মেইন ম্যেনু

বিজ্ঞান শিক্ষা জোরদার করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে তার সরকার শিক্ষা, গবেষণা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ যদি আমরা গড়তে চাই তাহলে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হচ্ছে শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, গবেষণা বাড়ানো এবং বিজ্ঞানের চর্চা বৃদ্ধি করা।’

তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যেই আমরা বায়ো-টেকনোলজিক্যাল সায়েন্স, মেডিকেল সায়েন্স, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপলায়েড সায়েন্স এবং খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনে গুরুত্ব প্রদান করেছি।

‘যে কারণে আমরা আমরা আজ খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত দেশ, মৎস উৎপাদনে (মিঠা পানির মাছ) উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছি। সবজি উৎপাদনে তৃতীয় এবং মাংসসহ অন্যান্য উৎপাদনেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি’, উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এসব উন্নয়নগুলো এমনিতেই হয়নি, আমি বলবো সবই বিজ্ঞানের অবদান, গবেষণার অবদান।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থার বিজ্ঞানী ও গবেষকদের এবং মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, এনএসটি ফেলোশিপ ও বিশেষ অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আফম রুহুল হক। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সিরাজুল হক খান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। এ বছর ১৭০২ জন শিক্ষার্থীকে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, এনএসটি ফেলোশিপ এবং গবেষণা অনুদান প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সরকারের শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তা, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ, দেশবরেণ্য গবেষক ও বিজ্ঞানী এবং ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই সবাই এই গবেষণার কাজ আরো মনযোগের সাথে করবেন। যারা সত্যিই গবেষণা করে কোনো ফলাফল জাতিকে দিতে পারবেন তাদের জন্য আমাদের চিন্তা-চেতনাতেই আছে আরো বেশি সহযোগিতা করে যাওয়া। আমরা তা করে যাব।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সীমিত সম্পদ এটা ঠিক। কিন্তু আমি মনে করি, পরিকল্পিতভাবে সীমিত সম্পদ যদি আমরা ব্যবহার করতে পারি এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে এটার ব্যবহার যদি নিশ্চিত করতে পারি তাহলে আমাদের কারো মুখাপেক্ষী হয়ে চলতে হবে না। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে মাথা উঁচু করে বিশ্বসভায় এগিয়ে যাব। এটাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, একটি লক্ষ্য স্থির না থাকলে দেশ উন্নত হতে পারে না। ২০০১ সালে যখন আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবো, ওই সময়ের মধ্যে আমরা দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ২০১৪ সালে যে নির্বাচনী ইস্তেহার দিয়েছিলাম সেখানে আমরা ঘোষণা করেছিলাম- ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ।

আমরা ইতিমধ্যে পরমাণু যুগে প্রবেশ করেছি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্পটি বহুকাল ধরে অবহেলিত ছিল, কিছুতেই কাজে লাগানো যাচ্ছিল না, এখন সেখানে আমরা পা দিচ্ছি। এজন্য আমাদের প্রচুর বিজ্ঞানী দরকার। পরমাণু শক্তি কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য পরমাণু জ্ঞানসম্পন্ন বিজ্ঞানীদের আমাদের দরকার হবে। এজন্য প্রশিক্ষণও দরকার, এই কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেন এই বিজ্ঞান শিক্ষার দিকে ভবিষতে এগিয়ে আসে। তারাই এগুলো পরিচালনা করতে পারবে। সেদিকে আমরা দৃষ্টি দিতে চাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যানো টেকনোলজি এখন এসেছে, সেটাও আমাদের চিকিৎসা সেবা থেকে শুরু করে বহুকাজে এর ব্যবহার হয়। কাজেই সেদিকেও আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিয়েছি এবং সেটা কতটা ব্যবহার করা যায় ও কাজে লাগানো যায় তা অবশ্যই আামরা দেখবো। আমরা বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি।

তিনি এ সময় জাতির পিতার সমুদ্রসীমানা আইন এবং সীমানা চুক্তি করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, জাতির পিতা দেশ স্বাধীনের পর মাত্র ৯ মাসে একটা সংবিধান উপহার দিয়ে নাগরিকদের জন্য সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেন। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার ফাঁকে ভবিষ্যতে প্রতিবেশির সঙ্গে যেসব বিষয়ে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে তিনি সেসব চুক্তিও সম্পাদন করে যান।

মিয়ানমার এবং ভারতের সঙ্গে সমুদ্রবিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা করায় বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশিতে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে এবং ‘ব্লু ইকোনমি’র দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে, উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সমুদ্র গবেষণায় জাহাজ সংগ্রহসহ ‘সি অ্যাকুরিয়াম’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্র সম্পদ গবেষণার জন্য আমাদের একটি সি অ্যাকুরিয়াম প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। কারণ বার বার সাগরে নেমে গবেষণা করা যাবে না। আর জাহাজ কেনারও আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই আমরা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বিজ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে দেশকে উন্নতির লক্ষ্যে তার সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে বলেন, ‘বিজ্ঞানকে নানাভাবে ব্যবহার করা এবং বিজ্ঞানের মধদিয়েই আমরা দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করতে পারি। সে লক্ষ্য বাস্তবয়নেই আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের ছেলে-মেয়েরা মনযোগ দিয়ে লেখাপড়া করবে সেজন্য অনেক দায়িত্ব আমরা নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছি। ২০১০ সাল থেকে আমরা মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বছরের প্রথম দিন বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করছি। চলতি বছর ৪ কোটি ২৬ লাখ ৫৩ হাজার ৯২৯ জন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। গত আট বছরে সর্বমোট ২২৫ কোটি ৪৩ লাখ ১ হাজার ১২৮টি বই বিতরণ করা হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে ৩১ হাজার ১৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের মাধমে উচ্চশিক্ষা খাতসহ সরকারের বৃত্তি, উপবৃত্তি প্রদানের বৃত্তান্ত তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় নিজ নিজ এলাকার বিত্তবানদের স্কুলগুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম তৈরি, সাইন্সল্যাব প্রতিষ্ঠাসহ বিদ্যালয় আধুনিকীকরণে সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান।

বিজ্ঞানমনষ্ক জাতি গঠন, বিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণা উন্নয়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মরণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ‘বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ অন সাইন্স অ্যান্ড আইসিটি’ প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার ও ইনস্টিটিউটে পরিচালিত গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা, বিশেষ করে এমএস এবং পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনের মাধ্যমে আমাদের জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ ও বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও গবেষক তৈরিই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত বিদেশে ৫০ জন এমএস ও ৬০ জন পিএইচডি এবং দেশে ১০০ জন পিএইচডি ও ১১ জন পিএইচডি-উত্তর গবেষণায় ফেলোশিপ প্রদানের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ইতিমধ্যে বিদেশে এমএস কোর্সে ৩৭ জন ও পিএইচডি কোর্সে ৩০ জন এবং দেশে পিএইচডিতে ৩৮ জন এবং পিএইচডি-উত্তর কোর্সে ৮ জন শিক্ষার্থী/গবেষক গবেষণা কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষে যাতে ফেলোশিপ কর্মসূচি অব্যাহত রাখা যায়, সেজন্য গঠন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ ট্রাস্ট।

‘বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ ছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশ সাধনের লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট-বিষয়ে এমএস, এমফিল, পিএইচডি ও পিএইচডি-উত্তর পর্বের ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকদের মধ্যে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ প্রদান করা হচ্ছে’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৯০১ জন ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকের মধ্যে ৩৭ কোটি ৫১ লাখ ৮৯ হাজার টাকার ফেলোশিপ প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান অর্থবছরে ১ হাজার ৭০২ জন ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষককে ৯ কোটি ৯১ লাখ ১৭ হাজার টাকা ফেলোশিপ প্রদান করা হচ্ছে।

বিজ্ঞান গবেষণায় সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফেলোশিপের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন কাজে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা প্রদানের লক্ষ্যে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের গবেষণা অনুদান প্রদান করা হচ্ছে। জ্ঞানভিত্তিক ও বিজ্ঞাননির্ভর সমাজ গঠনে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে আমার বিশ্বাস।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষাখাতে সরকারের বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৯-২০১০ অর্থবছর থেকে চলতি অর্থবছর পর্যন্ত ১ হাজার ৭৫৩টি প্রকল্পের অনুকূলে ৬৮ কোটি ৯৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা গবেষণা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান অর্থবছরে ৩৯৫টি প্রকল্পের বিপরীতে ১১ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে।

আমাদের সকল কর্মসূচির মূল লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ উল্লেখ করে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোন প্রকল্প বা কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমাদের ঐ মূল লক্ষ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নতুন লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে।

দেশে বিজ্ঞান গবেষণায় অতীতের দুরাবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২১ বছর পর আওয়াম লীগ সরকার গঠনের পর দেখলাম গবেষণার জন্য একটি টাকাও খরচ করা হতো না।

তিনি বলেন, আমরাই সর্বপ্রথম ১২ কোটি টাকা অনুদান ধার্য করেছি বিজ্ঞান গবেষণার জন্য। স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র-ছাত্রী অত্যন্ত কম ছিল। ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার আইন পাশ করেছি।

একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য না থাকলে দেশ কখনও উন্নত হতে পারে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় ধান ও খাদ্য গবেষণায় গুরুত্ব দিয়েছিলাম বলেই আজ বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে।

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বিশ্বব্যাপী একটি নতুন উপসর্গ শুরু হয়েছে- জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস এবং মাদকাসক্তি। এর বিরুদ্ধে সবাইকে জনমত সৃষ্টি করার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি। আমাদের ছেলে-মেয়েরা অত্যন্ত মেধাবী, শুধু দেশে নয়, যারা বিদেশে লেখাপড়া করছে তারাও মেধার দৃষ্টান্ত রাখছে। কাজেই এরা যেন কেউ বিপথে না যায়। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের সঙ্গে যেন না জড়ায় সেদিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়ার জন্য আমি শিক্ষক, অভিভাবক থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে যদি আপনারা সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারেন, তাহলে আমরা নিশ্চয়ই দেশকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদমুক্ত রাখতে সক্ষম হব। তা ছাড়া আমাদের সরকার এ ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না। এসবের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নেব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা বিজয়ী জাতি, এটা সব সময় আমাদের মনে রাখতে হবে। কাজেই আমরা কোনো সময় পিছিয়ে যেতে পারি না। আমরা কারো অনুগ্রহ, অনুকম্পা নিয়ে নয়, মাথা উঁচু করে বিশ্বসভায় চলবো।

শেখ হাসিনা তার রুপকল্প-২০২১ অনুযায়ী ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তথ্যসূত্র : বাসস






মন্তব্য চালু নেই