মেইন ম্যেনু

বিজিএমইএর নেতার বিরুদ্ধে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মঈন উদ্দিন আহমেদ মিন্টুর বিরুদ্ধে আপন ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় ধর্ষিতাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাপসাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সার্ভিস সেন্টারে চিকিৎসার পাশাপাশি হালিশহর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

২৮ জানুয়ারি দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নগরীর হালিশহর থানার পূর্ব রামপুর এলাকার নিজ বাসায় এ ঘটনায় ঘটে। তবে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী নেতাকে আসামি করে তার ছোটভাই এমএন গ্রুপের এমডি মহিউদ্দিন আহমেদ পিন্টু হালিশহর থানায় অভিযোগটি দায়ের করেছেন শনিবার বিকেলের দিকে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হালিশহর থানার ওসি আহসানুল ইসলাম বাংলামেইলকে বলেন, ‘বিজিএমইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মঈন উদ্দিন আহমেদ মিন্টুর বিরুদ্ধে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ধর্ষণ করার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্ট ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহণ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

মামলার অভিযোগ ও পুলিশ সূত্র জানা যায়, হালিশহর থানার পূর্ব রামপুরের মনির আহমেদ চেয়ারম্যানের দুই ছেলে বিজিএমইএর সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন আহমেদ মিন্টু ও তার ছোট ভাই এনএম গ্রুপের এমডি মহি উদ্দিন আহমেদ পিন্টু পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। গত ২৮ জানুয়ারি পোশাক ক্রেতাদের সাথে ঐকটি বৈঠক শেষে বাড়ি আসতে দেরি হওয়ার সেই সুযোগে পিন্টুর স্ত্রীকে নিজ কক্ষে ধর্ষণ করেন বড় ভাই মিন্টু। এসময় পাশের রুমে ছিলেন এ লেভেল পড়ুয়া পিন্টুর একমাত্র মেয়েটিও।

মামলার বাদি ব্যবসায়ী পিন্টু রাতে বাসায় এসে অনেক ডাকাডাকির পরও নিজের কক্ষের দরজা বন্ধ পেয়ে বাড়ির সবাইকে ডেকে আনেন। এক পর্যায়ে পিন্টু দরজা খুলতে সক্ষম হলে কক্ষে প্রবেশ করে তার স্ত্রী এনএম গ্রুপের চেয়ারম্যানকে তারই বড় ভাই বিজিএমইএ নেতা মিন্টু ধর্ষণ করেছেন বলে জানতে পারেন। এরপর তাকে উদ্ধার করে ওইদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করানো হয়। পরে হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের ইনচার্জ এস আই সুভাষ ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে ধর্ষণের আলামত পেয়ে শনিবার বিকেলে মামলা করার পরামর্শ দেন ভিকটিমের স্বামীকে। এরপর ভিকটিমের স্বামী পিন্টু আপন ভাইকেব আসামি করে হালিশহর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মানবধিকার ফাউন্ডিশন চট্টগ্রাম মহানগর শাখার প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম বলেন, ‘এই ধরণের একটি অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি এবং ভিকটিমকে আইনী সহায়তা দেব।’

তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মঈন উদ্দিন আহমেদ মিন্টু বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমার টাকা ও সুনামের ওপর হিংসাপরায়ন হয়ে আমার ছোট ভাই পিন্টু এসব করছে। এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট সুনামহানির জন্য ছাড়া কিছুই নয়।’

তিনি যুক্তি দিয়ে আরো বলেন, ‘তাদের বিয়ের বয়স ২০ বছর হচ্ছে। এরমধ্যে গত ৮ বছর আগে পিন্টু অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে যাকে নিয়ে এই অভিযোগ সেই হাবিবাকে ফেলে চলে যায়। তখন আমিই তার এই হাবিবাকে নিজের বোনের মত করে লালন পালনের পাশাপাশি তাদের সব কিছুর দায়িত্ব নিয়েছি। তার এ লেভেল পড়ুয়া মেয়েকেও নিজের মেয়র মত করে লেখাপড়া খরচ দিয়েছি। এতোদিন আমরা একসাথে একই ঘরে মিলেমিশে থাকলেও কোনো বদনামি হয়নি। হঠাৎ করেই কেনই বা আমার নামে এই মিথ্যা রটনা সাজানো হচ্ছে তা বুঝতেছি না। কেউ কেউ আমাকে ফোন করে টাকা এক কোটি, দেড় কোটি টাকা দাবি করে সমঝোতা করার কথা বলছে। এখানে ধর্ষণ করলেই না সমঝোতা করার প্রশ্ন আসবে।’






মন্তব্য চালু নেই