মেইন ম্যেনু

বিদ্যুৎ খরচ কম, এসির মতো ঘর ঠাণ্ডা রাখে নতুন এই যন্ত্র

আদতে কুলার, কাজ করে রেফ্রিজারেটরের মতো। যেকোনো এসি মেশিনের তুলনায় ১০% মোট বিদ্যুত্‍ ব্যবহার করেই ঘর ঠাণ্ডা রাখতে পারে এই যন্ত্র। একইসঙ্গে কমিয়ে ফেলে আর্দ্রতার পরিমাণ।

মধ্যবিত্তের পকেটদুরস্ত ঘর ঠাণ্ডা করার যন্ত্র বানিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছেন ইন্দোরের দম্পতি প্রণব ও প্রিয়াঙ্কা মোক্ষমার। রেফ্রিজারেট, কুলার ও এসির প্রযুক্তি সংমিশ্রণে অসাধ্য সাধন করেছেন তারা। বাজারে তাদের আবিষ্কার ‘বায়ু হাইব্রিড চিলারের’ চাহিদা ক্রমে বাড়ছে।

কীভাবে তৈরি হলো এই যন্ত্র, জানাল টাইমস অব ইন্ডিয়া।

দীর্ঘ ১৪ বছর এয়ার কন্ডিশনার মেরামতির ব্যবসা সামলেছেন প্রণব মোক্ষমার। জানিয়েছেন, বাড়িতে নিজের অফিসঘরে বহুক্ষণ এসি চালিয়ে রাখার কারণে মাসের শেষে মোটা বিদ্যুত বিল দিতে হত।

সমস্যার সমাধানে এসি সরিয়ে কুলার নিয়ে আসা হয়। কিন্তু তাতে ঘরের ভেতর তাপমাত্রা বড় জোর ৫ ডিগ্রি হ্রাস পেত। বিষয়টি নিয়ে বেশকিছু দিন ভাবনা-চিন্তা-পরীক্ষার পর এমন

এক কুলিং মেশিন বানানোর পরিকল্পনা করেন প্রণব, যা কম খরচে ঘর ঠান্ডা রাখতে পারে।

সেই চিন্তা-ভাবনারই ফসল বায়ু হাইব্রিড চিলার। প্রণবের জানিয়েছেন, রেফ্রিজারেশন পদ্ধতিতে এসিতে ব্যবহৃত কম্প্রেসর ও কনডেন্সারের সাহায্যে কাজ করে এই যন্ত্র। সুইচ অন করার পর কম্প্রেসর থেকে একটি রেফ্রিজারেন্ট কনডেন্সারের কুলিং তারের সাহায্যে কুলারের ভেতরে থাকা জলের তাপমাত্রা নামিয়ে দেয়।

একইসঙ্গে কনডেন্সার রেফ্রিজারেন্টটি ঠাণ্ডা করে আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে। এরপর একটি পাম্পের সাহায্যে কুলারের ভেতরে থাকা প্যাডে ঠাণ্ডা জল পৌঁছে যায়। একটি থার্মোস্ট্যাট তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। বরফ জমে গেলে তার সাহায্যেই কম্প্রেসরটি সুইচ অফ হয়ে যায়। ঠাণ্ডা জলের সংস্পর্শে কুলার থেকে বের হওয়া বাতাসের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।

এ প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র বরফ তৈরির জন্যই কম্প্রেসর ব্যবহার করা হয়। সাধারণ এসির ক্ষেত্রে যা একেবারে আলাদা। এসিতে কম্প্রেসর-কনডেন্সর সাইকেল অবিশ্রাম চালিত হয়।

প্রিয়াঙ্কার দাবি, ২০০ বর্গ মিটার এলাকা ঠাণ্ডা করতে ২ টনের এসি মেশিনের প্রয়োজন হয়, যা চালাতে ২৫০০ ওয়াট বিদ্যুত্‍ খরচ হয়। ওই একই এলাকা ঠাণ্ডা রাখতে বায়ু হাইব্রিড চিলার খরচ করে মাত্র ২৫০ ওয়াট বিদ্যুত্‍। শুধু তাই নয়, সাধারণ কুলারে বার বার জল ভরতে হলেও রিভার্স অসমোসিস প্রক্রিয়ায় বাড়ির জলের কল থেকে বায়ু প্রয়োজন মতো জল নিজেই টেনে নেয়।

প্রকল্প তৈরির পর পেটেন্ট জোগাড় করতে সময় লেগেছে ২ বছর। ২০১৪ সালে নিজের চাকরি ছেড়ে স্বামীর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা মোক্ষমার। এরপর ফাইন্যান্স জোগাড় করে নিজেদের আবিষ্কৃত চিলার বিপণনে মন দিয়েছেন দম্পতি।

বর্তমানে মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় তাদের সংস্থার বেশ কয়েকটি শো-রুম খোলা হয়েছে। হু হু করে বাড়ছে বায়ুর চাহিদা। দামেও বাজারচলতি এসি মেশিনের চেয়ে অনেক কম এই যন্ত্র। দাম শুরু হচ্ছে ২২,৫০০ টাকা থেকে।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই