মেইন ম্যেনু

বিমানের ২০৬ যাত্রীর সঙ্গে রাতভর ‘নাটক’

তখন রাত ১০টা ২৫ মিনিট। বিমান বাংলাদেশের দুবাইয়ের ফ্লাইটটি উড়াল দেওয়ার মুহূর্তে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। যাত্রীদের নেমে অপেক্ষা করতে বলা হয়। রাত ৩টা বাজে যখন, তখনো উড়োজাহাজটির ত্রুটি মেরামত করা সম্ভব হয়নি। যাত্রীরা কেউ রানওয়েতে পায়চারি করছে। কেউ বসে আছে। আর কেউ অপেক্ষার ক্লান্তিতে সঙ্গে থাকা ব্যাগকে বালিশ বানিয়ে শুয়ে পড়েছে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ক্ষুধার্ত যাত্রীদের ‘বিক্ষোভের মুখে’ খাবার সরবরাহ করা হয়। এরপর ভোর ৫টার দিকে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় হোটেলে।

শনিবার রাতভর চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাইয়ের ২০৬ জন যাত্রীর সঙ্গে এমন ‘নাটক’ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ। এ কারণে ত্যক্তবিরক্ত হয়ে অনেকেই নিজের বাসায় ফিরে যায়। শেষ পর্যন্ত গত রবিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় আরেকটি উড়োজাহাজ যাত্রীদের নিয়ে দুবাইয়ের উদ্দেশে বিমানবন্দর ছেড়ে যায়।

জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপক বজলুল কবীর সোলাইমানী গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর একটি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ত্রুটি সারিয়ে বিমানটি রবিবার পৌনে ৭টায় দুবাইয়ে যাওয়ার শিডিউল নির্ধারণ করা হয়েছে।’

তবে এ কর্মকর্তার জানানো সময়সূচি অনুযায়ীও বিমানের ফ্লাইটটি দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা হতে পারেনি। গতকাল সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ওই ফ্লাইটটি ছেড়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (ইমিগ্রেশন) আরেফিন জুয়েল।

তবে যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিমানের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘দুর্ভোগ বলতে আপনি (প্রতিবেদক) কী বোঝাতে চাইছেন, আমি বুঝতে পারছি না। একটি বিমান যখন অনগ্রাউন্ড হয়, তখন এটি পুনরায় উড়বে কি না, সে বিষয়ে ঘোষণা দেন প্রকৌশলীরা। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে প্রকৌশলীরা যে সময়টুকু প্রয়োজন, ততটুকুই সময় নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আপনাদের (প্রতিবেদক) এসব খবর কে দেয়? আমরা যাত্রীদের হোটেলে নিয়ে গেছি।’

এর আগে শনিবার রাত দেড়টার দিকে বিমানের যাত্রী সাখাওয়াত হোসেন মুন্না বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে ফোন করেন। তিনি বলেন, ‘রাত ১০টা ২৫ মিনিটে বিমানের দুবাই ফ্লাইটটি রানওয়েতে গিয়ে আটকে যায়। এরপর সব যাত্রীকে নেমে রানওয়েতে অপেক্ষা করতে বলা হয়। যাত্রীরা রানওয়েতে প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষায় ছিলেন। টানা সময় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্ত যাত্রীদের কেউ কেউ ব্যাগ মাথায় দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।’ মুন্না বলেন, ‘এ সময় যাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। শেষে যাত্রীদের নেওয়া হয় অপেক্ষমাণ কক্ষে। কিন্তু সেখানে অন্য সব দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে যাত্রীরা বলতে গেলে সেখানে আটকে পড়েন। এ সময় তাঁরা আরো উত্তোজিত হয়ে ওঠেন। এ ছাড়া রাত আড়াইটা পর্যন্ত খাবার না দেওয়ায় যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করায় শেষ পর্যন্ত রাত সাড়ে ৩টার দিকে খাবার দেওয়া হয়।’

মুন্নাসহ একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেন, রাতে বিমান কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেনি। শেষে ভোর ৫টায় একটি হোটেলে নেওয়া হয়। কিন্তু একটি মাত্র বাস দিয়ে যাত্রীদের হোটেলে নিতে গিয়ে সকাল হয়ে যায়। এ অবস্থায় অনেকেই বিমানবন্দরের লাউঞ্জে ঘুমিয়ে পড়ে। হোটেলেও সব যাত্রী কক্ষ পায়নি। সে কারণে চট্টগ্রামের অনেক যাত্রী বাসায় চলে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার রেজাউল কবির বলেন, ‘রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটির সংবাদ শুনে আমি এয়ারপোর্টে আসি। বিমানের প্রকৌশলীরা যখন নিশ্চিত হন, বিমানটি রাতের মধ্যে আকাশে উড়াল দেওয়ার সম্ভাবনা নেই, তখন রাতেই যাত্রীদের খাবার সরবরাহ করার জন্য আমি বিমান কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করি।’ তিনি আরো বলেন, ‘রাত ৩টায় যাত্রীদের মধ্যে খাবার বিতরণের পর তাঁদের হোটেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ।’

এর পরও কিছু যাত্রী বিমানবন্দরের লাউঞ্জে ঘুমিয়ে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘বিমান কর্তৃপক্ষের সব যাত্রীকে হোটেলে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা কেন সব যাত্রীকে নিয়ে যায়নি এবং যাত্রীরা কেন লাউঞ্জে অবস্থান করেছেন, সেটা বিমান কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে।’






মন্তব্য চালু নেই