মেইন ম্যেনু

বিশ্বের সবচেয়ে আত্মহত্যাপ্রবণ দেশগুলো

একজন মানুষ কোন পরিস্থিতিতে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়, কতটা অসহায় বোধ করলে সে আর বেঁচে থাকতে চায় না তা সেই মানুষটি ছাড়া আর কেউ জানে না। নিজের হাতে নিজের জীবন শেষ করার আগে কী ভাবে মানুষটি? সেটি হয়ত পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ভাবনা, অনুভূতি, পরিস্থিতি! ধর্মীয় অনুশাসনে বাঁধার চেষ্টা করা হয়েছে মানুষের এই প্রবণতাকে। বলা হয়েছে, আত্মহত্যা মহা পাপ। কিন্তু আবেগী মানুষ শোনে নি কোন কথা। অনেক সময় হয়ত আমরা ভেবেছি, এই সামান্য কারণে মারা গেল? কিন্তু যে চলে গেল, তাঁর কাছে সেটাই হয়ত বিশাল বোঝা ছিল, যা সে আর বইতে পারে নি।

এমন অনেক দেশ আছে যেখানে মানুষের মাঝে আত্মহত্যার প্রবণতা মাত্রাতিরিক্ত। অধিক আবেগপ্রবণ এই জাতিগুলোর কথা জেনে নেব আজ।

গায়ানা
গায়ানায় অগুণতি মানুষ আত্মহত্যা করে। সেখানে এতই বেশী সংখ্যার মানুষ এভাবে মারা যায় যে, বলা হয় পাখির মত মানুষ আত্মহত্যা করছে! শুনতে অদ্ভুত শোনালেও এটাই সত্যি। গায়ানায় বিশাল সংখ্যার মানুষ বিষন্নতায় ভোগে। ধর্ষণ, দারিদ্র, অশিক্ষা, বেকারত্ব, গৃহযুদ্ধ অনিরাময়যোগ্য রোগ-ব্যাধি সব মিলিয়ে এখানকার মানুষ খুবই হতাশায় ভোগে। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত একটি জাতি কোন সমাধান করতে না পেরে বারবার বেছে নেয় একই ভয়ংকর পথ। তবে গায়ানার মানুষের আত্মহত্যার জন্য সবচেয়ে বড় কারণ হল যাদুবিদ্যার চর্চা। কুশিক্ষার মাত্রা এখানে এতই বেশী যে, মানুষ যাদুবিদ্যার আশ্রয় নেয়, অদ্ভুত সব বিষয়ে বিশ্বাস করে, এমন সব কাজে জড়িয়ে পড়ে যা তার মানসিক জটিলতা আরও বাড়িয়ে দেয়। এভাবে এক সময় নিজের উপর সব নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এটা নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন কারণ এসব মানুষ অতিপ্রাকৃত বিষয় দ্বারা মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হতে থাকে।

জাপান
১২৬,৩৮৭,১৭১ জনসংখ্যার দেশ জাপানে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ আত্মহত্যা করে। গত এক বছরেই ২৫০০০ মানুষ আত্মহত্যা করেছে জাপানে যা কিনা যুক্তরাজ্যের ৩ বছরের আত্মহত্যার রেটের সমান। হতাশা এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা যথেষ্ট কারণ একজন জাপানি নারী বা পুরুষের কাছে আত্মহত্যা করার জন্য। মানসিকভাবে দূর্বল হয়ে একজন জাপানি নাগরিক নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু চাইলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিয়ে এই হতাশা থেকে বের হওয়া সম্ভব। কারণ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সব দেশেই আছে। ৭১ বছর বয়সি একজন জাপানি শুধু দীর্ঘায়ু থেকে বাঁচতেও আত্মহত্যা করেন।

উত্তর কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিবেশী দেশ উত্তর কোরিয়ার জনগন অতি মাত্রায় আবেগপ্রবণ। প্রতি বছর ১০,০০০ মানুষ নিজের হাতে তার মূল্যবান জীবন ধ্বংস করে দেয়। এখানেও কারণ হতাশা, মানিসিক চাপ এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা। এর সাথে যোগ হয়েছে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো। এখানে এমন ঘটনাও আছে যে, পুরো পরিবারের সবাই আত্মহত্যা করেছে সরকারের কঠোর অনুশাসনের ভয়ে।

দক্ষিণ কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষ অনেক বুদ্ধিমান, শিক্ষিত এবং সফল। কিন্তু এই উচ্চ সামাজিক অবস্থাই তাদের আত্মহত্যার পেছনের মূল কারণ। একজন দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক তার ব্যবসায়ের হার বা পিছিয়ে পড়া মেনে নিতে পারেন না কোনক্রমেই। সফলতার জন্য লড়াই করার পরিবর্তে তিনি বরং আত্মহত্যার পথ বেছে নেন! দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যার তুলনায় এই মৃত্যহার অনেক বেশী। আত্মহনন কোন হাসির বিষয় নয়, একটি জীবন ছেলেখেলা নয়। কিন্তু চরম ভুল সিদ্ধান্তটি নেওয়ার আগে সে কথা ভুলে যায় মানুষ!

শ্রীলংকা
ছবির মত সুন্দর দেশ শ্রীলংকা। কিন্তু এখানেও প্রতি বছর ৪০০০ জন এবং গড়ে প্রতিদিনে ১১ জন নিজের হাতে তার জীবন শেষ করে দেয়। এদেশের জনগণের মূল সমস্যা ঋণ। ঋণগ্রস্থ একজন শ্রীলংকান যখন আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু বান্ধবের থেকে সাহায্য পায় না তখন লজ্জাজনক সামাজিক অবস্থা থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে সে বেছে নেয় আত্মহননের পথ। পুরো পরিবারকে আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে ফেলে বিদায় নেয় সে। সেই বিপর্যস্ত পরিবারও কখনো কখনো তার পথই বেছে নেয়। ঘুরে ফিরে মূল কারণ সেই আর্থিক সংকট। এশিয়ার অঞ্চলগুলোতে দেশে দেশে এই সঙ্কটের পেছনে আছে অশিক্ষা, বেকারত্ব, কাজের অদক্ষতা।

লিথুয়ানিয়া
সমাজতন্ত্র পরবর্তী দরিদ্র দেশ লিথুয়ানিয়ায় আত্মহত্যা প্রবণতা মারাত্মক। অতিরিক্ত মাদক সেবন করেন তারা। এতই বেশি যে শরীরের ধারণ ক্ষমতাকে হারিয়ে তা হয় তাদের মৃত্যুর কারণ। মানসিকভাবে তারা এটা নিয়ে চিন্তিতও নয়। যেন খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। মাদকের ভয়ানক ছোবলে তারা নিজেরদের নিয়ে যায় মৃত্যুর দ্বারে। দারিদ্র, দূর্দশা থেকে জন্ম নেওয়া হতাশা থেকে বাঁচতে নেশাকেই তারা করে নিয়েছে বন্ধু।






মন্তব্য চালু নেই