মেইন ম্যেনু

বিছানায় আমি যাকে খুশি নেব, তুমি চলে যাও…

স্ত্রীকে তার নিজের ঘরে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখার পর স্বামী চরম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে এমন কথা বলতে থাকেন স্ত্রী। তাচ্ছিল্য সহকারে স্বামীকে আরো বলেন, ‘আমার বাড়িতে আমি যাকে ইচ্ছা তাকে নিয়ে থাকব। তাতে তোমার কি? তোমার ভালো লাগলে এসো। না লাগলে এসো না।’

স্ত্রীর কথা শুনে মাথায় আগুন ধরে যায় স্বামীর। এক পর্যায়ে লোহার পাইপ দিয়ে স্ত্রীর মাথায় আঘাত করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনা ঘটেছে বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরের ধুনট মোড় এলাকায় খন্দকারটোলা মহল্লায়।

নিহত গৃহবধূর নাম শারমিন আকতার তনি (২৮)। তিনি শেরপুর উপজেলার খন্দকারটোলা মহল্লার জনৈক ব্যক্তির মেয়ে। ঘাতক স্বামীর নাম আব্দুল মতিন (৩২)। তিনি একই উপজেলার তাতড়া গ্রামের বাসিন্দা ও দুই সন্তানের বাবা। তার নির্দিষ্ট কোনো পেশা না থাকায় হেরোইন আসক্ত হয়ে পড়েন। স্ত্রীর সঙ্গে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।

গত ২২ এপ্রিল রাতে স্ত্রীকে হত্যার পর উধাও হয়ে গিয়েছিল মতিন। পরদিন থানায় মামলা দায়ের হয়। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে শনিবার (১৪ মে) তাতড়া গ্রামে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পরে স্বীকাররোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার করেন।

মামলার নথি ও পুলিশ জানায়, গত ২২ এপ্রিল রাতে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থানকালীন স্ত্রী শরামিন আক্তারকে গলাকেটে হত্যা করেন মতিন। এরপর দুই সন্তানকে তাতড়া গ্রামে বাবা-মার কাছে রেখে আত্মগোপন করেন। এতোদিন ধরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। শনিবার ভোরে মতিন তার সন্তানদের দেখতে তাতড়া গ্রামে এলে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।

বগুড়া জেলা পুলিশের মিডিয়াসেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান জানান, পরকীরার কারণে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে গ্রেপ্তারকৃত মতিন। প্রাথমিক জবানবন্দীতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করে আসছিল সে। নির্দিষ্ট পেশা না থাকায় এক পর্যায়ে হেরোইন আসক্ত হয়ে পড়ায় তার স্ত্রী শারমিন আকতার প্রতিবেশী এক ট্রাক ড্রাইভারের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। মতিন বিষয়টি বুঝতে পেরে হাতে নাতে স্ত্রীকে ধরার সুযোগ খুঁজতে থাকে।

এক পর্যায়ে গত ২২ এপ্রিল রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে রাতে না ফেরার কথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় মতিন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাসায় ফিরে স্ত্রীকে ওই ট্রাক ড্রাইভারের সঙ্গে ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায়। এসময় ট্রাক ড্রাইভার দৌড়ে পালিয়ে গেলে মতিন তার স্ত্রীর কাছে ব্ষিয়টি জানতে চায়। এসময় শারমিন আকতার বলে, ‘আমার বাড়িতে আমি যাকে ইচ্ছা নিয়ে থাকব। তাতে তোমার কি? তোমার ভালো লাগলে এসো। না লাগলে এসো না’।

একথা শোনার পরে মতিন প্রচণ্ড রেগে গিয়ে লোহার পাইপ দিয়ে স্ত্রীর মাথায় আঘাত করে। এতে স্ত্রী মাটিতে পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে মতিন তার ঘরে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রীর গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। সকালে তার দুই সন্তানকে নিয়ে তাঁতড়া গ্রামে চলে যায়। সেখানে তার বাবা-মার কাছে সন্তানদের রেখে সে আত্মগোপন করে।






মন্তব্য চালু নেই