মেইন ম্যেনু

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন অনেকেই!

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে নানা কারণে বাদ পড়ছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। সেইসঙ্গে বাদ পড়ার তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিএনপির বিকল্প তথা স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। এতে করে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেশ কয়েকটি পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচিত হতে পারেন।

শনিবার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের প্রথম দিনে ফেনী, চাঁদপুর, কুমিল্লা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, পাবনা, কুড়িগ্রাম, পশুরাম পৌরসভায় বিএনপি মনোনীত এবং বিকল্প প্রার্থীসহ মোট ২৩ জন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এতে করে ফেনী এবং পশুরামে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

এ ছাড়া অন্য পৌরসভায় সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিচ্ছে। জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে দেখা যায়, বিভিন্ন পৌরসভায় কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। বাতিল প্রার্থীদের বেশিরভাগই বিএনপি মনোনীত ও তাদের বিকল্প প্রার্থী। তা ছাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তবে প্রথম দিনে আওয়ামী লীগের মনোনীত কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়নি।

এদিকে প্রথম দিনের বাছাইয়ে বিএনপি মনোনীত ৪ মেয়র প্রার্থীসহ প্রায় ২৩ জন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ ছাড়া প্রায় দুই শতাধিক কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথমদিনে চাঁদপুরের ছেঙ্গারচর পৌরসভায় আয়কর ও শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র দাখিল না করায় বিএনপি প্রার্থী সারওয়ারুল আবেদীন খোকনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার।

ফেনীর পরশুরাম পৌরসভায় মো. মোস্তাফিজুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এতে করে এই পৌরসভায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর বিপক্ষে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বর্তমান মেয়র নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সাজেল বিজয়ী হতে চলছেন।

ফেনীতে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ফজলুর রহমান বকুল হলফনামায় সাজাপ্রাপ্তির তথ্য গোপন ও পৌরসভার ইজারার টাকা পরিশোধ না করায় প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।

এ ছাড়া এই পৌরসভায় স্বতন্ত্রপ্রার্থী আতিকুল আলম মজুমদারের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৪৭টি মামলাসহ দুটিতে পরোয়ানা রয়েছে বলে জানানো হয়।

রাজশাহীর বাঘার আড়ানী পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ কলিন্সের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার শাহিনুল ইসলাম শাহিন নামে এক মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

ত্রিশাল পৌরসভায় মেয়র পদে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরা হলেন, আ. লীগের বিদ্রোহী মাহবুব আলম পারভেজ, জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী জহির আতাউর রহমান।

ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুল হাকিম বকুল ঋণখেলাপি এবং হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় মেয়র পদে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বিএনপি প্রার্থী মুহাম্মদ গোলাম রাব্বানী, জাতীয় পার্টির খোরশেদ আলম ও স্বতন্ত্র শাহাব উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

কুমিল্লার লাকসামে জাপা প্রার্থী মোখলেছুর রহমান ও স্বতন্ত্র গোলাম ফারুক এবং হোমনার স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল হক ও তার ভাবী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র হারুনের স্ত্রী খোদেজা বেগমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

বরগুনায় জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সার্জেন্ট (অব.) এম এ জলিল ও বেতাগী পৌরসভার বর্তমান মেয়র আলতাফ হোসেন বিশ্বাসের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

এদিকে টাঙ্গাইলের গোলাপপুর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের খবরে তার মৃত্যু হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ইসি ‘বিশেষ’ পরিকল্পনা করে বাছাই করছেন বলে অভিযোগ করছেন মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা। অনেকে নিজেদের ষড়যন্ত্রের স্বীকার বলে দাবি করছেন।

তা ছাড়া পৌর নির্বাচন প্রতিযোগিতাহীন নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপি মানোনীত প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রতিযোগিতা হবে না। এতে একদিকে নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ফলে আস্থা হারাচ্ছে নির্বাচন ব্যবস্থা।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিশেষজ্ঞ বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটির এমন ভূমিকার কারণে তাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠেনি।’

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ২৩৪ পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় শেষ হয়েছে। ওই দিনেই প্রায় অর্ধশত কাউন্সিলর বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার সকাল থেকে দেশের ২৩৪ পৌরসভায় মনোনয়নপত্র বাছাই শুরু হয়। আজ (রোববার) বাছাইয়ের কাজ চলবে, এরপরই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এর আগে ২৩৪টি পৌরসভায় প্রতিযোগিতার জন্য ১৩ হাজার ৬৮৯ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে মেয়র পদে ১ হাজার ২২৩ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯ হাজার ৭৯৮ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৬৬৮ জন।

উল্লেখ্য, প্রার্থিতা বাতিল হওয়া প্রার্থীরা প্রার্থিতা ফিরে পেতে আদালতে আপিল করতে পারবেন। তবে আপিলে তাদের প্রার্থিতা ফিরে না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিন আজ রোববার। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৩ ডিসেম্বর। ১৪ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। আর ২৩৪ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হবে ৩০ ডিসেম্বর।






মন্তব্য চালু নেই