মেইন ম্যেনু

বিশ্বের ৭টি অদ্ভুত ও বৈচিত্র্যপূর্ণ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার কথা

মানুষের মৃত্যু সব সময়ই একটা দুঃখজনক ঘটনা। কিন্তু মৃতদেহের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সবার কাছে শোকাবহ অনুষ্ঠান নয়। দেশ-জাতি-সংস্কৃতিভেদে বৈচিত্র্যপূর্ণ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার কথা জেনে নিন। এগুলো বেশ অদ্ভুত এবং বিদঘুটে মনে হতে পারে।

১. দক্ষিণ কোরিয়ায় মৃতের বেড : ২০০০ সালের এক আইনে বলা হয়, ওই সময়ের পর থেকে যাদের কবরস্থ করা হবে তাদের কবর ৬০ বছর পর তুলে ফেলতে হবে। এই আইনের কারণেই শবদাহ দেশটিতে জনপ্রিয় পদ্ধতি হয়ে ওঠে। প্রিয়জনের কবর কেউ তুলে ফেলতে চান না। তাই শব পুড়িয়ে তার ছাই পাত্রে রেখে দেন তারা।

২. ফিলিপিনের ঝুলন্ত কফিন : উত্তর ফিলিপিনের আইগোরোট গোত্রে মৃতদের কফিরে পুরে তা ঝুলিয়ে রাখা হয়। এ কফিনগুলো কোনো পাহাড়ের গায়ে সেঁটে দেওয়া হয়। কফিন যত ওপরে ওঠানো যাবে মৃত তত বেশি পূর্বপুরুষের পবিত্র আত্মার কাছাকাছি যাবেন।

৩. তিব্বতীয়দের আকাশে কবরস্থকরণ : ভাজরাইয়ানা বুদ্ধদের বিশ্বাস, মৃত্যুর মাধ্যমে দেহ একটি খালি পিপায় পরিণত হয়। এর আত্মা বের হয়ে আসে। তাই তারা মৃতদেহকে কোনো পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে যান এবং সেখানে ক্ষুধার্ত শকুন তা খেয়ে ফেলে। এর মাধ্যমে আত্মার শেষকৃত্য সাধন করা হয়।

৪. সবুজ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া : আমেরিকার বহু বিশেষজ্ঞের মতে, গতানুগতিক পদ্ধতিতে কবরস্থ করা হয়ে মাটি বিষাক্ত উপাদানে দূষিত হয়। এর বিকল্পব্যবস্থা হিসেবে অনেকে বলেন, মাটিতে একটা সাধারণ গর্ত খুঁড়ে মৃতদেহকে সেখানে রাখতে হবে। এতে পৃথিবীর কক্ষপথের সঙ্গে সামাঞ্জস্য সৃষ্টি হবে। অথবা কংক্রিটের সঙ্গে পরিবেশবান্ধব উপাদান মিশিয়ে দেহকে মুড়ে দিয়ে তা সমুদ্রে ফেলে দিতে হবে।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া2

৫. ইন্দোনেশিয়ার বালিনিজদের সৎকার : বালি দ্বীপের অধিবাসীদের বিশ্বাস, মৃতদেহের আত্মা তারই পরিবার-পরিজনের অন্য কারো দেহে বাস করে। তাই আত্মাকে বিশেষ উপায়ে মুক্ত করতে হয়। এ জন্যে কাঠের তৈরি একটি ষাঁড়ের মধ্যে মৃতের কফির রাখা হয়। তারপর তা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এতে আত্মা মুক্তি পায় এবং অন্য দেহে প্রবেশ করে বলে মনে করেন তারা।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া3

৬. মাদাগাস্কারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া : এর নাম ‘ফামাদিহানা’। মাদাগাস্কারের এক বৈচিত্র্যপূর্ণ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। তারা মৃতদেহকে পরিষ্কার কাপড়ে মুড়ে পূর্বপুরুষের কবরস্থানে কবরস্থ করেন। পরে মাঝে মধ্যেই তারা কবর খুঁড়ে মৃতের হাড়গোড় বের করেন। একে নিয়ে বিশেষ গানের সঙ্গে নাচেন তারা। এতে গোটা পরিবার আবারো এক হয় বলে বিশ্বাস তাদের।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া4

৭. ঘানার কফিন : ঘানার গ্রেটার আকরা অঞ্চলে মৃতদের বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত কফিনে রাখা হয়। এ কফিনের কারুকার্যে ফুটে ওঠে মৃতের কর্ম, স্বপ্ন এবং অন্যান্য বিষয়। বড় ব্যবসায়ীর জন্যে বানানো হয় মার্সিটিজ বেঞ্জ গাড়ি বা বিমানের মতো কফিন। মাছ তৈরি করা হয় জেলেদের জন্যে। কিংবা মুরগির আদলে কফিন তৈরি হয় মায়েদের জন্যে।

সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার






মন্তব্য চালু নেই