মেইন ম্যেনু

বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী ১০ শিশু

পৃথিবীতে নানা সময়ে এসেছে এমন কিছু মানুষ যাদেরকে জন্মের লগ্ন থেকেই সৌভ্যাগ্যের সবটা উজার করে দিয়েছেন সৃষ্টিকর্তা। এই অবাক করা সৌভাগ্যকে কাজে লাগিয়েই অল্প বয়সেই তারা হয়ে উঠেছেন সকলের কাছে এক আশ্চর্যের বিষয়।

কথাগুলো শুনতে খানিকটা অন্যরকম মনে হলেও বাস্তবে এমন অনেক শিশু জন্ম নিয়েছে যুগে যুগে। তারা দিনকে দিন পৃথিবীর বুকে সেই ক্ষমতাগুলোর প্রদর্শনের মাধ্যমে খুব ছোটবেলাতেই হয়ে উঠেছে প্রচুর খ্যাতির অধিকারী। এমন দশ অসামান্য ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী শিশুদের নিয়েই আমাদের আজকের এই আয়োজন।

১. প্রিয়ানশি সোমানি

মেয়েটির বয়স তখন মাত্র ছয় বছর। সে বয়সে যখন আমরা দুই একে দুই বা তিন দুগুনে ছয় নামতা গুনে হাপিয়ে গেছি, প্রিয়ানশি সোমানি নামের মেয়েটা তখন ভালোবেসে ফেলেছিল গণিতকে। শুধু তাই নয়, এসময় মানসিক সমীকরণ করাও শুরু করে প্রিয়ানশি। মাত্র ১১ বছর বয়সে সে অংশ নেয় মানসিক সমীকরণ বিশ্বকাপের পঞ্চম আয়োজনে। তাও সবচাইতে ছোট প্রতিযোগী হিসেবে। খুব একটা পাত্তা দেয়নি প্রথমটায় কেউ তাকে। তবে সে বছরের বিশ্বকাপ যখন জয় করে বাড়িতে নিয়ে যায় প্রিয়নশি। তখন অন্যরা নতুন করে নড়েচড়ে বসেন তার বিষয়ে জানতে। তার সাফল্য দেখে সবাই তো অবাক। যোগ, বিয়োগ, বর্গ, গুন- সবকিছুতে শতভাগ দক্ষতা দেখিয়ে প্রথমবারের মতন এত কম আয়সে আর শতভাগ ঠিক উত্তর দিয়ে কাপটি জিতে নেয় প্রিয়নশি। ২০১০ সালে পোগো অ্যামেজিং কিডজ অ্যাওয়ার্ডও জেতে সে। বর্তমানে লিমকা বিশ্বরেকর্ডের বইয়ে লেখা রয়েছে গণিতে রেকর্ড সৃষ্টি করা প্রিয়নশি সোমানির নাম।

২. এলাইনা স্মিথ

স্পষ্টবাদী হিসেবে বেশ সুনাম ছিল সাত বছরের মেয়ে এলাইনার। তবে সেটা যে এভাবে তার ক্ষমতার একটি অংশ হয়ে উঠবে কেউই ভাবতে পারেনি প্রথমে। হঠাৎ করেই রেডিওর এক অনুষ্ঠানে যোগাযোগ করে আরেক শ্রোতাকে নিজের মতন করে পরামর্শ দেয় ছোট্ট মেয়েটি। সেই পরামর্শ শুনে শোয়ের প্রযোজক এতটাই অবাক ও অভিভূত হয়ে পড়েন যে সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটিকে নিজের শোতে আমন্ত্রণ জানান। এর পর মাত্র সাত বছর বয়সে তার চাইতে বয়সে অনেক বড় মানুষদের নানারকম জটিল সমস্যার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার চাকরি নেয় এলাইনা।

৩. মাইকেল কেভিন কার্নেই

একটি শিশু জন্মের ঠিক কত বছর পরে কথা বলতে শুরু করে? নিশ্চয়ই একটা স্বাভাবিক আন্দাজ আছে আপনার এ ব্যাপারে। কিন্তু ছেলে মাইকেলের কথা শুনতে খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি তার বাবা-মাকে। ১৯৮৪ সালে জন্ম হয় মাইকেলের। আর এর পরে মাত্র ৪ মাস বয়সেই কথা বলা শিখে ফেলে মাইকেল। দশ মাস বয়সে পড়তে শুরু করে বই। এভাবে খুব দ্রুত এগিয়ে যাওয়াটাকে মাইকেলের করা রেকর্ড ভাবছেন? হ্যাঁ! অবশ্যই। এটা তো রেকর্ডই। এত কম বয়সে কেইবা কথা বলতে পারে? তবে এর চাইতেও বড় বিষ্ময় তৈরি করে রেকর্ড সৃষ্টি করে শিশুটি। মাত্র ১০ বছর বয়সে স্নাতক পাস দেয় সে। এরপর মাত্র ১৭ বছর বয়সে শিক্ষতা পেশায় যোগদান করে সে স্বনামধন্য একটি কলেজে। যা একটি অন্যন রেকর্ডও বটে। শুধু তাই নয়, কোটিপতি হবার এক অনুষ্ঠানে নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে কোটি টাকার মালিকও হয় এই শিশুটি।

৪. গ্রেগরী আর স্মিথ

১৯৯০ সালে যখন জন্ম নেয় শিশুটি তখন পর্যন্ত কেউ বোঝেনি ঠিক কতটা অবিশ্বাস্য তার প্রতিভা। মাত্র ১৪ মাস বয়সে একের পর এক বই মুখস্ত করতে শুরু করে গ্রেগরী। সবচাইতে কম বয়সি হিসেবে ভর্তি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সবচাইতে কম বয়সে স্নাতকোত্তর লাভ করে এই ছেলেটি। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে সে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ শুরু করে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নিতে থাকে নতুন করে। আর সবাইকে চমকে দিয়ে নিজের এই কাজের জন্যেই মাত্র ১২ বছর বয়সে নোবেল জয় করে গ্রেগরী।

৫. কিম উং ইয়াং

কোরিয়ান এই শিশুটি ১৯৬২ সালে জন্ম নেয়। এর পর খুব বেশি সময় নেয়নি কিম পড়াশোনা শুরু করতে। মাত্র ৪ বছর বয়সে কোরিয়ান, ইংরেজী, জাপানিজ ও জার্মান ভাষায় দক্ষ হয়ে ওঠে সে। তিন বছর বয়সে অতিথি ছাত্র হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে শুরু করে কিম। সেটা শেষ হয় ৬ বছরে গিয়ে। ৭ বছরে নাসা থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয় কিমকে। গণিত, ক্যালকুলাসের বহু জটিল সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় কিমের কাছে। ১৫ বছর বয়সে দুটি বিষয়ে পিএইচডি করে অবশেষে পড়াশোনা ছাড়েন কিম। তার আইকিউ লেভেল ২১০। যেটা কিনা পৃথিবীর আর অন্য যেকোনো মানুষের তুলনায় প্রচন্ড বেশি।

৬. আকৃত জাসওয়াল

১৪৬ আইকিউ লেভেলের অধিকারী ভারতের সবচাইতে মেধাবী ছেলেটি সবার নজরে আসে ২০০০ সালেঅ তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৭ বছর। এই বয়সে নিজ থেকেই একটা সফল অপারেশন করে ফেলে সে। ঔষধ ও চিকিৎসাবিদ্যায় বেশ নাম করে আকৃত খুব ছোটবেলাতেই। সেটা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় একটা সময় যে মাত্র ১২ বছর বয়সেই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি করে নেয় তাকে। বর্তমানে একই সঙ্গে চিকিৎসাবিদ্যার চর্চা আর ক্যান্সারের প্রতিষেধক তৈরি- দুটো বিষয় নিয়ে বেশ ব্যস্ত আছে আকৃত। মনে করা হয় ক্যান্সারের প্রতিষেধক তৈরির খুব কাছাকাছি আছে সে।

৭. আরফা করিম

পাকিস্তানের এই শিশু বিষ্ময়কে আবিষ্কার করেন বিল গেটস। মাত্র ৯ বছর বয়সে কম্পিউটার ও সফটওয়্যারের বিষয়ে প্রচন্ড দক্ষ। তার প্রতিভাকে বিবেচনা করে বিশ্বখ্যাত টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট এই শিশুকে সবচাইতে কম বয়সি মাইক্রোসফট সার্টিফাইড প্রফেশনাল বা এমসিপি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। প্রযুক্তিগত নানা স্থানে নিজের দেশকে উপস্থাপনা করে আরফা। নিজের দক্ষতার কারণে প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ডও লাভ করেছে সে। পাকিস্তানে তার নাম অনুাসারে একটি বিজ্ঞান পার্কের নামকরণ করা হয় দ্যা আরফা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক। বিল গেটস তাকে মাইক্রোসফটের অফিসে আমন্ত্রণ জানান। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে মাত্র ১৬ বছর বয়সে ২০১২ সালের ১৪ জানুয়ারী মারা যায় আরফা।

৮. ক্লিওপেট্রা স্ট্রাটান

২০০২ সালে জন্ম হয় ক্লিওপেট্রার। তবে ক্লিওপেট্রার মতন সৌন্দর্যের দিক দিয়ে না হলেও নিজের কণ্ঠের সৌন্দর্যে সবাইকে মাতিয়ে তোলে এই ছোট্ট মেয়েটি খুব দ্রুতই। মাত্র তিন বছর বয়সে গান গেয়ে ১০০০ ইউরো উপার্জন করতে শুরু করে সে। তাও আবার কেবল একটি মাত্র গানেই। ক্লিওপেট্রার প্রথম অ্যালবাম লা ভার্সটা ডে ট্রেই আনি দারুণ সফল হয় দেশ ও বিদেশে। সবচাইতে কমবয়সি গায়ক হিসেবে নাম কুড়ায় সে। এছাড়াও টানা ২ ঘণ্টা মঞ্চে গান করার রেকর্ডটাও তার দখলে। কিছুদিন আগে সবচাইতে কমবয়সি গায়ক হিসেবে এমটিভি অ্যাওয়ার্ড জেতে ক্লিওপেট্রা।

৯. এলিটা আন্দ্রে

নয় মাস বয়সে একটা শিশু কি করে? আর সবাই যেটাই করুক না কেন, এলিটা বসে পড়েছিল রং-তুলি আর কাগজ নিয়ে। ছবি আঁকতে শুরু করে সে সেই সময় থেকেই। দিনকে দিন নিজের ছবির মাধ্যমে পুরো পৃথিবীর কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে সে। কেবল অষ্ট্রেলিয়াতেই নয়, পুরো পৃথিবীতে মাত্র ২ বছর বয়সেই নাম ছড়িয়ে পড়ে তার। ২০১১ সালে নিউ ইয়র্কের এক বিখ্যাত গ্যালারিতে একক চিত্র প্রদর্শনী হয় এলিটার চিত্রকর্মের। তখন অবশ্য একটু বড় হয়েছে এলিটা। চার বছর বয়স পূর্ণ হয়েছে তখন তার।

১০. সাউল আরোন ক্রিপকে

১৯৪০ সালে নেব্রাসকার ওমাহাতে জন্ম হয় ক্রিপকের। আর জন্মের পর থেকেই প্রাচীন সব বিদ্যার ওপর নজর দেয় শিশু ক্রিপকে। হিব্রু ভাষা, শেক্সপিয়ার থেকে শুরু করে গণিতের অলিগলি ঘুরে আসে ক্রিপকে মাত্র ৯ বছর বয়সে। যুক্তির এক নতুন দুয়ার খুলে দেয় সে। অবশেষে ১৭ বছর বয়সে হার্ভার্ডে যোগ দেয় ক্রিপকে। তবে সেই সঙ্গে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের যুক্তিবিদ্যার একটি কোর্স নেওয়া শুরু করে সে।






মন্তব্য চালু নেই