মেইন ম্যেনু

বিমানভরা রহস্য!

বিমানের ভেতরে ও বাইরে সবটা মিলিয়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস থাকে যেগুলো ছাড়া একটা প্লেন কখনোই পরিপূর্ণতা পায় না। আর বর্তমান প্রযুক্তির উত্কর্ষের ফলাফলস্বরুপ সেই গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলোর কাতারে বেশ ভালোভাবে নিজের নাম ঢুকিয়েছে যেটি সেটি হচ্ছে ব্ল্যাক বক্স। তবে কেবল ব্ল্যাক বক্সই নয়, অ্যারোপ্লেন আর এর সাথে জড়িত সবধরনের ব্যাপারগুলো নিয়ে আজ অব্দি পৃথিবীর ইতিহাসে ঘটে যাওয়া সবচাইতে রহস্যময় আর অমীমাংসিত দূর্ঘটনাগুলোকে নিয়ে আজকে লেখা হল এই ফিচারে।

১. ইজিপ্ট এয়ার ফ্লাইট ৯৯০এর রহস্যময় দূর্ঘটনা
১৯৯৯ সালের ৩১ অক্টোবর। এর কিছুদিন আগেই ইজিপ্ট এয়ার ফ্লাইট ৯৯০এর সহকারী বৈমানিকের নামে অভিযোগ আসে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর ওপর যৌন নির্যাতন করার। বেশ আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয় ব্যাপারটি। অভিযুক্ত আল বাতৌতিকে প্লেন উড়তে শুরু করার আগেও প্রধান বৈমানিক হাতেম রুশদি মনে করিয়ে দেন যে এটাই তার শেষ ফ্লাইট! এর খানিক সময় পর প্লেনটি ঠিকঠাকভাবে আকাশে ওড়ে আর পরিস্থিতি অনুকূলে দেখে হাতেম যান বাথরুমে। আর তার খানিক পরেই প্লেনের ব্ল্যাক বক্সে শোনা যায় বাতৌতির কন্ঠ।
“ আমি আমাকে ঈশ্বরের হাতে সমর্পণ করছি “
এর খানিক পরেই সাগরে আছাড় খেয়ে দূর্ঘটনার কবলে পড়ে বিমানটি আর মারা যায় প্রায় ২১৭ জন মানুষ। ঠিক কি হয়েছিল? এটি কি আত্মহত্যা ছিল নাকি অন্যকিছু? উত্তর রয়ে গিয়েছে রহস্যে মোড়া।

২. অপয়া সংখ্যা ১৯১
আমেরিকার ইতিহাসে এখন অব্দি ঘটে যাওয়া বিমান দূর্ঘটনাগুলোর ভেতরে অন্যতম একটি ছিল ১৯৭৯ সালের ফ্লাইট ১৯১। উড্ডয়নের খানিকবাদেই দূর্ঘটনার কবলে পড়ে বিমানটি আর মারা যায় ২৫৮ জন যাত্রী ও ১৩ জন কর্মী। এ ঘটনার বেশকিছু আগের কথা। ১৯৬৭ সালে ফ্লাইট ১৯১ নামের আরেকটি বিমান দূর্ঘটনার কবলে পতিত হয় আর সেখানে মারা পড়ে বিমানটির পাইলট। এসব ঘটনার অনেক বছর পরের ইতিহাস। শেষবারের মতন ১৯১ সংখ্যাযুক্ত আরেকটি বিমান দূর্গটনার কবলে পড়ে ২০১২ সালে। বৈমানিকের পরিবর্তে তখন বিমানের দায়িত্ব নিয়ে নেয় যাত্রীরাই। পরপর তিনবার এমন ঘটনা ঘটার কারণেই কিনা কে জানে, বর্তমানে অনেক এয়ারলাইন্সই ১৯১ সংখ্যাটি ব্যবহার করতে চায়না!

৩. একেবারে হারিয়ে গেল যারা
রহস্যময় বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের নাম তো শুনেছেনই। যেখান থেকে ফিরে আসতে পারেনা কোন জাহাজ, মানুষ কিংবা বিমান। আর এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের কাছাকাছি যেতেই সেবার ১৯৪৫ সালের ৫ ডিসেম্বর আমেরিকার পাঁচটি নতুন বিমান বেশ অন্যরকম বার্তা পাঠায়। সাগরটা কেমন যেন অন্যরকম লাগছিল যাত্রীদের কাছে। অন্যরকম আর অদ্ভূত লাগছিল বিমানের গতিপ্রকৃতি আর চারপাশের পরিবেশও। কেন এমন লাগছিল? সেটার উত্তর অবশ্য আর জানা যায়নি কখনো। কারণ উপরের বার্তাটি পাঠাবার খানিক পরেই হঠাত্ করেই উধাও হয়ে যায় পরপর এই পাঁচটি বিমানই। ভীনগ্রহবাসী, ভূত-প্রেত কিংবা অন্যকিছু? রহস্য রয়ে গিয়েছে রহস্যই।

৪. এয়ার ফ্রান্স দূর্ঘটনা
অন্যান্য বিমানের চাইতে এই বিমানটির ব্যাপার একটু আলাদাই। হঠাত্ করেই কেন যেন বিমানটির বৈমানিক বিমানকে উপরের দিকে নিতে শুরু করেন। মূলত, বৈমানিক তখনো সেখানে ছিলেন না। দায়িত্ব ছিল সহকারীর হাতে। সহকারীর কন্ঠ সেসময় ব্ল্যাক বক্সে পাওয়া যায়- আমার নিয়ন্ত্রণ আছে! তবে কি নিয়ন্ত্রণ ছিল আর কেনইবা সে কিছু করেনি সেটা এখনো অব্দি জানা যায়নি। বাস্তবে বৈমানিক পৌঁছিয়ে যেটা দেখতে পান তাতে খুব সহজেই বোঝা যায় যে অবস্থা মোটেই নিয়ন্ত্রণে ছিলনা। ৩৮,০০০ ফিট উপরে নাক উঁচু করে থেমে থাকা বিমানটি সঙ্গত কারণেই খুব তাড়াতাড়িই মাটিতে পতিত হয়! এ দূর্ঘটনায় মারা যান কয়েকশ মানুষ।






মন্তব্য চালু নেই