মেইন ম্যেনু

বিষণ্ণতা যেভাবে নষ্ট করছে আপনার সুন্দর সম্পর্কগুলোকে

আমরা আমাদের চারপাশে ভালবাসা, বন্ধুত্বের অসংখ্য বন্ধন নিয়ে বেঁচে থাকি। এই বন্ধনগুলো ছাড়া একজন মানুষের সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন চিন্তা করা যায় না। কিন্তু হঠাৎ করে কি আপনার এই সুন্দর সম্পর্কগুলো দূরে সরে যাচ্ছে? আপনি কি ধীরে ধীরে একা হয়ে যাচ্ছেন? হাৎ বাড়ালেই যে বন্ধুদের কাছে পেতেন তারা কি আর সেভাবে সাড়া দিচ্ছে না? কারণ হতে পারে আপনার ভেতরের হতাশা, বিষণ্ণতা।

গবেষণায় দেখা গেছে দীর্ঘদিন যাবত হতাশা, মন খারাপ মানুষকে তাদের সম্পর্কগুলো থেকে দূরে নিয়ে যায়। আপনার মনের অবস্থার সাথে জড়িত আপনি আপনার বন্ধুত্ব বা পারিবারিক সম্পর্কগুলো কতটা বজায় রাখছেন বা তাল মিলিয়ে চলতে পারছেন। কীভাবে বুঝবেন মন মেজাজ সম্পর্কগুলোকে প্রভাবিত করছে কিনা? আসুন জেনে নিই গবেষণা কি বলে।

খেয়াল করুন

আড্ডায় বন্ধুরা বা অফিসে কলিগরা কি আপনাকে ভিন্ন কোন নামে ডাকতে শুরু করেছে? তারা কি মাঝে মাঝেই অভিযোগ করছে যে আপনি অহংকারি, ভাবুক বা এধরণের কিছু? মনোযোগ দিন, খেয়াল করুন তারা কি ভাবছে। তাদের এইসব ভাবনার কারণ লুকিয়ে আছে আপনার আচরণে। মনে করে দেখুন, গত অফিস পার্টিতেই হয়ত জীবনের হতাশা, দুঃখের গল্প করে আপনি পার্টির আনন্দটাই নষ্ট করে দিয়েছিলেন। অথবা বার বার বলার পরও বন্ধুদের সাথে ট্যুরে তো যানই নি, বরং কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন ব্যার্থতা, গ্লানির ইতিহাস। দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক মনোভাবের কারণেই আপনি দূরের হয়ে যেচ্ছেন সবার।

দোষারোপ করা

আপনার কাছের মানুষের ছোটখাট ভুলেও কি আপনি বিরক্ত হয়ে যাচ্ছেন? বা দোষারোপ করে যাচ্ছেন বারবার? ওয়ার্টলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী উজমা রেহমান এবং তার টীম এর মতে, যেসব মানুষের মাঝে বিষণ্ণতা ব্যাধি রয়েছে তারা সম্পর্কের ক্ষেত্রেও খুবই পীড়াদায়ক হয়ে ওঠে। তারা ভাবতে থাকে, বিবাহিত সম্পর্কে তারা সুখী নয়। ছোট ছোট সমস্যা নিয়ে তারা ভীষণ হতাশ বোধ করে এবং সঙ্গীকে ক্রমাগত দোষারোপ করতে থাকে। সঙ্গীর কাছেও এক সময় হতাশাগ্রস্থ মানুষটিকে বুঝতে পারা কঠিন হয়ে পড়ে এবং সম্পর্কটি বোঝা মনে হতে থাকে।

Depressogenic দূর্বলতা

হতাশা মানুষের মনস্তত্ত্বকে নেতিবাচক করে দেয়। হতাশাগ্রস্থ মানুষ নিজের চারপাশের সবকিছুতেই ভুল দেখতে পায় এবং তার এই প্রবণতা সে অন্যদের উপর আরোপ করে। ডা. রেহমান এই প্রবণতাকে ডিপ্রেসজনিক দূর্বলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। বিষণ্ণতার এই পর্যায়ে মানুষ সবার সাথেই সম্পর্ক খারাপ করে ফেলে। নিজের দৃষ্টিভঙ্গির ভুল সে দেখতে পায় না। সে মনে করতে থাকে তার সব নেতিবাচক ধারণাই সঠিক। তার নিজের জীবন যেমন ভুল পথে গেছে, অন্যরাও তাদের জীবনকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে। খায়াল করে দেখুন, এমন কোন নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আরোপ করছেন না তো প্রিয়জনের উপর?

উদ্বিগ্নতা-

ডা. রেহমান এবং তার টিম মনে করেন, উদ্বিগ্নতা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে হতাশা এবং সম্পর্কের দ্বন্দের মাঝে। যেহেতু হতাশা এবং সম্পর্কের সন্তুষ্টি পরস্পর সম্পর্কিত তেমনি উদ্বেগ এবং আত্মগ্লানিও ঘনিষ্ঠ। হতাশা যখন সম্পর্ককে দূর্বল করে দেয় তখন সন্দেহপ্রবণতা দেখা দেয়, আপনি অল্পতেই উদ্বেগ অনুভব করতে থাকেন, মনগড়া গল্পের সাথে মিলিয়ে নেন ঘটনাকে। যা সম্পর্ককে এর সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে আপনার অজান্তেই।

ডা. রেহমান এবং তার টীম ৪৮ টি যুগলের উপর হতাশা এবং উদ্বিগ্নতার সম্পর্ক পরীক্ষা করেন। প্রথমবার পরীক্ষায় তারা দেখেন, স্বল্প মাত্রার বিষণ্ণতা (একজন সঙ্গীর মধ্যে) সম্পর্কের সন্তুষ্টির উপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু অতিরিক্ত উদ্বিগ্নতা তৈরি করে না। কিন্তু ৬ মাস বা ১ বছর পর ২য় পরীক্ষায় তারা নাটকীয় পরিবর্তন দেখতে পান। এবার দেখা যায়, উদ্বিগ্নতা তাদের সম্পর্কে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছে এবং সন্দেহের মাত্রা বেড়ে গিয়ে প্রকৃতপক্ষেই নিকৃষ্ট অবস্থায় নিয়ে গেছে তাদের সন্তুষ্টিকে।

আপনার দৈনন্দিন আচরণের সাথে মিলিয়ে নিন বিষয়গুলো। খেয়াল করুন, কোনভাগে সম্পর্কগুলো বোঝা হয়ে যাচ্ছে না তো? আপনি যদি অতিমাত্রায় বিষণ্ণতায় ভোগেন তাহলে দ্রুতই মনোরোগ বিশেষজ্ঞের স্মরনাপন্ন হোন। বিষণ্ণতা, হতাশা একটি মাত্রার পর মানসিক রোগে রূপ নেয়। এর চিকিৎসা প্রয়োজন।






মন্তব্য চালু নেই