মেইন ম্যেনু

‘বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীর ধন্যবাদ বাংলা একাডেমির প্রাপ্য’

‘বাংলা একাডেমি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব উচ্চাভিলাষী ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেছে, সেজন্য বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের ধন্যবাদ একাডেমির প্রাপ্য।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির হীরকজয়ন্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘হীরকজয়ন্তি স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান’-এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ কথা বলেন।

একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এ স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী নিজের কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, বাংলা একাডমি প্রতিষ্ঠার দিন ১৯৫৫ সালে ঢাকায় থাকা সত্ত্বেও আমি অনিবার্য কারণে অংশ নিতে পারিনি। কিন্তু আজ এসে সে দুঃখ ঘুঁচে গেছে।

বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন একাডেমির প্রাক্তন পরিচালক বিশিষ্ট লেখক ফরহাদ খান।

শামসুজ্জামান খান তার বক্তব্যে বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়ে প্রতিষ্ঠিত বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ এক অভিন্ন নাম। বাংলা একাডেমি ৬০ বছরে ঐতিহ্যের অনন্য বিস্তার ঘটিয়ে চলেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের সঙ্গে বিদেশি অতিথিদের সম্মিলন একাডেমির পরিসরকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরো বিস্তৃত করবে।’

স্মারক বক্তৃতায় ভারতের চেন্নাইয়ের বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ভি বি গণেশন বলেন, ‘তামিলনাড়ুর স্বামীনাথ আয়ার এবং বাংলার আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ঐতিহ্য-অনুসন্ধিৎসা আমাদের গভীর আগ্রহের বিষয়। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এই বক্তৃতানুষ্ঠান আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের নামাঙ্কিত মিলনায়তনেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির সভাপতি বিশিষ্ট নাট্যজন শাঁওলী মিত্র বলেন, ‘বাংলাদেশের বাংলা একাডেমি এবং পশ্চিমবঙ্গের বাংলা আকাদেমি যৌথভাবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণা করতে পারে।’

অপর বিশেষ অতিথি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, কলকাতা-এর সভাপতি বারিদবরণ ঘোষ বলেন, ‘বাংলাদেশের বাংলা একাডেমি সুদীর্ঘ ৬০ বছর যাবৎ বাংলা ভাষা নিয়ে আন্দোলন করে চলেছে। এজন্য অভিনন্দন একাডেমির প্রাপ্য। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদ নিয়ে গবেষণায় বাংলাদেশের বাংলা একাডেমির সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।’

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘বাংলা একাডেমি আমাদের প্রাণের প্রতিষ্ঠান। পাকিস্তানি অন্ধকার সময়ে আমরা এই একাডেমিতে সাংস্কৃতিক সংগ্রাম পরিচালনা করেছি। এখন একাডেমি ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে অসাধারণ সব কাজ করে চলেছে। বাংলা একাডেমির একুশের বইমেলা আজ বিশ্বের দীর্ঘতম বইমেলার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলা একাডেমির ৬০ বছর আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত আনন্দের মুহূর্ত।’

অনুষ্ঠানে নজরুল-পৌত্রী অনিন্দিতা কাজী নজরুলকে নিয়ে লেখা বঙ্গবন্ধুর একটি রচনার সংক্ষিপ্ত ভাষ্য পাঠ করে বাংলাদেশ ও নজরুলের অচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।

সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান এজন্য যে, বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার দিন আমি উপস্থিত ছিলাম এবং আজ হীরকজয়ন্তি উৎসবেও উপস্থিত আছি। বাংলা একাডেমির ৬০ বছরপূর্তি উৎসবে পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণাকারী দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের উপস্থিতি আমাদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরো প্রসারিত করবে বলে আমি আশা করি।’

পরে এক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা হয়। এ পর্বে সংগীত পরিবেশ করেন বিশিষ্ট শিল্পী অনিন্দিতা কাজী, শিল্পী রফিকুল আলম এবং শিল্পী অণিমা রায়।

অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির ইতিহাস ঐতিহ্য এবং সাম্প্রতিক কর্মতৎপরতা নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

এর আগে একাডেমির নভেরা প্রদর্শনী কক্ষে বাঙালি মনীষার দীপ্ত প্রতিকৃতি শীর্ষক ২৪ দিনব্যাপী প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ সময় উৎসব উপলক্ষে বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠাবার্ষিক বক্তৃতা গ্রন্থেরও মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

বাঙালি জাতিসত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের প্রতীক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি ৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর পূর্ণ করছে। গৌরব ও ঐতিহ্যের ছয় দশক পূর্তিতে একাডেমি দুই দিনব্যাপী হীরকজয়ন্তি উৎসবের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় একাডেমির মহাপরিচালকের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, পটুয়া কামরুল হাসান এবং ভাষাবিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সমাধিতে একাডেমির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়।

দুপুরে বাংলা একাডেমির পুকুরপাড়ে একাডেমির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন। কবিতা আবৃত্তি, সংগীত-নৃত্য-কৌতুক ইত্যাদিতে মুখর হয়ে ওঠে একাডেমির হীরকজয়ন্তি উৎসব।

বিকেল সাড়ে ৩টায় একাডেমির রবীন্দ্র-চত্বরে বাংলা একাডেমির সদস্য-ফেলো-কবি-লেখক-বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সংবর্ধনায় অংশ নেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সংস্কৃতি সচিব আক্তারী মমতাজ, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলতাফ হোসেন, সৈয়দ শামসুল হক, এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলামসহ বাংলাদেশ ও ভারতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

শুক্রবার দুই দিনব্যাপী হীরকজয়ন্তি উৎসব শেষ হচ্ছে। সমাপনী দিনে বিকেল ৪টায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে প্রবন্ধপাঠ ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান হবে। এতে সাতজন প্রাবন্ধিক বাংলা একাডেমি বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আক্তারী মমতাজ। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।






মন্তব্য চালু নেই