে নিতে পারেন না বাবা-মা।

মেয়ের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না ভারতের উত্তর প্রদেশের কনৌজের এক দম্পতি। মেয়ের সঙ্গে অন্যায়ের বিচার চান তারা। যতদিন সেই বিচার মিলবে না ততদিন পর্যন্ত মেয়ের দেহ সৎকার করবেন না বলে পণ করেছেন তারা।

এতে কেটে গেছে এক মাস। এই এক মাসে যেন গোটা পৃথিবীটাই ভেঙে পড়েছে কনৌজের বাসিন্দা বিষম্বরসিংহ যাদবের।

কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি এবং তার স্ত্রী। মেয়ে ঋতুর দেহ বাড়ির মধ্যে একটি ৫ ফুট গভীর গর্তে ফুলের মধ্যে রেখে দিয়েছেন।

প্রতিদিন সমানে দেশি ঘি আর আয়ুর্বেদ তেল, আতর দিয়ে দেহকে ভিজিয়ে রাখছেন। বিষম্বর ও তার স্ত্রীর দাবি, এভাবে তারা তাদের একমাত্র সন্তান ঋতুর দেহকে পচনের হাত থেকে রক্ষা করছেন।

১ মাস আগে গ্রেটার নয়ডায় ৭ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন ঋতু যাদব। গ্রেটার নয়ডা পুলিশ একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করে।

পুলিশ তদন্তে জানায়, গ্ল্যাগোটিয়াস ইউনিভার্সিটির বি-টেক পড়ুয়া ঋতুর বিরুদ্ধে ‘শপ লিফিটিং’-এর অভিযোগ এনেছিলেন এক দোকানদার। সেই থেকে হতাশায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

যদিও ঋতুর বাবা এবং কেউ এ অভিযোগ মানতে রাজি নন। তাদের অভিযোগ, বাড়ির লোক পৌঁছনোর আগেই পুলিশ ঋতুর ময়নাতদন্ত করে।

ঋতুর বাবা বিষম্বরের অভিযোগ, ঋতু সাততলা থেকে পড়লেও শরীরের কোথাও কোনো হাড় ভাঙেনি। মাথার পেছনে যে আঘাত আছে তা সামান্য।

এত উঁচু থেকে পড়লে আঘাত আরও গুরুতর হওয়ার কথা। কিন্তু পুলিশ তার কোনও কথাই শুনছে না বলে অভিযোগ বিষম্বরের।

মেয়ে দোকান থেকে জিনিস চুরি করেছিল এটা মানতে রাজি নন বিষম্বর। তার অভিযোগ, সুইসাইড নোটের কোথাও ‘শপ লিফটিং’-এর কথা লেখা নেই।

বরং সেখানে ঋতু জানিয়েছে, বিয়ারের বোতল দিয়ে তাকে মাথায় আঘাত করা হয়েছিল। মেয়ের রহস্য মৃত্যুতে মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

ঋতুর মৃত্যুর সুবিচার না দেয়া পর্যন্ত তারা দেহ দাহ করবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন।






মন্তব্য চালু নেই