মেইন ম্যেনু

বিষমুক্ত শাক-সবজি চাষ শুরু হয়েছে সাতক্ষীরা জেলায়

শাক-সবজি ফল-মূলের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বিষের ব্যবহার জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, সাথে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রানের জন্য সাতক্ষীরা জেলা বিষমুক্ত সবজি ও ফল উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরা ব্লক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা করেছে। সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আই পি এম) কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন প্রকল্প সহ অন্যান্য প্রকল্পের প্রশিক্ষণে নিরাাপদ খাদ্য উৎপাদন বিষয়টি সর্বোাচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। অন্যদিকে ২০ সেশন ব্যাপী কৃষক মাঠ স্কুলের মাধ্যমে নিরাপদ বেগুন, উচ্ছে,পটল ও আম উৎপাদনে উপর কৃষক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কৃষক পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলার এবার ১৬২৫০ হেক্টর জমিতে সবজি উৎপাদন হয়েছে।এ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের ফেরোমন ফাঁদ, কম্পোষ্ট ও ভার্মিকম্পোষ্ট ব্যবহার শুরু হয়েছে যা জৈবিক কৃষি চর্চায় এ জেলাতে নয়াদিগন্তের সূচনা করেছে।

নিরাপদ সবজি উৎপাদনের জন্য দলভিত্তিক সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিচালনার ফলে জেলায় বিভিন্ন প্রকল্পের কৃষকগণ তাদের খামারে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা জেলায় ২৭ হেক্টর জমি নিরাপদ সবজি উৎপাদনের আওতায় আনা হয়েছে।

সদর উপজেলায় শিবপুর ইউনিয়নের নেবাখালী গ্রামের কৃষক মোঃ শহীদুজ্জামান বাণিজ্যিক ভার্মিকম্পোষ্ট প্লান্ট স্থাপন করেছেন যা থেকে উক্ত এলাকার কৃষক সার নিয়ে নিরাপদ ও সুস্বাদু সবজি উৎপাদন করছেন। এ উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামে কৃষকেরা সবজি চাষে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছেন। যেখানে এখন ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারে মাধ্যমে সবজি উৎপাদিত হয়। অন্যান্য উপজেলাও জৈব কৃষি চর্চায় ক্রমান্বয়ে এগিয়ে আসছে।

শাক সবজি চাষে পোকামাকড় ও রোগবাালাই প্রধান বাধা। বিভিন্ন রোগ ও পোকামাকড়ের হাত থেকে সবজি ফসলেকে রক্ষার জন্য সবজি চাষিরা তাই প্রথমেই সাধারণত বিষাক্ত বালাইনাশক প্রয়োগ করে থাকেন। কিছু এমন কোনো বালাইনাশক নেই, যা মানব দেহের জন্য কম বেশি বিষাক্ত নয়। এ দেশের সাধারণত মাত্রাহীন পরিমানে বালাইনাশক ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে সবচেয়ে বেশী মাত্রায় বালাইনাশক ব্যবহৃত হচেছ শাক-সবজিতে । এ অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য কৃষি বিভাগ সমন্বিত কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

অচিরেই জেলার সবকটি উপজেলার চাষীদের বিষমুক্ত শাকসব্জি চাষের জন্য ব্যাপক ভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এবং ব্যাপকভাবে বিষমুক্ত শাকসবজি চাষ করে বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকারের নেয়া পদক্ষেপ টি দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। জেলার সকল চাষীদেরকে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসার জন্য জেলা কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই