মেইন ম্যেনু

বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর হচ্ছে

সরকারি বিশ্ববদ্যালয় ও কলেজে কর্মরত শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর করতে এ-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর ফলে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিয়ে যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল, তার অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ড. ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত পে-কমিশনের সুপারিশের পর সচিব কমিটির সুপারিশ নিয়ে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল ঘোষণা ও বৈষম্য দূরীকরণসহ চার দফা দাবি তুলে ধরে স্মারকলিপি দেন। এ ছাড়া বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উচ্চতর শিক্ষার জন্য বিদেশ গমন বৃত্তির দাবি জানান তারা।

শিক্ষক নেতারা বলেন, বেতনকাঠামো নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। দাবিগুলোর সঙ্গে শিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়টি জড়িত। সুতরাং এগুলো বাস্তবায়িত না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন শিক্ষকরা।

সে সময় অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী জ্ঞানের অভাবে আন্দোলন করছেন। তাদের কর্মবিরতির কোনো যুক্তি নেই। তারা জানেনই না যে নতুন বেতন কাঠামোতে তাদের জন্য কী আছে, কী নেই। আমার জানা নেই, কোথায় তাদের মর্যাদার হানি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ‘করাপ্ট প্র্যাকটিস’ নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার। শিক্ষিত লোকদের কাছ থেকে এটা আশা করা যায় না।

অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্য নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এবং তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। এরই এক পর্যায়ে অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে বেতন বৈষম্য দূরীকরণসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি দুটি বৈঠক করে। কমিটি এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করলে তিনি তা অনুমোদন দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর নতুন বেতন আদেশ জারি হওয়ার আগে বাস্তবায়ন অনুবিভাগ প্রজ্ঞাপনটি জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা তৃতীয় গ্রেডভুক্ত। পরে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে তৃতীয় গ্রেডভুক্ত অধ্যাপকরা টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পেয়ে গ্রেড ২ এবং গ্রেড ১-এ বেতন আহরণ করেন। তবে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে গ্রেড ১-এ বেতন আহরণযোগ্য অধ্যাপকের সংখ্যা গ্রেড ২-এ বেতন আহরণ করে এমন অধ্যাপকের সংখ্যার ২৫ শতাংশের বেশি হবে না। যেহেতু গ্রেড ২ ও গ্রেড ১-এ বেতন দেওয়ার বিষয়টির সঙ্গে সরকারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আর্থিক সংশ্লেষণ জড়িত সেহেতু গ্রেড ২ ও গ্রেড ১-এ বেতন আহরণের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি কমিটির পূর্বানুমোদন ক্রমে সংশ্লিষ্ট বিশ্বদ্যিালয় কর্তৃপক্ষ তা করতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত অধ্যাপকদের বিষয়ে বলা হয়েছে, ক্যাডারভুক্ত অধ্যাপকরা জাতীয় বেতন স্কেল ২০০৯-এর আওতায় চতুর্থ গ্রেডভুক্ত। তারা চতুর্থ গ্রেড থেকে তৃতীয় গ্রেডে (মোট আনুমানিক ৫০ শতাংশ) সিলেকশন গ্রেড পেয়ে থাকেন। সরকারি কলেজের অধ্যাপকদের গ্রেড ৩ দেওয়ার লক্ষ্যে চতুর্থ গ্রেড থেকে তৃতীয় গ্রেডের পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালকে এ-সংক্রান্ত নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই