মেইন ম্যেনু

বিশ্বের শীর্ষ ৫০ ধনীর চারজন নারী- কেন?

বর্তমানে পৃথিবীর শীর্ষ ধনী ব্যাক্তিদের প্রথম পঞ্চাশজনের একটি তালিকা করলে তাতে দেখা যায় যে, অধিকাংশ কিংবা প্রায় পুরোটা অংশ জুড়েই রয়েছেন পুরুষ। আর বাকী ৮ শতাংশে অধিকার করে রয়েছেন নারীরা। তাও আবার উত্তরাধীকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তির কারণেই এমনটা সম্ভব হয়েছে তাদের পক্ষে। পঞ্চাশজন ধনী ব্যাক্তির ভেতরে মাত্র চারজন নারী আর বাকী সবাই-ই পুরুষ! হিসেবটা এমন কেন? প্রশ্নটা এসেই যায়। নারীরা কি উপার্জন আর সঞ্চয় করতে পারেননা? তাদের কি এই যোগ্যতা বা ইচ্ছে নেই? সম্প্রতি খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে এই প্রশ্নের উত্তরগুলো।

সার্বিকভাবে দেখতে গেলে বর্তমানে যেকোন কর্মক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অনেকটাই এগিয়ে এসেছে। ২০১৪ সালের এক পরিসংখ্যান অনুসারে বর্তমানে নারীরা ৪০ শতাংশ ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করছে এবং ৪৭০,০০০ মিলিয়ন আর্থিক উপাদান রাখছে কেবল এক বছরেই। কিন্তু তবুও এই নারীদের সামনে চলে আসে অনেকগুলো বাধা। আর সেগুলোর ভেতরে অন্যতম একটি হচ্ছে পুরুষ লগ্নিকারকের উপস্থিতি ( বিজনেস ইনসাইডার )।

কেবল পুরুষ লগ্নিকারদের কারণেই বছরের পর বছর প্রচন্ডভাবে ব্যবসায়িকক্ষেত্রে মার খাচ্ছে এরা। এছাড়াও নানারকম আর্থিক সাহায্যের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুরুষদের চাইতে কম লোন দিতে আগ্রহী হয় নারী ব্যবায়ীদের ক্ষেত্রে। ফলে বর্তমানে পৃথিবীতে ১৪৫ জন নারী বিলিয়নার থাকলেও পুরুষদের সংখ্যা তার চাইতে অনেক অনেকগুণ বেশি, প্রায় ১,২০২ জন ( সিএনএন )।

অবশ্য এ ব্যাপারটি নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে পাওয়া যায় দুটো চিন্তা-ভাবনার জগতকেও। এক জগতের বাসিন্দাদের কথানুসারে, নারীরা যথেষ্ট সুবিধা পাচ্ছেননা দেখেই এমনটা হচ্ছে। আর অন্যরা ভাবেন নারীরা কোটিপতি হতে পারছেনা তার একমাত্র কারণ এটা যে তারা এটা হতে চাইছে না বা সেটার উপযোগী নয়!

দ্বিতীয় জগতের মানুষগুলোর মতে, নারীরা যথেষ্ট পরিমাণ ঝুঁকি নেওয়ার মন-মানসিকতা রাখে না যেটা কিনা একজন পুরুষ রাখে। এছাড়াও আবেগীয় ব্যাপারগুলো সবময়ই পিছুটান হিসেবে আটকে রাখে নারীকে। আর সেটা সবসময়ই একজন পুরুষের চাইতে বেশি পরিমাণে। ফলে উপার্জনগত দিক দিয়ে খুব একটা ভালো ফলাফল করা সম্ভব হয়না তাদের পক্ষে।

শিক্ষার অভাবকেও অনেকে নারীদের কোটিপতি হওয়ার পথে বাধা বলে মনে করেন। বহু বছর ধরে পুরুষচালিত এই ব্যবস্থা বর্তমানে নারীদের অধিকারে খানিকটা চলে এলেও সেটা এখনো নিজের পুরোন অস্তিত্ব ভুলে যেতে পারেনি। কার্যক্রমগুলোও তাই রয়ে গিয়েছে অত্যাধিক পুরুষঘেঁষা ও নারীবিরোধী।

অন্য একটি পক্ষ অবশ্য এ দুটো জগতের মানুগুলোকে থামতে বলেন। তাদের মতে, নারী বা পুরুষ হিসেবে নয়, বরং একজন ব্যাক্তি হিসেবেই সবাইকে এই তালিকায় দেখা উচিত। কারণ সবারই যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ আছে বলেই সে ধনী। নারীদের জন্যে নতুন বলেই তাদের পরিমাণটা কম। কিন্তু পুরুষদের মতন দীর্ঘসময় কাজ চালিয়ে যেতে থাকলে আর সুবিধা পেলে একটা সময় তালিকায় আরো অনেক নারীই তাদের নাম প্রকাশ করবে বলে মনে করেন তারা।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই