মেইন ম্যেনু

বিজিবি-বিজিপির পতাকা বৈঠক আজ

বাংলাদেশি দুই কাঠুরিয়া নিখোঁজের ঘটনায় বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিজিপির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ (বুধবার)।

বাংলাদেশ সীমান্তের নাইক্ষ্যংছড়ির আশারতলীর ৪৬ ও ৪৭ নম্বর সীমানা পিলারের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে গত ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশি দুই কাঠুরিয়া নিখোঁজের ঘটনায় এই পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে বাংলামেইলকে জানিয়েছেন বিজিবি কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল এম এম আনিসুর রহমান।

তিনি জানান, বুধবার সকাল ১০টায় বান্দরবান জেলারর নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের বিজিবির বিওপি ক্যাম্পে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে এ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে বিজিবি কক্সবাজার ১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকারের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করবেন।

এদিকে নাইক্ষ্যংছড়িতে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি কাঠুরিয়া পরিবারের দাবি, মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির সদস্যরা গুলি করে হত্যার পর তাদের লাশ নিয়ে গেছে।

নিখোঁজেরা হলেন- নাইক্ষ্যংছড়ির আশারতলী গ্রামের মীর কাশেমের ছেলে ছৈয়দ আলম (৪৫) ও মোহাম্মদ হোছাইন কেরানীর ছেলে জয়নাল আবেদীন (৩০)।

কিন্তু বিজিবিসহ সংশ্লিষ্টরা বিষয়টির ব্যাপারে প্রথম থেকে নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের কিছুই জানাতে পারেননি। তবে এ নিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির কাছে চিঠি পাঠানো হলেও এ ঘটনা অস্বীকার করে আসছে বিজিপি।

নাইক্ষ্যংছড়ির সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নূর হোসেন নিখোঁজ কাঠুরিয়া পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে বাংলামেইলকে জানান, গত ১৪ ডিসেম্বর সকালে নাইক্ষ্যংছড়ির আশারতলীর সীমান্তবর্তী জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি বাংলাদেশের অভ্যন্তর এলাকায় কাঠ সংগ্রহে যান নিখোঁজ জয়নাল আবেদীনসহ বাংলাদেশি তিন কাঠুরিয়া। কাঠ সংগ্রহের এক পর্যায়ে মিয়ানমারের বিজিপির সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে। এসময় অক্ষত অবস্থায় একই এলাকার আমান উল্লাহ ও নুরুল আমিন ফিরে এলেও তখন থেকে জয়নালের কোনো খোঁজ নেই। তার পরিবারের দাবি, বিজিপির সদস্যরা তাকে গুলি করে হত্যার পর লাশ নিয়ে গেছে।

ফিরে আসা মোহাম্মদ আলমের বরাত দিয়ে তিনি আরো জানান, এর পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ির আশারতলী সীমান্তের ওই এলাকায় নিখোঁজ জয়নালের সন্ধানে গিয়েছিলেন একই এলাকার ছৈয়দ আলম (৪৫) ও মোহাম্মদ আলম (২৮)। ওই দিনও মিয়ানমারের বিজিপির সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ ঘটনার পর নুরুল আমিন ফিরে এলেও ছৈয়দ আলম নিখোঁজ রয়েছন। এ নিয়ে হত্যার পর ছৈয়দ আলমের লাশ বিজিপির সদস্যরা নিয়ে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। যদিও বিজিবিসহ সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।

এ ব্যাপারে বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল এম এম আনিসুর রহমান জানান, সীমান্তে দুই বাংলাদেশি কাঠুরিয়া নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিজিবির সদস্যরা সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালায়। তবে গুলি করে হত্যা করার কোনো আলামত পাওয়া না গেলেও বিজিবির পক্ষ থেকে বিজিপির কাছে বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়। পরে চিঠির প্রতিউত্তরে বুধবার বিষয়টি নিয়ে দু’দেশের সীমান্তবর্তী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়।






মন্তব্য চালু নেই