মেইন ম্যেনু

বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে বিনোদনের নামে যা চলছে… (ভিডিও)

এই রাজধানীতে মানুষ কেবল ছুটছে। কেউ সোজা পথে আবার কেউ আঁকাবাঁকা পথে। একটা দিন অথবা একটা বেলার জন্য একটু থামুন। হয় বিশ্রাম নিন নয়তো ঘুরে আসুন রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো থেকে। পাঠক, চলুন আপনাদের অারেকবার রাজধানীর প্রচলিত বিনোদন কেন্দ্রগুলোর সাথে পরিচিত করা যাক।

এই কংক্রিটের শহরে নির্মল বিনোদনের জায়গা খুব একটা বেশি নেই। সেই কম জায়গার মধ‌্যে ঢাকা চিরিয়াখানা অন্যতম। এর পাশেই জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান যা বোটানিকাল গার্ডেন নামেই বেশি পরিচিত। ২০৮ একরের এই উদ্যানে ৯৫০ জাতের উদ্ভিত আছে। একসাথে এতো সবুজের সমারহো রাজধানীতে এই একটিই।

চিরিয়াখানা এব‌ং বোটানিকাল গার্ডেনের সীমানা ঘেষে মিরপুর-আশুলিয়ার বেড়িবাধ সড়ক। তুরাগ নদীর পাশ ঘেষে চলা এই রাস্তার দুপাশের দৃশ্য সহজেই মুগ্ধ করে মানুষকে। মানুষের বেড়ানো জায়গা হয়ে উঠেছে এটি। তাই পাশেই গড়ে উঠেছে পার্কসহ বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টগুলো তৈরি করা হয়েছে আকর্ষণীয় ভাবেই। কিন্তু একটু হাফ ছেড়ে বাঁচার জন্য এসব জায়গায় যারা বেড়াতে আসেন তাদের আবার ভিন্ন অভিজ্ঞতাও হয়।

এ ব্যাপারে এক ব্যক্তি জানান, একটা চিপস্ এবং পানির দাম ১০০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হয়। এবং টাকা না দিলে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। এখানে ভেতরের দিকে ছোট ছোট ঘর অাছে। সেগুলো এক ধরনের ফাঁদ। দেখা যায় অল্প বয়সি ছেলে-মেয়েরা না বুঝে অল্প টাকার বিনিময়ে সেখানে যাচ্ছে এবং অপ্রিতিকর অবস্থায় তাদের ধরতেছে বা ভিডিও করছে, এর বিনিময়ে তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এখানের সবগুলো রেস্টুরেন্টেই পানির উপর পাটাতন দিয়ে আলাদা আলাদা ঘরের মত কেবিন আছে। একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যায় সবগুলো কেবিন এক রকম নয়। কোন কোন কেবিনের চারপাশের ঘেরাও এতটা উঁচু যে ভেতরে কেউ আছে কিনা তা বাইরে থেকে দেখা যায় না।

তখন আমাদের কথা হয় ওই রেস্টুরেন্টের এক কর্মচারীর সাথে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় এই কেবিন গুলো ভিন্ন কেন? জবাবে সে জানায়, বৃষ্টি আসে আবার রোদের তাপের জন্য বসা যায় না। তাই এহগুলো এরকম ভাবে তৈরি করা হয়েছে।

ঘটনা আসলে কি ঘটে তা জানতে আমাদের ২জন লোক আলাদাভাবে ওই গাংচিল নামের রেস্টুরেন্টে যায়। সঠিক জায়গায় বসানোর জন্য ছুটে এলো একজন। উচু করে ঘেরাও করা একটা কেবিন দেখিয়ে দিল। তখন আমারা অন্য একটা কেবিন দেখিয়ে বলি ওইখানে বসি? তখন এক কর্মচারীর বললো ঐ দিকে বসতে পারবেন না, রিস্ক হয়ে যায়। পাঠক আপনাদের হয়তো বুঝিয়ে বলতে হবে না কিসের রিস্ক!

কিছুক্ষনের মধ্যে কথা ছাড়াই এক বোতল পানি এবং দুটি পানীয় চলে এলো। কিছুক্ষন পর বেরিয়ে আসতে চাইলে রেস্টুরেন্টের এক কর্মচারীটি এবার দুইটি চিকেন ফ্রাই প্যাকেট করে দিয়ে বলে বিল ৫১০ টাকা। তাকে আমরা বললাম না ভাইয়া এইগুলা লাগবে না। জবাবে সে বললো, না নিলেও বিল দিতে হবে!

বেড়িবাধ সড়কের বটতলা। নদীতে বেড়ানোর জন্য নৌকা পাওয়া যায় এখানে। নৌকাগুলোর চেহারা বদলে গেছে ইদানিং। কিছুদিন আগেও এখানকার নৌকাগুলোতে ছাউনি ছিল। নৌকার মাঝিরা যুগলদের নির্জনতার নিশ্চয়তা দিত। তারপর পকেট খালি করে নিত তাদের। মাঝিদের দাবি মেটাতে না পারলে বেড়াতে যাওয়া মানুষদের সাথে থাকা জিনিষপত্র রেখে দিত মাঝিরা।

এখনকার অবস্থান জানতে আমাদের টিমের কয়কজন একটা নৌকা ভাড়া করলো। দৃশ্য মনোমুগ্ধকর। নৌকার ছাউনি না থাকায় অনৈতিক সুবিধা দিয়ে অতিরিক্ত উপার্জনের উপায় কিছুটা কমেছে কিন্তু অস্বাভাবিক টাকা চাওয়ার স্বভাব বদলাইনি। আমাদের নৌকার মাঝি জানায় এক ঘন্টা ঘুরলে ৫০০ টাকা।

নৌকা এগিয়ে চলেছে। কাশবনের দিকে যেতে চাইলে রাজি হলো না মাঝি। কিন্তু কেন? মাঝি জানায়, ৩টা জোড়া ধরছে, ধরে নিয়ে গেছে। তারপর থেকেই বন্ধ।

কিছু মানুষ তাহলে ভিন্ন সুবিধা খুজতে যায় এসব জায়গায়। সেই ভিন্ন সুবিধা যারা দেয় এবং যারা নেয় দু’পক্ষই যদি লাভবান হয় তাহলে সেটা অন্যায় বা অপরাধ কিনা ভেবে দেখা যেতে পারে। কিন্তু যারা নিছক বিনোদনের জন্য যায় তাদের কাছে এসব ঘটনা চরম বিড়ম্বনা।

পাঠক এসকল বিভিন্ন বিড়ম্বনা নিয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের নিয়োমিত আয়োজন ‘তালাশ’টিম প্রচার করে অনুসন্ধান রিপোর্ট।

পাঠক চলুন বিনোদন বিড়ম্বনার এই রিপোর্ট টি ভিডিওতে দেখে নেওয়া যাক।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন…






মন্তব্য চালু নেই